Advertisement

নবান্ন অভিযান

ফলতায় তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক, তল্লাশির নামে মহিলাদের সঙ্গে অভব্যতার অভিযোগ!

তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির দাবি, শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট মেটানোর সমস্ত প্রয়াস করছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোট হয়েছে। তাতেই ভয় পেয়েছে শাসকদল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:১৫
Falta Incident

ফলতায় এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অভিযান। ছবি: সংগৃহীত।

মাঝরাতে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নাম করে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহারের অভিযোগ উঠল পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। সোমবার এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শাসকদল।

রবিবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। তৃণমূলের অভিযোগ, তল্লাশির নাম করে কয়েক জন তাদের কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে পড়েন। ওই সময়ে বাড়িতে কোনও পুরুষ সদস্য ছিলেন না। সেই সময় পরিবারের মহিলা সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়েছে। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে এই কাজগুলি করছে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ হেন তল্লাশি অভিযানকে অসাংবিধানিক বলে অভিযোগ করে শাসকদল জানিয়েছে, তারা আদালতে যাবে। অভিযুক্ত সকলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ফলতা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান বলেন, ‘‘এখানে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তাঁরা বিজেপির হয়ে ভোট করানোর জন্য এই কাজগুলি করছেন। আমরা আদালতে তো যাবই। তার আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কথা চিন্তা করছি।’’

তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির দাবি, শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট মেটানোর সমস্ত প্রয়াস করছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোট হয়েছে। তাতেই ভয় পেয়েছে শাসকদল। তাই দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে নানা জায়গায় অশান্তির জন্য উস্কানি দিচ্ছে তারা। কিন্তু পদ্মশিবির এই ফাঁদে পা দেবে না।

দ্বিতীয় দফা ভোটের দক্ষিণবঙ্গের নানা জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে অশান্তির খবর আসছে। কোথাও বাইক নিয়ে হুমকি হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভি যোগ। কোথাও মারধর, হামলা, বোমাবাজির অভিযোগ উঠছে। এর মধ্যে দলীয় সভা থেকে ফেরার পথে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শওকত সরাসরি আইএসএফকে দুষেছেন। তাঁর দাবি, আইএসএফ নেতা আবুল খয়েরের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে। রবিবার রাতে এ নিয়ে বিজয়গঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। আইএসএফের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী। যদিও আইএসএফ হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আইএসএফের পক্ষ থেকে হামলার সঙ্গে দলের যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সোমবার পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়, হুগলির গোঘাটে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষ হয়েছে। আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। জখম সাংসদকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। আবার গোঘাটেরই বর্মা এলাকায় বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার প্রচারের সময় অশান্তি হয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে জখম হয়েছেন বেশ কয়েক জন। বেশ কয়েক’টি গাড়ি-বাইকে ভাঙচুর চালানো হয়।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Falta TMC Police Observer central force
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy