মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
‘‘আজ আমি দুঃখিত, মর্মাহত। মাদার টেরিজার মিশনারিজ় অফ চ্যারিটির ৩০০ জনের নাম কেটেছে। বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনও বাদ যায়নি।’’
‘‘যেন চৈত্র মাসের সেল চলছে! একজনের নাম আছে, একজনের নেই। সব বোঝাপড়ার খেলা। বিজেপি-সিপিএম সব বোঝাপড়া করে রেখেছে। মতুয়াদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমার চেয়ে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না। এই যুদ্ধে আমি যোদ্ধা। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নাম তোলার চেষ্টা করে যাব। নাম কেটে ভোট লুট করবে? বাংলা দখল করার জন্য বড্ড হ্যাংলা হয়েছে।’’
‘‘যদি কেউ বাধা দেয়, ক্ষীরের ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে ভোটটা দিতে যাবেন। আজ বাংলা ভাষায় কথা বললে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে অত্যাচার করে। হোটেলে থাকাও অসুবিধার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এখন বাংলায় ভোট চাইতে এসেছে! লজ্জা করে না?’’
‘‘বনগাঁয় এলে ভূপেন শেঠের কথা মনে পড়ে। তখন এলে দেখতাম ট্রাফিক সমস্যা। সেই কাজ করেছি। ঋতুপর্ণা, মধুপর্ণা, বিশ্বজিৎ, নরোত্তম জিতলে তাদের কথায় বাকি কাজ করে দেব।’’
মমতার প্রতিশ্রুতি, ‘‘যাঁদের এখনও কাঁচা বাড়ি আছে, তাঁদের প্রত্যেককে আমরা পাকা বাড়ি করে দেব। যাঁদের বাড়িতে এখনও পানীয় জলের নল পৌঁছোয়নি, সেটা করে দেব। দুয়ারে সরকার দেখেছেন। বুথ লেভেলে ১০ লক্ষ টাকা করে সাংশন হয়ে গিয়েছে। কাজ থেমে থাকলেও ওই কাজ হবে। যুবসাথীর টাকা যাঁরা পাননি, তাঁরাও পাবেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য যাঁরা নতুন করে আবেদন করেছেন, তাঁরাও পাবেন। এ ছাড়াও দুয়ারে সরকারের মতো দুয়ারে স্বাস্থ্য করব। ব্লকে ব্লকে ডাক্তার, সিস্টার আসবে। স্বাস্থ্যই সম্পদ।’’
মমতা এ-ও বলেন, ‘‘মানুষের সুবিধার জন্য মসলিনের মতো রাস্তা করে দিয়েছি বনগাঁয়।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন সড়কপথে দেড় ঘণ্টায় বাড়ি থেকে বনগাঁ চলে যেতে পারেন।
‘‘ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মানুষদের জন্য ট্রাইবুনালে যাব। আবার বলছি, বাংলায় একটাও ডিটেনশন সেন্টার করতে দেব না। ওরা নমঃশূদ্র বিরোধী। ওরা মতুয়া বিরোধী। ওদের ধর্ম মানে ভোট কাটা। এটা ধর্ম নয়।’’
‘‘কত ভোট (ভোটার তালিকা থেকে নাম) কেটেছিল বনগাঁ, বাগদা থেকে? ভোটের আগে বলবে হিন্দু-মুসলমান। আগুন লাগলে আগুন দেখে না ওটা কার বাড়ি। নদীর ভাঙন যখন হয়, জলের স্রোত সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বিজেপিকে বিশ্বাস করা আর গোখরো সাপকে বিশ্বাস করা একই ব্যাপার। বিজেপির মাথায় শুধু বিষ। বিষবৃক্ষ থেকে আম জন্মায় না।’’
মমতা বলেন, ‘‘যারা আজ ঠাকুর পরিবারে বিভেদ করে ভাবছে ভোটের রাজনীতি করবে, আমি বলছি, বেশি কথা বোলো না। অনিল অম্বানীর কেসে কার কার নাম আছে জানি। শুধু বিজেপি করো বলে তোমাদের ঘরে ইডি-সিবিআই আসে না। তৃণমূল করলে কিছু না করলেও ইডি-সিবিআই আসে। বেশি কথা বললে মুখোশ খুলে দেব।’’
বনগাঁয় সভা শুরু মমতার। তৃণমূলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সভা শুরু করেন মমতা। তবে তখনও একটি মিছিল আসছিল। মমতা হেসে বলেন, ‘‘মিছিল আসছে, আমার কাছে ১০ মিনিট সময় চেয়েছিল। আমি কী করব বলুন! আকাশ তো আমার হাতে নেই।’’ বস্তুত, আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে তড়িঘড়ি তিনটি সভা করবেন বলে জানিয়েছেন মমতা। তিনি বনগাঁর উন্নতিকল্পে তাঁর সরকার যে যে কাজ করেছে, সেগুলো তুলে ধরেন।
মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁয় জনসভা রয়েছে নেত্রী মমতা। বনগাঁ উত্তরের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস এবং বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার কেন্দ্রের ঋতুপর্ণা আঢ্যের সমর্থনে বনগাঁ স্টেডিয়ামে সভা রয়েছে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy