Advertisement
E-Paper

গৌতমের বিরুদ্ধে কমিশনের দ্বারস্থ বাম

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবের বিরুদ্ধে মহানন্দা নদীর চর লাগোয়া এলাকায় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বামেরা। শনিবার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিপিএমের পক্ষ থেকে ভোটারদের উচ্ছেদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে কমিশনে চিঠি গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৬ ০৩:০৪

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবের বিরুদ্ধে মহানন্দা নদীর চর লাগোয়া এলাকায় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বামেরা। শনিবার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিপিএমের পক্ষ থেকে ভোটারদের উচ্ছেদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে কমিশনে চিঠি গিয়েছে। পাশাপাশি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দেওয়াল লিখন নিয়ে কমিশনে অভিযোগ করার প্রস্তুতি কংগ্রেসও নিচ্ছে বলে দলের নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুই দলের নেতাদের অভিযোগ, মন্ত্রী গৌতমবাবু মহানন্দা নদী লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। তাঁদের ভোট না দিলে পুলিশ-প্রশাসন দিয়ে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন। যা পুরোপুরি নিবার্চনী বিধিভঙ্গের সামিল।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা শিলিগুড়ির বাম প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘ভোটের হাওয়া মন্ত্রী পুরোমাত্রায় টের পেয়ে গিয়েছেন। তাই হয়তো ভয়ে মানুষকে উল্টো ভয় দেখানো শুরু করেছেন। তবে তা করে আর লাভ হবে না। মানুষ ওঁদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে গিয়েছে।’’ আবার দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার বলেছেন, ‘‘মহানন্দা নদী লাগোয়া এলাকাগুলি বেশিরভাগই বামেদের দখলে। গরিব মানুষের কথা আমরা ভাবি দেখেই মানুষ আমাদের সমর্থন করে। পুরসভার ফল তাই বলছে।’’ পুরভোটে ওই ওয়ার্ডগুলিতে বাম প্রার্থীরা হাজার হাজার ভোটে জিতেছেন। জীবেশবাবু জানান, বিধানসভায় পরিস্থিতি একই থাকবে বুঝতে পেরে মন্ত্রী এ সব শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘কমিশনকে আমরা ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’’

বামেদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী গৌতমবাবু। তাঁর কথায়, ‘‘প্রচার গিয়ে ভোটাদের ভয় দেখাব, এটা হয় না কি? আসলে ওঁদের পায়ের তলায় মাটি সরে যাচ্ছে দেখে মিথ্যা, ভিত্তীহীন অভিযোগ করে বাজার গরম করতে চাইছেন।’’ গৌতমবাবু জানান, পুরভোটে জিতে বামেরা শহরের কী করেছে, তা মানুষ দেখছেন। সেখানে আমরা কী কাজ করেছি, তা-ও রয়েছে। ভোটে তার বিচার হবে। তাতে হুমকি, ভয় দেখানোর বিষয়ই নেই। সিপিএম এক সময় এ সবই করত।’’

শিলিগুড়ি শহরের বুক এবং ধার ঘেঁষে রয়েছে মহানন্দা নদী। এই নদীকে ঘিরে শহর এমন ভাবে রয়েছে যে এখনও অবধি চারটি মহানন্দা সেতু ডান-বাম দুই সরকারকে তৈরি করতে হয়েছে। আরও একটির কাজ হচ্ছে। তবে একেবারে নদী লাগোয়া ১, ২, ৩, ৪, ৫, ১০, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬ নম্বরের ওয়ার্ডগুলি সিপিএম এবং বাম শরিকদের দখলে রয়েছে। তেমনই লাগোয়া ৭, ৬, ২৫, ৩১ নদীর কাছাকাছি ওয়ার্ডগুলিও বাম-কংগ্রেসের দখলে। গত পুরভোটে এলাকাগুলি তৃণমূল ভাল ফল করতে পারেনি। বাম নেতাদের দাবি, এ বার শিলিগুড়ি এবং ডাবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা ওয়ার্ডগুলিতে তৃণমূলের সংগঠন থাকলেও জোটের সংগঠন এ বার অনেক বেশি শক্তিশালী। ভোটের বাক্সে যার প্রতিফলন হবেই। তা টের পেয়েই মন্ত্রীর নেতৃত্বে ভয়, ভীতির রাজনীতি শুরু করা হয়েছে।

সিপিএমের জীবেশবাবুর অভিযোগ, ক’দিন আগেই মন্ত্রী গৌতমবাবু ৪২, ৪৩, ৪৪ মতো ওয়ার্ডগুলির ভানুনগর, পরেশনগরে প্রচারে যান। সেখানকার বাসিন্দাদের তিনি খোলাখুলি তৃণমূলকে ভোট না দিয়ে উচ্ছেদ করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। জলপাইগুড়ির জেলার নিবার্চনী আধিকারিক-সহ নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এ দিন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী শঙ্কর মালাকার বলেন, ‘‘জনগণের জোট দেখে মন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারা ভয় পেয়ে গিয়েছেন। কোথাও জোটের প্রার্থীদের দেওয়াল দখল করা হচ্ছে। কোথাও দেওয়াল লিখনে গোবর ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পতাকা খোলা হচ্ছে। কমিশনে সব
জানানো হবে।’’

Goutam deb tmc assembly election 2016
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy