কী হবে মেয়েদের পড়াশোনা করে! এমনটাই মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে বিহারের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে এ হেন মন্তব্য করার পরে দেশের বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি জনসভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রশ্নের উত্তরেই ওই মন্তব্য করেন বিহারের শিক্ষামন্ত্রী। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, মেয়েদের পড়াশোনা করে কী হবে? মেয়েদের প্রতিবাদ বা জনসমাবেশে না গিয়ে ঘরে থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি সমাজের সকল স্তরে ব্যাপক ক্ষোভেরও জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিহারের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী। তাঁকে এক সাংবাদিক নারীশিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে তিওয়ারিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘শিক্ষার প্রয়োজন কী? আমাদের ঘরের মেয়েরাই আমাদের শক্তি এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি। আর মোদীজি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) যখন নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তখন সেই মেয়েদের রাস্তায় নামার কী প্রয়োজন!’’ এর পর এক জন সাংবাদিক শিক্ষামন্ত্রীকে বাধা দিয়ে বলেন, “মেয়েদের অধিকারের জন্যই তো তাদের পড়াশোনা করা উচিত, রাস্তায় নামা উচিত।’’ এর উত্তরে তিওয়ারি বলেন, ‘‘আপনি আপনার অধিকার নিজে থেকেই পেয়ে যাবেন।’’ বিহারের শিক্ষামন্ত্রীর সেই মন্তব্য সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নারীশিক্ষা নিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পশ্চাৎপদ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। নিন্দার ঝড় উঠেছে সমাজমাধ্যমেও।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘মনীশ আরজে’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার বিহারের শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি অনেকে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘আপনি এমন এক রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী যেখানে সাক্ষরতার হার এমনিতেই কম। আর আপনার মূল পরিকল্পনা হল অর্ধেক জনসংখ্যাকে আবার রান্নাঘরে ফেরত পাঠানো? এর পর আপনি বই নিষিদ্ধ করে দেবেন আর বলবেন, পড়াশোনা করলে মাথা খারাপ হয়। বিহারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। একেবারে অন্ধকারের মতো উজ্জ্বল।” অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী?? আমাদের বাইরের শত্রুর দরকার নেই। আমরা ভিতর থেকে ভারতকে ধ্বংস করছি।’’ তৃতীয় এক নেটাগরিকের মন্তব্য, ‘‘এই বক্তব্য এবং মানসিকতা একেবারেই নিন্দনীয়, বিশেষ করে ২০২৬ সালে যখন ভারত জুড়ে নারীরা শিক্ষা, ব্যবসা, বিজ্ঞান, খেলাধুলা এবং প্রশাসনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।”