×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

Bengal Polls: ‘মমতার ফলকে নিহত রাজবংশীরও নাম আছে’, শাহকে ‘মিথ্যেবাদী’ বললেন ডেরেক

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১১ এপ্রিল ২০২১ ২৩:৫৭
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও'ব্রায়েন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও'ব্রায়েন।
ফাইল চিত্র।

“শীতলকুচিতে নিহত রাজবংশী যুবক আনন্দ বর্মনকে নিহতদের তালিকা রাখেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ আনন্দর পরিবারেও একই শোক। তাঁদেরও পাশে থাকা প্রয়োজন।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার রাতে নিহতদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানোর ছবি নেটমাধ্যমে প্রকাশ করে পাল্টা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন। তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র প্রাক্তন বিজেপি সভাপতিকে আক্রমণ করেছেন ঠগ, প্রতারক ও মিথ্যেবাদী বিশেষণ দিয়ে। অমিত শাহ এবং তাঁর অনুগামী উদ্দেশ্য করে ডেরেক লিখেছেন, ‘একাধারে ঠগ। প্রতারক। মিথ্যাবাদী’। পরে লিখেছেন, মমতা যাঁদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ফলকের উপরে সেই পাঁচটি (চারটি নয়) নাম পড়ুন যাঁদের আপনার নির্দেশে গুলিবিদ্ধ মরতে হয়েছে’।

রবিবার দিনভর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন শাহ। সমস্ত কর্মসূচির মাঝেই সংবাদমাধ্যমের কাছে শীতলকুচির ঘটনায় মমতার বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি করার অভিযোগ করেছেন তিনি। অমিত বলেছেন,‘‘শীতলকুচিতে চারজনের মৃত্যুতে মমতাজি এত শোকপ্রকাশ করছেন, কিন্তু ওই দিন যে আনন্দ বর্মন নামে এক নতুন ভোটারও প্রাণ হারিয়েছেন, সে কথা তো উনি ভুলেই গিয়েছেন। এক বিন্দু অশ্রুপাত করেননি তাঁর জন্য। মৃত্যু নিয়েও উনি তোষণের রাজনীতি করছেন। মৃত্যুর চেয়েও এটা বেশি দুঃখজনক।”

প্রসঙ্গত, শনিবার, চতুর্থ দফার ভোটের দিন শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের জোড়পাটকির-১ নম্বর বুথের কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান স্থানীয় হামিদুল হক, মনিরুল হক, সামিউল মিঞা, আমজাদ হোসেন নামে চারজন যুবক। শনিবার সকালেই পাঠানটুলি এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়ে বুথ থেকে বেরনোর পরই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিতে মৃ্ত্যু হয় আনন্দ বর্মন নামে নতুন ভোটারের। তিনি বিজেপি সমর্থক বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার।

Advertisement

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন,‘‘চার সংখ্যালঘু যুবকের প্রাণহানি নিয়ে ঠিক যতটা সরব তৃণমূল নেত্রী, ততটাই উদাসীন আনন্দ বর্মন একজন রাজবংশী যুবকের মৃত্যুতে। অথচ আনন্দর পরিবারেও একই শোক। তাঁদেরও পাশে থাকা প্রয়োজন।’’এমন গুরুতর অভিযোগের উত্তরে তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যসভার উপ দলনেতা সুখেন্দুশেখর রায় দাবি করেছিলেন,‘‘বিভাজনের রাজনীতিকে উস্কে দিয়ে ফায়দা তুলতে চাইছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদের নেত্রী উত্তরবঙ্গের জোড়া সভা করতে গিয়ে প্রত্যেকটি সভাতেই নিহতদের সকলকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।’’আর রবিবার রাতে নেটমাধ্যমে ছবি-সহ বিবৃতি দিয়ে ডেরেক কাঠগড়ায় তুললেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

Advertisement