Advertisement
E-Paper

পাশের হারে সহপাঠীদের টেক্কা ছাত্রীদের, মেধাতালিকায় ঠাঁই মাত্র ৮ জনের! ভাল ফলে বাধা কোথায়?

ছাত্রীদের পাশের হার ৯২.৪৭ শতাংশ সেখানে ছাত্রদের ৮৯.৭১ শতাংশ। এমনকি সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রেও ছাত্রীদের ৬১.৪৮ শতাংশের কাছে ছাত্ররা অনেকটা পিছিয়ে ৩৮.৫২ শতাংশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১৯:১২

— প্রতীকী চিত্র।

গত কয়েক বছরে একটু একটু করে বাড়ছে ছাত্রীর সংখ্যা। মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক— নাম নথিভুক্তিকরণে বাড়ছে ছাত্রীদের সংখ্যা। পরীক্ষায় পাশের হারেও তাঁরা টেক্কা দিচ্ছেন পুরুষ সহপাঠীদের। ব্যতিক্রম নয় ২০২৬ উচ্চ মাধ্যমিক। এমনকি সংখ্যালঘু পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও মেয়েদের যোগদান এবং পাশের হার বাড়ছে।

ছাত্রীদের পাশের হার ৯২.৪৭ শতাংশ সেখানে ছাত্রদের ৮৯.৭১ শতাংশ। এমনকি সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রেও ছাত্রীদের ৬১.৪৮ শতাংশের কাছে ছাত্ররা অনেকটা পিছিয়ে ৩৮.৫২ শতাংশ।

কিন্তু সেরার তালিকার দিকে তাকালে ছবিটা অন্য রকম। প্রথম দশের মেধাতালিকায় অনেক কম ছাত্রীদের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ফলপ্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে, প্রথম দশে নাম রয়েছে ৬৪ জন পড়ুয়ার। তার মধ্যে মাত্র ৮ জন ছাত্রী।

শুধু প্রথম দশের তালিকা নয়। সার্বিক ভাবেই সংসদ প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পাশের হারে এগিয়ে থাকলেও উচ্চ নম্বরের ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছাত্রীরা। এ++ অর্থাৎ ৯০-১০০ নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা খানিকটা হলেও কম। এই স্তরে ছাত্রের সংখ্যা যেখানে ৩৩১৯, সেখানে ছাত্রীর সংখ্যা ৩১১৫।

কিন্তু ৮০-৪৯ নম্বর পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। ৫০-৫৯ নম্বর পাওয়া ছাত্রের সংখ্যা যেখানে ৬৯,০১৪ জন সেখানে ছাত্রীর সংখ্যা ৮৩,২৪১।

কেন ভাল ফলের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছেন ছাত্রীরা?

বেথুন কলেজিয়েট স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা শর্বরী ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘অনেক প্রতিকূলতা জয় করে যোগদান এবং পাশের হারে মেয়েরা অনেক এগিয়ে— এটাই আমার কাছে আশাব্যঞ্জক। এ ভাবেই ধীরে ধীরে সেরার তালিকাতেও এগিয়ে যাবে। এক দু’নম্বরের পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তা মেধার পার্থক্য নির্ধারণ করে না।’’

ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা রুবি সাহা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এ বারের ফলাফল সত্যিই চোখে পড়ার মতো। পরের বার যারা পরীক্ষা দেবে তাদের বলব যেন আরও ভাল করে পড়াশোনা করে।’’ কলকাতার নাকতলার আনন্দ আশ্রম বালিকা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষিকা নীলাঞ্জনা দত্ত মনে করেন, ভাল ফলের নিরিখে মেয়েদের পিছিয়ে থাকার নেপথ্যে আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি দায়ী। কখনও কখনও দায় থাকে পরিবারেরও। তিনি বলেন, “আজও কোনও কোনও কন্যাসন্তানের বাবা মায়ের মধ্যেও সচেতনতার অভাব দেখা যায়। বাড়ির কাজ বা ছোট ভাই বোনকে দেখাশোনার জন্যেও অনেকে স্কুলে আসে না। এর বাইরে রয়েছে আধুনিকতার অভিশাপ। তারপরে অতিরিক্ত সমাজমাধ্যমের ব্যবহার, রিল বানানোর ঝোঁক কমলে, ফল আরও ভাল হতে পারে।”

WB HS Result
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy