নামেই ছিল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। আসলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের প্রথম একাদশ কেমন হবে, তা দেখে নেওয়ার একটা মঞ্চ ছিল বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সূর্যকুমার যাদবেরা। ভারত ম্যাচ জিতল ৩০ রানে। গোটা ম্যাচেই ইতিবাচক দিক থাকল অনেক। তবে থেকে গেল কিছু চিন্তাও। বিশ্বকাপের শুরুতে যা কাটিয়ে উঠতে চাইবেন সূর্যকুমারেরা।
এ দিন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যাটার এবং বোলারদের খেলানো হল। প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে অবদান রাখলেন। বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপে ভারতকে সমঝে চলতে হবে প্রতিটি দলকেই। তিলক বর্মা যেমন দলে ফিরে নজর কাড়লেন, তেমনই ওপেনার হিসাবে সসম্মানে পাশ করলেন ঈশান কিশনও। ফলে শনিবার আমেরিকার বিরুদ্ধে তৈরি হয়েই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নামবে ভারত।
গত বারের বিশ্বকাপে যাদের হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ভারত, তাদের বিরুদ্ধেই প্রস্তুতি ম্যাচে নেমেছিল বুধবার। গত বছরের শেষ দিকে এই দক্ষিণ আফ্রিকাকেই ৩-১ ফলে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে হারিয়েছিল ভারত। বাকি দেশগুলি যেখানে কমজোরি দলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে, সেখানে ভারত বেছে নিয়েছিল একজন কঠিন প্রতিপক্ষকেই। স্বাভাবিক ভাবেই, প্রস্তুতিও ভালই হল। ব্যাটিং, বোলিং— সব বিভাগেই ভারত নজর কেড়েছে। তবে পাওয়ার প্লে-তে বোলিংয়ের দিকে আরও নজর দিতে হবে। একই ভাবে, মাঝের ওভারগুলিতে আরও উইকেট তোলার চেষ্টা করতে হবে।
প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ১৫ জন ক্রিকেটারই খেলতে পারেন। ভারত এ দিন অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করাল ঈশানকে। নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ে পাঁচটি ম্যাচেই ব্যর্থ হওয়া সঞ্জু স্যামসনকে নামানোই হল না। গৌতম গম্ভীরেরা বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপ ভাবনায় আপাতত সঞ্জু নেই। তাঁকে রিজ়ার্ভ বেঞ্চেই গা গরম করতে হবে।
ঈশান-অভিষেকের জুটি প্রথম ম্যাচেই হিট। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই দু’জনে ধুমধাড়াক্কা খেলে তুলে দিলেন ৮০ রান। ২টি চার এবং ৭টি ছয় মেরে ২০ বলে ৫৩ রান করে অবসৃত আউট হন ঈশান। অভিষেক একটু ধীরে খেলছিলেন। তিনি ১৮ বলে ২৪ করে অবসৃত আউট হন। উদ্দেশ্য ছিল দলে ফেরা তিলককে সুযোগ দেওয়া।
তিলক দু’দিন আগেই ভারত ‘এ’ দলের হয়ে নজর কেড়েছিলেন। এ দিন ৩টি চার এবং ৩টি ছয় মেরে ১৯ বলে ৪৩ রান করে মার্কো জানসেনের বলে আউট হলেন। বুঝিয়ে দিলেন, ফর্মেই রয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম চার স্থান নিয়ে আর সংশয় থাকার কথা নয়। চারে নামা সূর্যকুমার ১৬ বলে ৩০ রান করলেন।
পাঁচে নেমেছিলেন অক্ষর পটেল। তিনি ২৩ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থেকে গেলেন। ছয়ে নেমে রিঙ্কু সিংহ করলেন ১৬। ২টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে হার্দিক পাণ্ড্যের অবদান ১০ বলে ৩০। অন্য সময় হলে হয়তো হার্দিককে পাঁচে নামানো হত। প্রস্তুতি ম্যাচ বলে পরীক্ষা করে নিলেন সূর্যকুমারেরা। ২০ ওভারে ২৪০/৬ তোলে ভারত।
জবাবে প্রথম ওভারেই জর্জ লিন্ডেকে তুলে নিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন অর্শদীপ সিংহ। তবে এডেন মার্করাম (১৯ বলে অবসৃত আউট ৩৮) এবং রায়ান রিকেলটন (২১ বলে ৪৪) ভারতীয় বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দিলেন। পেসার থেকে স্পিনার, কেউই এই দুই ক্রিকেটারের থেকে ছাড় পেলেন না।
এই দুই ক্রিকেটার ফিরতেই ম্যাচ ঘুরে গেল ভারতের দিকে। মার্করাম আর একটু পরে অবসৃত হলে প্রোটিয়াদের ম্যাচটা জিতিয়েও দিতে পারতেন। তবে সুযোগ করে দিলেন সতীর্থদের। ভরসার দাম রাখতে পারলেন না ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২), ডেভিড মিলারেরা (১৩)।
তবু দক্ষিণ আফ্রিকার রান ২০০ পেরিয়ে গেল তিন ব্যাটারের সৌজন্যে। তাঁরা হলেন জেসন স্মিথ (৩৫), ট্রিস্টান স্টাবস (অপরাজিত ৩৮) এবং মার্কো জানসেন (৩১)। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ়েই নিজের ব্যাটিং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন জানসেন। তাঁর ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক হলে বিপক্ষের কপালে দুঃখ থাকে। এ দিন ভারতের আর ২০ রান কম হলে ম্যাচ বার করে দিতে পারত দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরও পড়ুন:
এ দিন ন’জন বোলারকে ব্যবহার করেছেন সূর্যকুমার। তাঁর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, দু’টি উইকেট নিয়ে চমকে দিয়েছেন অভিষেক। তিন ওভারে হজম করেছেন ৩২ রান। পুরো চার ওভার বল করেছেন একজনই, অর্শদীপ। ২৯ রানে নিয়েছেন একটি উইকেট। হর্ষিত রানা মাত্র এক ওভার বল করে ১৬ রান হজম করেছেন। বিশ্বকাপে তাঁকে নিয়ে চিন্তা থাকছে। তেমনই শিবম দুবে ৩.৪ ওভার বল করে ৫০ রান হজম করেছেন।