Advertisement
E-Paper

মেধাতালিকায় কমছে কলকাতার গুরুত্ব! সরকারি শিক্ষানীতির দিকেই কি আঙুল তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ?

শিক্ষকদের দাবি, লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি, কলকাতার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট যেমন মেধাবীদের বেসরকারি স্কুলমুখী করছে, তেমনই এই পাশ-ফেল প্রথার বিলোপ তাঁদের হাত-পা বেঁধে দিচ্ছে। কোনও ভাবেই পড়ুয়াদের মধ্যে পড়াশোনার গুরুত্ব বোঝানো যাচ্ছে না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ২২:৫৩

— প্রতীকী চিত্র।

মাধ্যমিকের প্রথম দশে ১৩১ জনের মধ্যে একটি স্থানও ছিল না কলকাতার। উচ্চ মাধ্যমিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম দশে ৬৪ জনের মধ্যে স্থান পেয়েছেন মাত্র ৪ জন। কলকাতার সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের ফলের কেন এমন অবস্থা? কী ভাবে ফিরবে হাল?

অধিকাংশ স্কুলশিক্ষকই মনে করছেন এর নেপথ্যে রয়েছে বেসরকারি স্কুলের বাড়বাড়ন্ত। কলকাতার বাসিন্দাদের মধ্যে অবাঙালির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে বাঙালি পরিবারগুলি রয়েছে, তারাও অর্থনৈতিক ভাবে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ফলে অতিরিক্ত খরচ করেও তারা ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলগুলিতেই পাঠাচ্ছে সন্তানকে। এর ফলে মেধাবী পড়ুয়াদের একটা বড় অংশকে হারাচ্ছে সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধানশিক্ষক বলেন,

“অপেক্ষাকৃত অভাবী পরিবারের সন্তানদের যে মেধা নেই, তা তো নয়। তবে তাদের মধ্যে চটজলদি রোজগারের ব্যবস্থা করার একটা তাগিদ থাকে। ফলে আজকাল তারা চায় বৃত্তিমূলক পড়াশোনার দিকে ঝুঁকতে।” শিক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে ভাল ফলাফল নিয়ে মাথাব্যথা থাকছে না সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে।

অন্য দিকে, জেলার ভাল স্কুলগুলি আজও মেধা ধরে রাখতে পেরেছে। তার অন্যতম কারণ, এখনও সেখানে তত বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠেনি।

গত দু’দশকে একটু একটু করে কলকাতার সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলির মানের অধঃপতন হতে শুরু করে। এখন হঠাৎ এর সুরাহা করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্কুলশিক্ষকেরা।

রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তুলে আর এক শিক্ষক দাবি করেন, “আজ যে পড়ুয়া মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক দিচ্ছে, তার পড়াশোনা কিন্তু শুরু হয়েছে ১০-১২ বছর আগে। স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় থেকে একটা সমস্যা চেপে বসেছে। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন।” তিনি মনে করেন, স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় সার্বিক পরিবর্তন দরকার। তা একদিনে সম্ভব নয়।

১৫ বছর পর এ রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। আর তার পরই সরকার নিয়ন্ত্রিত স্কুলগুলিতে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষকদের দাবি, লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি, কলকাতার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট যেমন মেধাবীদের বেসরকারি স্কুলমুখী করছে, তেমনই এই পাশ-ফেল প্রথার বিলোপ তাঁদের হাত-পা বেঁধে দিচ্ছে। কোনও ভাবেই পড়ুয়াদের মধ্যে পড়াশোনার গুরুত্ব বোঝানো যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উদাসীনতাও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন শিক্ষকদের একাংশ।

WB HS Result
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy