হুড়োহুড়ি করে চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেলেন যুবক। ট্রেনের চাকার তলায় প্রায় চলেই যাচ্ছিলেন তিনি। মোক্ষম সময়ে দেবদূতের মতো ছুটে এসে প্রাণরক্ষা করলেন রেলের এক জওয়ান। প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখান থেকে টেনে উদ্ধার করলেন তাঁকে। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। ভিডিয়োয় দাবি, বারুনি-গোন্দিয়া এক্সপ্রেসে ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, এক জন ব্যক্তি ট্রেন এবং প্ল্যাটফর্মের মাঝের ফাঁকে আটকে পড়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক যে, ও ভাবেই আটকে থেকে ঘষে ঘষে এগোতে থাকেন তিনি। তাঁর জীবনহানি হওয়ার আশঙ্কা দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তখনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক জন আরপিএফ জওয়ান দৌড়ে আসেন। দ্রুত পদক্ষেপ করে যুবকের জীবন বাঁচান তিনি। দৌড়ে গিয়ে টেনে তোলেন যুবককে। মুহূর্তের মধ্যেই ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিয়োয় দাবি, দুর্ঘটনাটি বারুনি-গোন্দিয়া এক্সপ্রেসে ঘটেছে এবং ওই আরপিএফ জওয়ানের নাম নিরঞ্জন। এএসআই পদে কর্মরত তিনি। দুর্ঘটনার পর আহত যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। তবে ঘটনাটি কোন স্টেশনে ঘটেছে, তা ওই ভিডিয়ো থেকে স্পষ্ট হয়নি।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে ‘ঘর কা কলেশ’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন ভিডিয়োটি। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে আরপিএফ জওয়ানের সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত যুবকের ওই ভাবে ট্রেনে চড়ার চেষ্টার সমালোচনাও করেছেন অনেকে। এক নেটাগরিক ভিডিয়ো দেখার পর লিখেছেন, ‘‘সাহসী জওয়ানকে পুরস্কার দেওয়া উচিত। এমন সতর্ক রেলকর্মীর কারণে একটি জীবন রক্ষা পেয়েছে। একই সঙ্গে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘সত্যিকারের বীর। কী ভাবে দেবদূতের মতো এসে এক জনের প্রাণ বাঁচালেন। আমি ওঁকে কুর্নিশ জানাচ্ছি।’’
আরও পড়ুন:
তবে ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর রেলের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতি দিন ঘটে, কিন্তু এই সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান কেন খুঁজে বার করা হচ্ছে না?’’ অন্য এক জন মন্তব্য করেছেন, ‘‘ট্রেন এবং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বড় ফাঁক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতে রেল কর্তৃপক্ষকে প্ল্যাটফর্মের নকশা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’’