E-Paper

বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিমা ফেরাতে স্বপনের আশ্বাস

বাজেটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎকর্ষ কেন্দ্র করে তুলতে সরকারি পরিকল্পনার পাশে কলকাতাকে নিয়ে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের পরিকল্পনা জানিয়েছেন স্বপন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৭:১০
স্বপন দাশগুপ্ত।

স্বপন দাশগুপ্ত। — ফাইল চিত্র।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরম্পরা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ পথ কিছু থাকলে তা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনীষার পরম্পরাকেই (ইন্টেলেকচুয়াল লেগ্যাসি) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ বলে মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শনিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হলে শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ-এর অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তিনি। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে উদ্ধৃত করে তাঁর সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়ার জ্ঞানচর্চার একটি পীঠস্থান হওয়ার কথা মনে করান স্বপন। বলেন, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কখনওই নিছক আঞ্চলিক ছিল না। তার গন্ডিটা ছোট হতে দেওয়া যায় না। কলকাতাকে সর্বজনীন উৎকর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউট অব ইউনিভার্সাল এক্সেলেন্স) করে গড়ার জন্য আমরা কী করেছি, তা ভাবতে হবে।”

এ বারের বাজেটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎকর্ষ কেন্দ্র করে তুলতে সরকারি পরিকল্পনার পাশে কলকাতাকে নিয়ে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের পরিকল্পনা এ দিন জানিয়েছেন স্বপন। অনুষ্ঠানের পরে তিনি বলেন, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা এখন অনেক ছোট হয়ে এলেও তার বিশিষ্টতা (এমিনেন্স) মেলে ধরতে যা করার আমরা করব। বাজেট ঘোষণা হয়েছে আট মাসের। শুধু টাকা ঢাললেই হয় না। প্রধান একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলার উচ্চশিক্ষায় কলকাতার কথা ছাড়া আমরা কিছু ভাবতে পারি না।”

সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেটে ৫০ কোটি টাকা ঘোষণার কথা তুলেও অর্থমন্ত্রী বলেন, “ভাববেন না এটা আমরা পুরুত তৈরির জন্য দিচ্ছি। ইন্ডোলজির একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আছে।” বক্তৃতায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবের দিনগুলি প্রসঙ্গেও তখন পুরাতত্ত্ব, সংস্কৃতের মতো বিষয় চর্চার কথা বলেন স্বপন। তাঁর আক্ষেপ, বিষয়গুলি পরে অতটা গুরুত্ব পায়নি। প্রথম থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনবক্তৃতাগুলি সংরক্ষণে এ দিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উৎসাহ দেন অর্থমন্ত্রী।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সময়ে বিভিন্ন মতের ও মতাদর্শের ঐতিহ্য চর্চার কথা বলেছিলেন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ। তাঁর কথার সূত্র ধরেই অর্থমন্ত্রীও বলেন, “কোনও বিশেষ সত্যের একচেটিয়া আধিপত্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় তো ধর্মীয়প্রতিষ্ঠান নয়।”

উৎকর্ষ চর্চায় রাজ্য সরকারের সহযোগিতা চেয়ে এগোনোর কথাই বলেছেন উপাচার্য। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে অর্থমন্ত্রীর তাগিদ প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “আইআইটির পাশে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এখন পিছিয়েছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাপকাঠির স্বীকৃতির জন্য শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং বা সায়েন্স নয় আর্টসের বিষয়গুলির গবেষণার মাত্রাও বাড়াতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া অন্য বিষয়ে ভিন রাজ্যের পড়ুয়াদের টানতে কী করণীয় তার পরিকল্পনা করতে হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Swapan Dasgupta educational institution

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy