তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মমতা বলেন, “আজ আমিও আমার মনোনয়ন জমা দিয়েছি ভবানীপুরে। অনেক ভোট কেটেছে। তা-ও আমার কিছু যায় আসে না। আমি ৩৬৫ দিন ওখানে থাকি। মানুষের উপর আমার ভরসা আছে।”
বিজেপি-কে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “এ বারের লড়াইয়ে জিততে হবে। না হলে মাছ-মাংস-ডিম সব আপনার বন্ধ। আপনার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ বন্ধ। অন্য পার্টিকে ভোট দিয়ে ভোটটা নষ্ট করবেন না। বিজেপি-কে কেচো খুঁড়তে কেউটে আনতে দেবেন না।”
মমতা বলেন, “অফিসারদের সব রাজ্যের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কেউ তাঁকে একটি কথা বললেই, সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড। ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন। সকলকে ভ্যানিশ করছেন, আর নিজের লোকেদের প্রমোশন দিচ্ছেন। এত লোভী আপনারা! চৈত্র সংক্রান্তির সেলের মতো সব নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছেন। মনে রেখো বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াংশিন মেশিন, মানুষের ভোটাধিকার করলে ভ্যানিশ, তোমরা কিন্তু হবে ফিনিশ। এটা মাথায় রেখে দিও।”
বিজেপিতে তোপ দেগে মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করেছো! পশ্চিমবঙ্গকে আবার ভাঙার চক্রান্ত? বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত? ডিলিমিটেশনের নামে পশ্চিমবঙ্গকে ভেঙে আবার নতুন রাজ্য করার চক্রান্ত?”
মমতা বলেন, “দেখেছেন সিপিএমের কারও ইডি-সিবিআই হয়েছে? হয়নি। কেন? মাথাটা বিক্রি করে দিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে এত লাগে কেন! সকলকে ডেকে পাঠায়। সকলকে কেস দেয়। কারণ ওরা জানে পশ্চিমবঙ্গ হারে না। হারতে জানে না।”
বিজেপি-কে বিধেঁ মমতা বলেন, “ইলেকশন বলে অনেক কষ্টে গ্যাস পাচ্ছেন। এরপরে তো গ্যাসবেলুন উড়ে যাবে। গ্যাসও নাই। ক্যাশও নাই। দেশটাকে ধ্বংস করে দেবে এরা।”
মমতা বলেন, “এখন প্ল্যান করেছে সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে গ্রামেগঞ্জে আটকে দেবে। তারা নাকি শুনছি এলাকায় এলাকায় গিয়ে ভোট আটকাবে সিপিএমের কায়দায়।”
বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “আমি আমার জীবন দিয়ে লড়াই করব। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি এখান থেকে চলে গিয়ে আইনজীবী হয়ে আবার প্র্যাক্টিস করা শুরু করি। শুধু মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারটা আছে বলে আমি করতে পারি না।”
মমতা বলেন, “আমি সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান জানিয়ে একটা কথা কল্যাণকে একটা কথা জিজ্ঞেস করছি। আমি সন্তুষ্ট নয়। আমাকে একটু স্পষ্ট করো। যখন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল ট্রাইবুনাল হবে। অ্যাডজুডিকেশন কেসে যাদের নাম বাতিল হয়েছে, তারা ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবে। এখন ট্রুাইবুনাল তৈরি হয়েছে। আমি পরের দিনই বাড়ি দিয়ে দিয়েছি। সেই ট্রাইবুনাল চলাকালীন কী ভাবে প্রথম দফার ভোটার লিস্ট ফ্রোজ়েন হয়ে গেল? আমার মাথায় এটা ঢুকছে না।”
কল্যাণ বলেন, “গতকাল রাত পর্যন্ত ট্রাইবুনালের ইনফ্রাস্ট্রাকচার এখনও নির্বাচন কমিশন করেনি। সেই কারণে ট্রাইবুনাল এখনও ফাংশন করতে পারছে না।”
মমতার সভা চলাকালীন সভাস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগের কিছু সমস্যা তৈরি হয়। দর্শকাসনের একটি আসনে ওই সমস্যা হয়। তা নিয়ে মমতা বলেন, “আপনারা ওখান থেকে একটু সরে আসুন। ইলেকট্রিকের কাজ করেছেন কারা? তাঁরা দেখুন। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। একটু সরে আসুন। ইলেকট্রিকের লোকেরা কাজ করবেন, কোনও সাধারণ মানুষ হাত দেবেন না।”
এর পরেই মমতা বলেন, “একটা ফ্লাশ হয়েছে। কেন হবে? যে করেছে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া উচিত। তারে তারে সংঘর্ষ। যে করেছেন, তাঁর উদ্দেশ্যটা ভাল নয়। পায়ে তার লেগেছে বলছে। এ সব অজুহাত দেখানোর দরকার নেই। তুমি এমন কিছু নিশ্চয়ই করতে দেবে না যে পায়ে তার লাগলেই একটা শর্ট সার্কিট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে! কেন? এ সব মিটিঙে কেয়ার নেওয়ার দরকার নেই? পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব লোক তুলে দিয়ে, এগুলো দেখার লোক নেই?”
মমতা বলেন, “ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের নাম কাটার জন্য এই এসআইআর ষড়যন্ত্র করলেন কেন? তৃণমূলের সিটগুলো দেখে দেখে নাম কেটেছে। কল্যাণ আমাকে বলছিল, হুগলি জেলায় অনেক নাম কেটেছে। আমি বললাম, শুধু হুগলি জেলায়? উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, খোদ কলকাতায়, আমার ভবানীপুর কেন্দ্রে। মাত্র ২ লক্ষ ৫১ হাজার ভোটার ছিল। আগে কেটেছিল ৪৮ হাজার। অ্যাডজুডিকেশনেও ১৪ হাজার। তাঁদের ভবিষ্যতও আমরা জানি না। প্রায় ৬০ হাজারের কাছাকাছি। দিনহাটায় ৩৫ হাজার ভোট কেটে নিয়েছে। রাজবংশী ভোট। দেখে দেখে মুর্শিদাবাদ, মালদহ পুরো বরবাদ। ভবানীপুর কেন বরবাদ? হুগলি জেলা কেন বরবাদ? ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর কেন বরবাদ?”
মমতা বলেন, “আপনারা কি জানেন? মাদার টেরেজ়ার যে মিশনারিজ় অফ চ্যারিটি করেছেন, সেই মিশনারিজ় অফ চ্যারিটিরও ৩০০ জনের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি কল্যাণকে বলছিলাম, দেখে দেখে উকুন বেছেছে বিজেপি। এজেন্সি লাগিয়ে। নিজেদের তো লোক নেই, টাকা আছে। টাকার বড্ড অহংকার। ভারতবর্ষের সব টাকা খেয়ে নিয়েছে।”
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর কার্নিভাল প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “জানেন তো, যেটা সত্য, সেটা আমি সবসময় স্বীকার করি। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর কার্নিভাল দেখেই আমার দুর্গাপুজোর কার্নিভালের কথা মাথায় আসে।” এর পরেই মমতা বলেন, “সব ভুলে গিয়েছি আমি? কী মা-বোনেরা দুর্গাপুজো রাজ্যে হয় না? পুজো কমিটির অনুদান চলছে, চলবে। আমাদের ওটা জাতীয় উৎসব। সকলের সবটাই জাতীয় উৎসব।”
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর কার্নিভাল প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “জানেন তো, যেটা সত্য, সেটা আমি সবসময় স্বীকার করি। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর কার্নিভাল দেখেই আমার দুর্গাপুজোর কার্নিভালের কথা মাথায় আসে।”
মমতা বলেন, “আমি বিজেপির মতো গ্যাসবেলুন পলিটিক্স করি না।” বক্তৃতার সময়ে মমতা জানান, দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরপাড়ায় একট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। পরে মঞ্চ থেকে তাঁকে জানানো হয়, ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেটি করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই মমতা বলেন, “আমি কম বললাম। আমি তো বিজেপির মতো গ্যাসবেলুন পলিটিক্স করি না। তাই কমিয়ে বলব, তা-ও বেশি বাড়িয়ে বলব না।”
মমতা বলেন, “রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, মা সারদার দর্শনে আমরা পথ চলি। তাঁদের জন্মস্থান এই হুগলি জেলায়। আপনাদের গর্ব করার বিষয়। জয়রামবাটি কামারপুকুরের উন্নয়নের ডেভেলপমেন্ট বোর্ড তৈরি করেছি। মাহেশের রথের ব্যাপারে কল্যাণ অনেক হেল্প করেছে। অন্যদিকে ফুরফুরা শরিফ, সেখানেও জাঙ্গিপাড়ায়, চণ্ডিতলায় আমরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করে কাজ করছি। ১০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করেছি। তারকেশ্বর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি তৈরি করেছি। তাপসী মালিকের নামে অনেক কিছু করা হয়েছে।”
ডানলপ এবং জেসপের জমি অধিগ্রহণ আটকে থাকা নিয়ে মমতা বলেন, “আমরা রাজ্য বিধানসভায় বিল পাশ করেছি অধিগ্রহণ করার জন্য। যাতে এখানে কর্মচারীরা সুরক্ষা পান। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৬ সাল থেকে ফেলে রেখে দিয়েছে। দশ বছর হল। কেন করেনি যানেন? আমি শুনেছি, ওদের মালিক নাকি বিজেপির খুল ক্লোজ়।”
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করলেন মমতা। এসআইআর নিয়ে মামলায় আদালতে কল্যাণের সওয়ালের প্রশংসা করেন তিনি।
শ্রীরামপুরের সভাস্থলে পৌঁছোলেন মমতা। বক্তৃতা করছেন শ্রীরামপুর স্টেডিয়ামের মাঠ থেকে।
শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষের সমর্থনে বুধবার সভা করবেন মমতা। তিনি পৌঁছোনোর আগে থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করেছে শ্রীরামপুর স্টেডিয়াম মাঠে। সেখানে জনসভা থেকে দলনেত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy