রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় সওয়াল করতে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছিলেন খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীর পোশাক পরে আইনজীবী হিসাবেই তিনি সওয়াল করেছেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে। অভিযোগ, গত ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পর থেকে রাজ্যে দু’হাজারেরও বেশি হিংসার ঘটনা ঘটে গিয়েছে। তৃণমূলের বহু দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে হিংসার হাত থেকে রাজ্যবাসীকে বাঁচানোর অনুরোধ করেছেন মমতা। ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং অশান্তির অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন। সেই মামলাতেই বৃহস্পতিবার সওয়াল করেন মমতা। তিনি ছাড়াও সওয়ালকারী আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন কল্যাণ এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
সওয়ালের পর হাই কোর্ট থেকে বেরোনোর মুখে মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীদের একাংশ। ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীরা এলাকা ঘিরে কোনওরকমে সেখান থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বার করেন। বেরোনোর সময় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। ভোটের ফলঘোষণার পর এই প্রথম তিনি কালীঘাটের বাড়ি ছেড়ে বেরোলেন। তাঁর সওয়ালের পর ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় হাই কোর্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশকে বলা হয়েছে, কঠোর ভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনও নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাড়ি বা দোকান থেকে তাড়ানো হলে তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের বাইরে বিক্ষোভ সত্ত্বেও আদালতের এই নির্দেশে আপাত ভাবে ‘জয়’ দেখছে তৃণমূল। যদিও দলীয় কর্মীরা এতে কতটা উজ্জীবিত হবেন, মমতার সওয়াল দলের নিচুতলায় মানসিক ভাবে কতটা শক্তি জোগাবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে দলের অন্দরেই।
মমতার সওয়াল
আদালতে গিয়ে মমতা বলেন, “প্রথম বার কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করছি। ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে আমার নাম নথিভুক্ত হয়। তার পর থেকে সদস্যপদ রিনিউ করেছি।’’ হিংসার অভিযোগগুলির দিকে বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মমতা। বলেন, ‘‘ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতি দিন এই সব অভিযোগ আসছে। ঘর-বাড়ি লুট করা হচ্ছে, আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না।’’ আদালতের অনুমতি পেলে এই অভিযোগগুলি অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করতে চান বলে জানান মমতা। প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনও বুলডোজ়ার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, দয়া করে রাজ্যবাসীকে বাঁচান।” হাই কোর্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাঁর দলের প্রচুর কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তৃণমূলের প্রায় ১৬০টি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় দু’হাজার অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। আইনজীবীর বেশে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। নিজের এলাকার উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে গিয়ে তিনি কোনও অভিযোগ করতে পারছেন না। অনলাইনে অভিযোগ করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের পাল্টা যুক্তি
রাজ্য সরকারের তরফে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় সওয়াল করেন আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, এই সমস্ত অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। এজলাসে ধীরজ বলেন, “নির্দিষ্ট করে তথ্য দিয়ে বলা হচ্ছে না কোথায়, কী ঘটেছে। রাজ্যের পুলিশ সতর্ক এবং সক্রিয় রয়েছে। বলা হচ্ছে, রাজ্য জুড়ে ২০০০-এর বেশি অভিযোগ এসেছে। এই সব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। কে কখন অভিযোগ করেছেন, বিস্তারিত কিছুই বলা হচ্ছে না।” রাজ্যের আইনজীবীর আরও সওয়াল, “২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী অশান্তি খুঁজতে পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ বসেছিল। এখানে আগে আদালত খুঁজে তো দেখুক, আদৌ ভোট-পরবর্তী অশান্তির ঘটনা কি না। এখনই অন্তর্বতী নির্দেশ কেন দেবে আদালত!”
চোর-চোর স্লোগান
সকাল ১১টার কিছু আগে হাই কোর্ট চত্বরে গিয়েছিলেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী যে মামলা লড়তে গিয়েছেন, সে কথা প্রত্যাশিত ভাবেই তত ক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছিল হাই কোর্টের আইনজীবী মহলে। লবিতে ভিড়ও জমেছিল আইনজীবীদের। শুনানি পর্ব শেষে এজলাস থেকে বেরিয়েই হাই কোর্টের লবিতে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের একাংশের সামনে পড়ে যান মমতা। হঠাৎ করেই পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন আইনজীবীদের একাংশ। ভিড়ের মধ্যে থেকে ভেসে আসে কুকথাও। বিক্ষোভের মাঝেই আদালত চত্বর ছাড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। যেতে যেতে আইনজীবীদের একাংশের দিকে হাত দেখিয়ে বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।” হাই কোর্ট চত্বরের এই পরিস্থিতির নিন্দায় সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “যাঁরা এত দিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়াতেন, তাঁরা আজ কী বলবেন? রাজ্যের তিন বারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আদালতের দরজায় গিয়েছেন। সেখানে যদি এই ঘটনা ঘটে, তা হলে বিজেপি রাজ্যে কী ধরনের গণতন্ত্রের চাষ করতে চাইছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।” তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণের মন্তব্য, ‘‘হাই কোর্টে আমাদের নিরাপত্তার হাল যদি এই হয়, তবে সারা রাজ্যে কী হচ্ছে!’’
কী কী নির্দেশ
মমতার সওয়ালের পর প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, কঠোর ভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনও নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাড়ি বা দোকান থেকে তাড়ানো হলে তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ সপ্তাহ পরে ওই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই সময়ের মধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা দিতে হবে জানিয়ে বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের মন্তব্য, ‘‘হলফনামা দেখে আদালত ঠিক করবে এই মামলাটি পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে যাবে কি না।’’ হাই কোর্টের নির্দেশের পরে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘বিজেপি আক্রমণ করছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে। তার বিরুদ্ধে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আইনজীবী হিসাবে কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছেন এবং মহামান্য হাই কোর্টও এই বিষয়ে একমত হয়েছে।’’ রাজ্যের আইনজীবীকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। বলা হয়েছে, উভয়পক্ষের হলফনামা এবং আবেদন জমা পড়ার পর স্থির হবে, মামলাটি পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হবে কি না। এ ছাড়া, বুলডোজ়ারের সক্রিয়তা এবং অবৈধ ভাঙচুরের বিষয়টিতে আলোকপাত করার জন্য অতিরিক্ত হলফনামা দিতে চেয়েছেন কল্যাণ।
আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া
হাই কোর্টে গিয়ে আইনজীবী হিসাবে মমতার সওয়ালের পর এ রাজ্যের বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)। ‘আইনজীবী’ মমতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছে তারা। বিসিআই জানতে চেয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম কবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। মমতার ‘লিগ্যাল প্র্যাকটিস স্টেটাস’ অর্থাৎ, আইনি পেশা সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চেয়েছে দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ঠিক কবে আইনজীবী হিসাবে মমতার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, পেশা স্থগিত এবং পুনরায় শুরু তথা মমতার আইনি পেশার শংসাপত্র দেখতে চেয়েছে তারা। আগামী দু’দিনের মধ্যে ওই সমস্ত তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এর আগে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করেননি সে বার। তার আগে অবশ্য রাজ্যে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় আইনজীবী হিসাবে লড়েছেন মমতা।
কী বলল তৃণমূল
হাই কোর্ট চত্বরের বাইরে মমতার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তৃণমূল। সঙ্গে লেখা হয়, ‘‘আরও এক বার তিনি দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনি বাকিদের চেয়ে আলাদা। দরকারের সময়ে কখনও তিনি পশ্চিমবাংলার মানুষকে একা ছেড়ে দেন না। সত্য, ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের জন্য লড়াই তিনি থামান না। অতুলনীয় সাহস এবং প্রত্যয়কে সঙ্গী করে তিনি বারংবার ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’’ তৃণমূল সমাজমাধ্যমে আরও লিখেছে, ‘‘তিনি প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছেন যে, আজকের দিনে ভারতে তাঁর মতো আর কোনও নেতা নেই।’’ বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলকর্মীরা মুষড়ে পড়েছেন। তার মধ্যে দলনেত্রীর আদালতে সওয়াল এবং সেই প্রেক্ষিতে পুলিশকে আদালতের নির্দেশে প্রাথমিক ভাবে ‘জয়’ দেখছে তৃণমূল।
দলকে অক্সিজেন?
৪ মে অর্থাৎ ভোটগণনার সন্ধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল (ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্র) থেকে কালীঘাটের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন মমতা। তৃণমূলের বিপর্যয়, ভবানীপুরে তাঁর নিজের হারের পরে নতুন সরকার গঠনও হয়ে গিয়েছে। ১০ দিন পর বৃহস্পতিবার কালীঘাট থেকে বেরোন তিনি। রাজনৈতিক মহলের অনেকের বক্তব্য, সশরীরে মমতার কোর্টে যাওয়া আসলে দলীয় সংগঠনে অক্সিজেন দেওয়ার কৌশল। তৃণমূল সরকার থেকে সরতেই দল পরিচালনা নিয়ে বিবিধ মত প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন একাধিক নেতা। কেউ সরাসরি দায়ী করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, কারও কাঠগড়ায় পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন মুখপাত্রকে শো কজ় করার পরে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করতে হয়েছে তৃণমূলকে। এ হেন পরিস্থিতিতে সংগঠনের কাঠামো ধরে রাখাই তৃণমূলের কাছে এই মুহূর্তের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটেই মমতার কোর্টে গিয়ে সওয়াল করাকে নিচুতলার সংগঠনের উদ্দেশে বার্তা হিসাবে দেখছেন অনেকে। আদৌ কি বল পেল তৃণমূলের নিচুতলা? পূর্ব বর্ধমামের এক প্রবীণ নেতার কথায়, ‘‘দিদির মধ্যে লড়াইয়ের খিদে আছে ঠিক কথা। কিন্তু এই মুহূর্তে রাস্তায় নামার পরিস্থিতি নেই। বহু জায়গায় কর্মীরা মানসিক কারণেই ঘরে ঢুকে গিয়েছেন।’’ পশ্চিম মেদিনীপুরের এক পরাজিত প্রার্থী তথা মমতার দীর্ঘ দিনের আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত এক নেতার বক্তব্য, ‘‘ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে দল নির্দেশ দিয়েছিল মিছিল করার। আমরা সেটুকুই করতে পারিনি।’’তৃণমূল নেতৃত্ব চাইছেন, যেখানে যেখানে কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, সেখানে যাতে নেতারা পৌঁছোন। কিন্তু সর্বত্র সেই চাওয়া বাস্তবায়িত করা যাচ্ছে না। ফলে মমতা ব্যক্তিগত ভাবে মামলায় সওয়াল করতে কোর্টে গেলেও তা তৃণমূলকে আলোড়িত করেছে ভিতর ভিতর। কিন্তু রাস্তায় তার প্রতিফলন দেখানোর বাস্তব অবস্থা যে এখনই নেই, তা মানছেন দলের অনেকেই।
কী বলছে বিজেপি
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে দেখে ‘চোর-চোর’ স্লোগান বা তাঁকে উদ্দেশ করে কুমন্তব্য কোনওটাই বিজেপির কাজ নয় বলে দাবি করেছেন রাজ্যের শাসকদলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, এই বিক্ষোভ তৃণমূলের কৃতকর্মের ফল। তবে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে পশ্চিমবঙ্গকে বার করে নিয়ে যেতে চান তাঁরা। শমীকের কথায়, ‘‘এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এক জন মহিলা। তাঁকে দেখলে মানুষ রাস্তায় ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেবে, এই কাজ বিজেপি করে না। এই পরিস্থিতিও বিজেপি তৈরি করেনি। এই পরিস্থিতির জন্য যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকে, সেটা তৃণমূলই।’’ রাজ্য বিজেপির সভাপতির কটাক্ষ, ‘‘কৃতকর্মের ফল তো পিছু ছাড়ে না। তবে এ ধরনের ঘটনা যাতে না হয়। আমরা সুস্থ, স্বাভাবিক সমাজ চাই। যে কাজ তৃণমূল করেছে, তারই প্রতিক্রিয়া এগুলো।’’ মমতাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শমীকের এ-ও দাবি, যাঁরা বিক্ষোভ করছেন তাঁরা তৃণমূলের। যাঁদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, তাঁরাও তৃণমূলের। এখানে কোথাও বিজেপি নেই। তাঁর কথায়, ‘‘এটা ‘হ্যাভ্স’ আর ‘হ্যাভ নট্স’-দের লড়াই। তৃণমূলের সময় যারা পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যারা পায়নি, তারা এখন মুখ খুলছে।’’ ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে শমীকের বক্তব্য, ‘‘বিজেপিরও তিন জন কর্মী মারা গিয়েছেন। আমরা চাইলেই যে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা নয়। মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যে কোনও মূল্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। না হলে ধ্বংস হবে পশ্চিমবঙ্গ।’’