বুধবার বেশি রাতের দিকে পুলিশের গাড়িতে করে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের। —নিজস্ব চিত্র।
বুধবার বেশি রাতের দিকে সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে উদ্ধার করে নিয়ে যান পুলিশকর্মীরা। পুলিশের কনভয়ে করে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে গাড়িতে ‘হামলার’ চেষ্টা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনাস্থলের একটি গাড়ির ভিতরের দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির সিটে কাচ ভেঙে পড়ে রয়েছে।
কালিয়াচকের ঘটনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এত ক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে আছে। সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁদের আর আসতে দেওয়া হচ্ছে না। এই সমস্ত বিষয়টি প্রমাণ করছে— তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁকে দেখাদেখি তৃণমূলের অন্য নেতৃত্বও এসআইআর নিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন। সেই উস্কানিমূলক কথাবার্তার ফলই আমরা দেখতে পাচ্ছি।”
এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “কালিয়াচকে এসআইআর, নাম বাদ ইত্যাদি নিয়ে বিচারকদের ঘেরাও, আইনশৃঙ্খলা হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা (দেখা যাচ্ছে) কিছু মানুষের। আমরা তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, এই ঘটনার গোটা দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। পাশাপাশি আমরা এটাও বলতে চাই, তৃণমূল কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও চেষ্টাকে সমর্থন করে না। আমরা আইনের মধ্যে থেকে কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে সর্বশক্তিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তারা বিজেপির মদতপুষ্ট দুই একটি দল। তারা এই ধরনের বিশৃঙ্কল আচরণ করছে।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের মধ্যে অনেকের কাছে বৈথ নথিপত্র থাকার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। সেই অভিযোগ তুলেই জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ, পথ অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। মোথাবাড়ি এবং সুজাপুর এলাকায় সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসীদের একাংশ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, বুধবার সকাল ১১টা থেকে অবরোধ বিক্ষোভ শুরু হয়। এবং তা গভীর রাত পর্যন্ত চলছে।
আনুমানিক বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করা হয়েছিল। রাত ১২টার পর ঘেরাওমুক্ত হন সেখানে আটকে থাকা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। প্রায় আট ঘণ্টা পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বিক্ষোভস্থল থেকে নিয়ে যায়।
দীর্ঘ ক্ষণ বিডিও অফিসে আটকে থাকার পরে ঘেরাওমুক্ত হলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা।
মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয় একই বিষয়কে কেন্দ্র করে। জায়গায় জায়গায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরই মধ্যে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসের বাইরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই ব্লক অফিসে তখন এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিন মহিলাও রয়েছেন। জানা যাচ্ছে, ঘেরাও এবং বিক্ষোভের জেরে ওই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরাও আটকে পড়েন ব্লক অফিসে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy