নির্বাচনের আগে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। এ বার নির্বাচনের পরে হাই কোর্টে হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে আইনজীবীর বেশে হাই কোর্ট চত্বরে পৌঁছে যান তিনি।
সকাল ১১টার কিছু আগে হঠাৎ হাই কোর্ট চত্বরে পৌঁছে যান তৃণমূলনেত্রী। আইনজীবীদের মতো কালো শামলা পরে হাই কোর্টে চত্বরে হাজির হন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। সেখানে সওয়াল করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতির এজলাসে তৃণমূলনেত্রী মমতা বলেন, “প্রথম বার কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করছি। ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে আমার নাম নথিভুক্ত হয়। তার পর থেকে সদস্যপদ রিনিউ করেছি। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন এই সব অভিযোগ আসছে। ঘর, বাড়ি লুট করছে, আগুন জালাচ্ছে। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না। আদালতের অনুমতি পেলে এই অভিযোগগুলি অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করব। রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনও বুলডোজ়ার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, প্লিজ রাজ্যবাসীকে বাঁচান।”
অন্য দিকে রাজ্য সরকারের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী পাল্টা সওয়াল করেন, ওই সব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তিনি এজলাসে বলেন, “নির্দিষ্ট করে তথ্য দিয়ে বলা হচ্ছে না কোথায়, কী ঘটেছে। রাজ্যের পুলিশ সতর্ক এবং সক্রিয় রয়েছে। বলা হচ্ছে, রাজ্য জুড়ে ২০০০ বেশি অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এই সব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। কে, কখন অভিযোগ করেন বিস্তারিত কিছুই বলা হচ্ছে না।” রাজ্যের আইনজীবীর আরও সওয়াল, “২০২১ ভোট পরবর্তী অশান্তি খুঁজতে পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ বসেছিল। এখানে আগে আদালত খুঁজে তো দেখুক, আদৌ ভোট-পরবর্তী অশান্তির ঘটনা কি না। এখনই অন্তর্বতী নির্দেশ কেন দেবে আদালত!”
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে ওই মামলার শুনানি হয়।
এর আগে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে গিয়ে সওয়াল করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। এ বার ভোটের পরে অশান্তির অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সওয়াল করার জন্য হাই কোর্টে হাজির হলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয়ী বিজেপি। তৃণমূল জয়ী ৮০টি আসনে। রাজ্যের বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২৯৪ হলেও ফলতায় নতুন করে নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। সে কারণে ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হয়েছে। তার মধ্যে কংগ্রেস দু’টি, সিপিএম একটি, আইএসএফ একটি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) দু’টি আসনে জয়ী হয়েছে।
হাই কোর্ট চত্বরের বাইরে মমতার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সঙ্গে লিখেছে, ‘আরও এক বার তিনি দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনি বাকিদের চেয়ে আলাদা। দরকারের সময়ে কখনও তিনি পশ্চিমবাংলার মানুষকে একা ছেড়ে দেন না। সত্য, ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের জন্য লড়াই তিনি থামান না। অতুলনীয় সাহস এবং প্রত্যয়কে সঙ্গী করে তিনি বারংবার ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’ তৃণমূল সমাজমাধ্যমে আরও লিখেছে, ‘তিনি প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছেন যে, আজকের দিনে ভারতে তাঁর মতো আর কোনও নেতা নেই।’
(সবিস্তারে আসছে)