E-Paper

সরকারি অনুদান মিলবে তো? চর্চায় পুজোর হাতবদল

ভোট-উত্তর কলকাতায় খোঁজ করে জানা গেল, অধিকাংশ পুজোর পুরনো কর্তা হয় পদ ছাড়তে চাইছেন, নয়তো তাঁদের সরিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, কমিটির অধিকাংশ সদস্যই আর তাঁকে চাইছেন না।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০৮:২০

— প্রতীকী চিত্র।

কোথাও ১৫ বছর পরে পুজো কমিটিতে ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোথাও পুজো কমিটির সম্পাদক, সভাপতি-সহ পুরো কমিটিই বদলে ফেলা হয়েছে। কোথাও আবার তড়িঘড়ি নতুন পুজোকর্তার নামে ভিজ়িটিং কার্ড ছাপানো শুরু হয়ে গিয়েছে। শহরের এক বড় পুজোর কর্তা আবার ফোন ধরেই জানিয়ে দিলেন, এ বার থেকে তাঁকে নয়, ফোন করতে হবে অন্য জনকে। এ-ও বললেন, ‘‘এখন তো আর আমাদের কথা চলবে না! পুজোর হাতবদল হয়ে যাচ্ছে।’’

ভোট-উত্তর কলকাতায় খোঁজ করে জানা গেল, অধিকাংশ পুজোর পুরনো কর্তা হয় পদ ছাড়তে চাইছেন, নয়তো তাঁদের সরিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, কমিটির অধিকাংশ সদস্যই
আর তাঁকে চাইছেন না। এর মধ্যেই আলোচনা চলছে, আগের মতো দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান মিলবে কিনা, তা নিয়ে। অনেকেরই প্রশ্ন, বিদ্যুৎ-বিলে ছাড়, দমকল-সহ সমস্ত সরকারি ফি মকুব করা হবে তো? এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোর মানচিত্রে নতুন পুজোকর্তা হিসাবে উঠে আসা লোকজনের দাবি, এ বছর পুজো হবে আরও জাঁকজমকপূর্ণ।

নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন কলকাতার বেশ কয়েকটি বড় পুজোর কর্তা সমাজমাধ্যমে ‘এই বাংলা দুর্গার’ লেখা ছবি দিয়েছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগেরই তৃণমূল-যোগ নিয়ে চর্চা চলেছে। কাউকে কাউকে তৃণমূলের পক্ষে রাজনৈতিক সভা করতেও দেখা গিয়েছে। গত পুজোর আগেই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে সমন্বয় বৈঠকে পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে তৈরি ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর তৎকালীন কর্তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘দিদি (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী) তুমি আছ বলেই বাংলার দুর্গাপুজো বেঁচে আছে। দিদি তুমি থাকো, পুজো তা হলে থাকবে।’’ কিন্তু পরিবর্তনের পরে দেখা যাচ্ছে, ‘এই বাংলা দুর্গার’ লেখা ছবি সরে গিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার একটি পুজো আবার সব রকমের পালাবদল দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ‘সনাতনী’ পুজো চালিয়ে আসার বিষয়টি দৃঢ়তার সঙ্গে সমাজমাধ্যমে লিখেছে।

কলকাতার নামী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম, ত্রিধারা সম্মিলনীর কর্তা দেবাশিস কুমার এই পরিস্থিতিতে বললেন, ‘‘সরকারি সাহায্য ছাড়া তো পুজো করা যায় না। সহায়তা যেন থাকে, সেটাই চাইব।’’ এমনই আর একটি পুজো, সুরুচি সঙ্ঘের পুজোকর্তা কিংশুক মৈত্রের বক্তব্য, ‘‘এখনও বেশি কিছু বলার সময় আসেনি। পুজো মনে হয় পুজোর মতোই হবে।’’ টালা প্রত্যয়ের পুজোকর্তা শান্তনু ঘোষের দাবি, ‘‘সরকারের উচিত অবশ্যই পুজোর পাশে দাঁড়ানো। মনে রাখতে হবে, দুর্গাপুজো জীবন ও জীবিকার উৎসব।’’

একডালিয়া এভারগ্রিনের কর্তা স্বপন মহাপাত্র যদিও বললেন, ‘‘নেতা-মন্ত্রীর পুজোর কী হবে, বলতে পারব না। তবে আমরা বৈভব ছেড়ে বহু দিন ধরেই মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পুজো করছি।’’ হিন্দুস্থান পার্কের পুজোকর্তা সুতপা দাস আবার বললেন, ‘‘এই কারণেই পুজোয় কোনও দিন রাজনীতির রং লাগতে দিইনি।’’ একই দাবি টালা বারোয়ারির পুজোকর্তা অভিষেক ভট্টাচার্যের।

অতীতে বার বার দুর্গাপুজো নিয়ে গন্ডগোলে শিরোনামে উঠে আসা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোকর্তা তথা নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বললেন, ‘‘আমাদের পুজো জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার বহু চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু চাইব, তৃণমূলের লোকজন প্রত্যয়ের সঙ্গেই পুজো করুন। টাকা লুটে নেওয়ার মাধ্যম না হয়ে পুজোটা পুজোর মতো হোক।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Durga Puja government funds West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy