দিল্লিতে নির্বাচন সদনে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূলের বৈঠক ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানীর রাজনীতি। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্য তথা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের ‘গেস্ট লস্ট’ বলে কমিশন থেকে বার করে দিয়েছেন। তৃণমূলের এই দাবি নিয়ে সরাসরি কিছু না-বললেও কমিশন পাল্টা দাবি করে, বৈঠকের সময় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন।
বিবেচনাধীন তালিকা থেকে ২৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। মঙ্গলবার হিসাব দিয়ে জানায় নির্বাচন কমিশন। তার পরই পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল জানায়, তারা দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবে। সেই মতো বুধবার সকাল ১০টায় তৃণমূলের চার জনের প্রতিনিধি দল কমিশনের সদর দফতরে যায়। তবে কিছু ক্ষণের মধ্যেই তারা বেরিয়ে আসে। প্রতিনিধি দলে থাকা ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, ‘গেস্ট লস্ট’ বলে কমিশন দফতর থেকে তাঁদের বার করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ! অন্য দিকে, তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি জানিয়েছে কমিশন। তাদের দাবি, তৃণমূলকে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে এ বারের নির্বাচন ভয়মুক্ত, অবাধ, শান্তিপূর্ণ চায় কমিশন। শুধু তা-ই নয়, বৈঠকে ডেরেককে সংযত থাকার কথা বলেছেন জ্ঞানেশ, খবর সূত্রের।
কমিশনের সদর দফতর থেকে বেরিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, বৈঠকে ছ’টি বিষয় উল্লেখ করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু কথা শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই জ্ঞানেশ সকলে বেরিয়ে যেতে বলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ডেরেক বলেন, ‘‘উনি জানেন না কার সঙ্গে খেলছেন। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল।’’ তাঁর দাবি, ‘‘বৈঠকে কিচ্ছু হয়নি। একটাও কথা বলেনি। আমি বলছি, বৈঠকে কোনও কথা হয়নি। উনি নিজের সঙ্গে কথা বলেছেন।’’
বৈঠকের বিষয় উল্লেখ করে ডেরেক বলেন, ‘‘আমরা ছ’টি উদাহরণ দিয়েছিলাম। একই সঙ্গে এ-ও বলেছি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ন’টি চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কোনও উত্তর দেননি।’’ জ্ঞানেশকে ‘ক্রিমিনাল’ বলেও আক্রমণ ডেরেকের। উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ডেরেক ছাড়াও ছিলেন রাজ্যসভার আরও দুই তৃণমূল সাংসদ মেনকা গোস্বামী এবং সাগরিকা ঘোষ। এ ছাড়াও ছিলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সকেত গোখলে। কমিশনে তাঁরা স্মারকলিপি জমা দেন।
নির্বাচন সদনের বাইরে সকেত গোখলে, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মেনকা গোস্বামী এবং সাগরিকা ঘোষ। ছবি- সংগৃহীত।
তৃণমূলের বৈঠকের পরই কমিশন একটি বার্তা দেয়। সেই বার্তায় জানানো হয়, কমিশন তৃণমূলকে জানিয়ে দিয়েছে এ বারের নির্বাচন হিংসামুক্ত, ভয়মুক্ত করতে হবে। এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে তৃণমূলকে বার্তা দেওয়ার বিষয়টি জানায় কমিশন। সূত্রের খবর, বৈঠকে গলা চড়ালে ডেরেককে সংযত থাকতে বলেন জ্ঞানেশ। কমিশন সূত্রে খবর, বৈঠকের মাঝে ডেরেককে শিষ্টাচার মানার অনুরোধ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। উচ্চস্বরে এবং অশালীন ভাষায় কথা না-বলার জন্যও সতর্ক করেন।
আরও পড়ুন:
বুধবার নির্বাচন সদনে তৃণমূল এবং কমিশনের অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজধানী। একই ছবি দেখা গিয়েছিল মাস খানেক আগে। গত ২ ফেব্রুয়ারি জ্ঞানেশের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। সে দিন বৈঠক মাঝপথে ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা। অভিযোগ করেন, ‘‘বৈঠকে আমাদের অপমান, অসম্মান করা হয়েছে।’’ তার মাস দুয়েক আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও যখন কমিশনের সদর দফতরে গিয়েছিলেন, তখনও একই অভিযোগ উঠেছিল। বৈঠক থেকে বেরিয়ে অভিষেক দাবি করেন, ‘‘আমরা বলা শুরু করতেই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। উঁচুগলায় কথা বলে আমার দিকে আঙুল তোলেন (জ্ঞানেশ)। আমি তখন বলি, আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। আপনি কিন্তু মনোনীত। আমি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত।’’ বুধবার আবার সেই দিল্লির নির্বাচন সদনে দেখা গেল তৃণমূল-কমিশন দ্বন্দ্ব।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত