নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
তোমার বুকের পাটা যদি থাকত, তুমি বাজেটে বলতে মহিলাদের এত টাকা দেব। কই বাজেটে তো কিছু বললে না। একটা রাজ্যের জন্য তো হয় না। সারা ভারতবর্ষের জন্য করতে হয়। কাকে ছলনা করছ। আমি বলি যে যেখানেই ক্যান্ডিডেট থাক, আমি সরকার গড়ব। আমি বাংলার ভোটার। আপনারা আমাকে ভোট দেবেন।
প্রত্যেকটা কেসের বিচার হবে। তদন্ত হবে। যে যেখান থেকেই আসুন, যেখানেই থাকুন, তালিকায় চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা সব লেখা আছে।
যদি ধরেও নিই (তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম) শ্যামকে গ্রেফতার করে, আপনারা কি ভয় পাবেন? কর্মী-সমর্থকদের জিজ্ঞাসা করেন মমতা। এর পরই বলেন, মা-বোনেরা ঘরে যা আছে তাই নিয়ে বেরোবেন। আর বেরিয়ে একটা ভোটও দেবেন না বিজেপি-েক। কোনও জায়গায় আটকালে শুনবেন না। পোলিং থেকে কাউন্টিংয়ের জন্য মেশিন যাবে, ওখানে ইভিএম চেঞ্জ করতে পারে। এটা ওদের প্ল্যান আছে। আমারও তো কেউ কেউ বন্ধু আছে! সব জেনে গেছি। আবার বলছে ভোট কাউন্টিংয়ের সময় কম্পিউটারে গোনা হবে, তার থেকে তৃণমূলের ৫০০ করে কম দেখাবে।
তিনটে ওয়ার্ড বেছে নিয়েছে আমার বিধানসভা এলাকায়। ৭৭, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড। সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে ছাপ্পা করাবে। এমন ধাপ্পা দেব না, বুঝবে ঠ্যালা। ধোঁকার ডালনা খাওয়াব। বিচুটি পাতার ঝোল খাওয়াব। তুমি আমাকে চেনো না। যেখানে তুমি গন্ডগোল করবে, আমি গিয়ে হাজির হব। তুমি আটকাও আমাকে! আমাকে তুমি ব্যান করবে? আমাকে ব্যান করলে সারা ভারত, সারা পৃথিবী দেখাবে!
তিন দিন আগে তো লোকসভায় হেরেছে। ঝামা ঘষে দিয়েছি। বাংলাকে টার্গেট করলে, বাংলা দিল্লিকে টার্গেট করবে। তুমি রাজনৈতিক ভাবে লড়তে পারো না, পুলিশকে দিয়ে গ্রেফতার করানোর ধান্দাবাজি করছ? নির্লজ্জ দল বিজেপি। সাহস কত দেখুন? আমি একটি জায়গায়, আমার কনস্টিটিউয়েন্সিতে যাব কলিন্স লেনে। যদি অন্য কোনও পার্টির মিটিং থাকত, আমি পারমিশন চাইতাম। তুমি আমাকে না দিলে ভাবতাম, অন্য কোনও পার্টির মিটিং আছে। আমি কিছু ভাবতাম না। কিন্তু কোনও পার্টির মিটিং ছিল না। এত বড় সাহস এক জন গদ্দারকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করে নিয়ে এসেছে। সে বলছে না পারমিশন দেব না। আমি বলছি নির্বাচনের পরে বিজেপি তোমাকে গভর্নর করে, না কি রাষ্ট্রপতি করে। তুমি থাক তো বারুইপুরে। তোমাকে আমরাই বিডিও বানিয়েছিলাম। রিটার্নিং অফিসার হওয়ার যোগ্যতা নেই তোমার। তুমি আমাকে পারমিশন দিলে না ঠিক আছে। আমি মিটিং করব না। কিন্তু যে কোনও এরিয়ায় গিয়ে আমি তো চা খেতেই পারি। তুমি আমার চা খাওয়া বন্ধ করো তো, দেখি? আমি একটা এলাকায় গিয়ে বসলেই সব আমার কাছে চলে আসবে। ইটের জবাব আমি পাটকেলে দিই।
আমার অনেক ভুল আছে জানেন তো? আপনাদের এখানে যে প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাকে আমি দুধকলা দিয়ে পুষেছি। আমাকে অভিষেক মাঝে মাঝে বলে তুমি কঠোর হতে পারো না। তুমি এত দুর্বল হও কেন। ঠিক কথ বলে। আমার উচিত ছিল সেদিনই জেলে ভরে দেওয়া। কিন্তু আমি জেলে ভরিনি। সুযোগ দিয়েছিলাম। সুযোগের অপব্যবহার করেছে। পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডকে পলিউশন করে দিয়েছে। আমি সব জানি। কোন পুলিশ চেঞ্জ হবে, কোন পুলিশ কোথায় যাবে, এখানে বসে সব কলকাঠি নাড়ছে। তোমার যে দিল্লিতে কত টাকা আছে, এখানে কত টাকা আছে, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কতা টাকা নিয়েছ, তার হিসাব কিন্তু আমার কাছে আছে। তুমি আমার কাছে টিকিট চেয়েছিলে, আমি দিইনি। কেন দেব? তোমাদের মতো চোর-ডাকাতকে দিই না। মিটিংয়ে বলছে গাছে ঝুলিয়ে তৃণমূলকে পেটাবে, নির্বাচনের আগে যদি এ ভাবে হুভ্কার দিস, নির্বাচনের পরে তোরা কী হবি বাবা?
সবচেয়ে বড় ডাকাতরা বিজেপির প্রার্থী। নাম না করে বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমণ করে বলেন, ওকে পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডে দিয়েছিলাম। ওটা লিউশন করে দিয়েছে। আর ভাবছে শ্যামকে গ্রেফতার করে তুমি জিতবে? আর শ্যাম জেলে থাকলে ডবল ভোটে জিতবে। এখানে কতগুলি পুলিশ জুটিয়েছে। বিজেপির কমিটেড। আমি সবাইকে সম্মান করি। নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন।এই ব্যারাকপুর কমিশনারেট আমি তৈরি করে দিয়েছি। এখন যাঁরা চেয়ারে বসে বিজেপির দালালি করছেন, তাঁদের জানা উচিত ওই চেয়ারটাও আমি তৈরি করে দিয়েছি।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy