মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
‘‘এখনকার লোকাল পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখলে মাথা নত করে দিচ্ছে, কেন করছে জানি না। ওদের ব্যাপার। এরা এখন আমাদের হাতে নেই। ওরা ভাবছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। ঠিক আছে, তা-ই করুক। আর কত দিন? দুই বা তিন সপ্তাহ। তার পরে কোথায় যাবেন? আমি যদি মানুষের ভাষা বুঝে থাকি, আমরা আছি, থাকব।’’
‘‘আর একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসার যা করেছেন, সিঙ্গুরের দখল করা জমির সবচেয়ে বড় হোতা। তিনি ভার্চুয়াল বৈঠক করে বলছেন, তৃণমূলকে গ্রেফতার করতে হবে। গাড়িতে গাঁজা ঢুকিয়ে দাও। আইটি রেড করো। ইডি, সিবিআই রেড করো। নির্বাচনের সময়ে গণতান্ত্রিক ভাবে লড়তে পারেন না?’’
‘‘৩২ লক্ষ মানুষের নাম তুলে দিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টে কেস করে। আজ নয় কাল সকলের নাম উঠবে। আমি লড়াই শুরু করলে ছাড়ি না। বিজেপি-র হিম্মত নেই আমার বিরুদ্ধে লড়ার। তাই ২ লক্ষ পুলিশ পাঠাচ্ছে। পর্যবেক্ষক কারা? মন্ত্রীদের আত্মীয় এবং বিজেপি পরিবার থেকে। এক জন পর্যবেক্ষক নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করেছিলেন। তাঁকে সরিয়ে দেন। ওরা তো নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবে। কেন করছে?’’
‘‘ইভিএম মেশিনের ভাল করে যত্ন নেবেন, গণনাযন্ত্রের যত্ন নেবেন। খারাপ ইভিএমে ভোট করাতে দেবেন না। ভিভিপ্যাট ছাড়া ভোট হবে না। নির্বাচনে যাঁরা ডিউটি করবেন, তাঁদের যেন টাকা দিয়ে কিনতে না পারে। চা, জলের সঙ্গে কিছু যেন মিশিয়ে দিতে না পারে। তখন আপনি যোদ্ধা। বীরের মতো লড়াই করতে হবে।’’
‘‘এসআইআরের লাইন, নোটবন্দির লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আধার কার্ড নিতে হাজার টাকা দিয়েছেন। এ বার বিজেপি-কে বেলাইন করার খেলা। দুরন্ত ভাবে খেলতে হবে।’’
‘‘বিজেপি, এত ঔদ্ধত্য ভাল নয়। ওদের একটা ভোটও দেবেন না। বিজেপির টাকায় নির্দল হয়। ওদের ভোট দেবেন না। এটা অসম রাজনৈতিক লড়াই। ভোটে সম লড়াই হবে। কারণ, মা-বোনেরা সহযোদ্ধা।’’
‘‘আগে বারুইপুরে আসতাম, রেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকতে হত। এখন ফ্লাইওভার হয়ে গেছে। এখানকার সকলে আমায় পেয়ারা পাঠায়। ওদের পেয়ারা জিআই ট্যাগ পেয়েছে। জয়নগরের মোয়া জিআই ট্যাগ পেয়েছে। ওরা (নেতারা) আমায় পেয়ারা দেয়, আমি ভাগ করে খাই।’’
‘‘একমাত্র বাংলায় পেনশন রয়েছে। কোনও জায়গায় নেই। বয়োজ্যেষ্ঠদের চিকিৎসার জন্য ২৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়াও স্বাস্থ্য প্রকল্প রয়েছে। আগামী দিনে, যদি মনে করেন, বিনা পয়সায় খাদ্য, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান চান, তৃণমূলকে ভোট দিন।’’
‘‘পুরোহিত, মোয়াজ্জেম ভাতা দিই। লক্ষ্মীর ভান্ডার আমাদের সরকার আজীবন চালাবে। কারও কাছে ভিক্ষা নেবেন না। যুবসাথী প্রকল্পে কিছু জন বাকি আছেন, আবেদন করবেন, হয়ে যাবে। চাকরি করে দেব। দুয়ারে স্বাস্থ্য করব। ক্ষুদ্র চাষিদের বিদ্যুতের বিল সেচের জন্য মাফ করা হয়েছে।’’
‘‘আমার ১০৫টি প্রকল্প রয়েছে। কেন্দ্র টাকা বন্ধ করেছে। তাও বাড়ি করে দিয়েছি। পানীয় জল সকলের বাড়িতে পৌঁছে যাবে। ২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়েছে। ৪ শতাংশ দেওয়া হবে যা বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে।’’
‘‘আমার নামে বললেও শুনবেন না। আগের বার যা বলেছিলাম, করেছি। লক্ষ্মীর ভান্ডার করেছি। একটা হাঁস মেরে কি এক দিন খাবেন, না সারা জীবন? মোদীবাবু সোনার হাঁসের গল্প শোনাচ্ছেন। ২ কোটি চাকরি দেবেন বলেছিলেন, ১২ বছরে ২৪ কোটি লোকের চাকরি হয়। একটাও দিয়েছেন? আমরা শুধু বাংলায় ২ কোটি লোকের চাকরি দিয়েছি। অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে। রাস্তা, কর্মসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, সাইকেল দেওয়া, মিড-ডে মিল, বাচ্চাদের স্কুলে জামা, কাপড়, জুতো।’’
‘‘নীতীশ কুমারকে দেখলেন তো? ভোটের সময় কাজে লাগাল, তার পরে তাড়িয়ে দিল? এখন বলছে দেব ৩০০০। ভুলেও ফর্ম ভরবেন না। আপনার নাম ঠিকানা নিচ্ছে। এর পরে অ্যাকাউন্টের সব টাকা নিয়ে নেবে। এরা সব প্রতারক।’’
‘‘কাল প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আর নয়। মাইনরিটি সরকার। দুটো পার্টিকে দিয়ে-থুয়ে চালাচ্ছে।’’
‘‘আইএএস, আইপিএসদের সম্মান রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে দখল করার পরিকল্পনা ভেস্তে দেব। কাল থেকে দিল্লিতে মোদীজির পতন শুরু হয়েছে। বাংলায় হবে দ্বিতীয় পতন। বাংলা দিয়ে দিল্লি দখল হবে।’’
‘‘অনাচার করছেন। বাংলার সব লোক বদল করেছেন। মুখ্যসচিব থেকে থানার ওসি পর্যন্ত বদলে দিয়েছেন। লাভ কী? সরকার তৃণমূলই গড়বে, যতই ভোট কাটা হোক। বিজেপি পরিবার দেখে পাঠিয়েছেন, যাঁরা নির্বাচন করাবেন তাঁদের। তাঁরা ডিএমদের ধমকাচ্ছেন। বিডিওদের চমকাচ্ছেন।’’
‘‘মহিলা বিল আলাদা করে অনেক দিন পড়ে রয়েছে। আলাদা করুন। তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল কেন? শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা?’’
‘‘মোদী সাহেবের পতন কাল দিল্লি থেকে শুরু হয়েছে। এটা মহিলা বিল নয়। মহিলা বিলের জন্য আমি ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করেছি। গদি মিডিয়াকে দিয়ে মিথ্যা বলাচ্ছে। এই বিলের মধ্যে নিয়ে এসেছিল, দেশকে, বাংলাকে ভাগ করার কথা। সব রাজ্যকে ভাগ করার কথা। ৮৫০টা কেন্দ্র করার জন্য ছিল গেম। মেঘের আড়াল। নির্বাচন থাকা সত্ত্বেও ২১ জন সাংসদকে পাঠাই। কারণ, ওটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, বঙ্গ ভাগ করতে দেব না। মোদী সরকার হেরে গেছে। মহিলা দেখাচ্ছেন! ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ দিয়েছি পঞ্চায়েত, পুরসভায়। লোকসভায় নির্বাচিত সদস্য ৩৭ শতাংশ। রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ, যেটা দল মনোনীত করে। মোদীজি কানমলা খাওয়া উচিত। আপনারা মেয়েদের সমর্থন করেন না।’’
‘‘সময় কম, দৌড়োচ্ছি। একমাস ধরে সভা করছি। বলবার অনেক থাকলেও সময় কম। কারণ, আজও অনেকগুলি কর্মসূচি রয়েছে। যে দিন প্রথম যাদবপুরের সাংসদ হই, আপনারা আশীর্বাদ করেছিলেন। আমি কৃতজ্ঞ।’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy