Advertisement
E-Paper

জোটের বার্তা নিয়ে মুরারইয়ে সনিয়া গাঁধী

চাপ এসেছিল নিচুতলা থেকে। তার প্রভাবে বৃহত্তর লক্ষ্যে ‘মানুষের জোট’ গড়েছেন দু’পক্ষের নেতারা। এ বার সেই জোট-বার্তা জোরাল করতে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীর সভায় থাকতে চলেছেন বামেদের নেতারাও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৬ ০১:৩১
মুরারইয়ের পশুহাট ময়দানে সভার প্রস্তুতি।— নিজস্ব চিত্র

মুরারইয়ের পশুহাট ময়দানে সভার প্রস্তুতি।— নিজস্ব চিত্র

চাপ এসেছিল নিচুতলা থেকে। তার প্রভাবে বৃহত্তর লক্ষ্যে ‘মানুষের জোট’ গড়েছেন দু’পক্ষের নেতারা। এ বার সেই জোট-বার্তা জোরাল করতে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীর সভায় থাকতে চলেছেন বামেদের নেতারাও। কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে সভায় ভিড় করবেন বাম-কংগ্রেস দু’পক্ষেরই লোকজন।

বুধবার মুরারইয়ের নতুন বাজার এলাকায় পশুহাট ময়দানে হবে সনিয়ার ওই সভা। আর ওই সভাতেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জেলা বামফ্রন্ট নেতৃত্ব-সহ বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীদের। সনিয়ার সভার দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি-র কো-অর্ডিনেটর দুর্গেশ পটেল সোমবার বলেন, ‘‘মুরারই এলাকায় সনিয়া গাঁধী এর আগে কোনও সভা করেননি। তাই বীরভূমে কেবলমাত্র ওই একটি জায়গাতেই সনিয়াজির সভার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সনিয়ার সভা উপলক্ষে গত ২৯ মার্চই বীরভূমে চলে এসেছেন দুর্গেশ। তাঁর দাবি, সনিয়া গাঁধীর সভায় রাজ্যের বাম-কংগ্রেস জোটের নেতৃত্বেরাও উপস্থিত থাকবেন। জোট-প্রার্থীদের সকলকেই ওই সভায় থাকার জন্য বলা হয়েছে। মালদহের সুজাপুরে সভা শেষ করে দুপুর ১টা নাগাদ সনিয়া গাঁধীর মুরারই পৌঁছনোর কথা।’’

ঘটনা হল, এ বারের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে এই প্রথম প্রচারে আসছেন সনিয়া। এর আগে কংগ্রেস শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রাহুল গাঁধী সভা করে গিয়েছেন। প্রথম দফার ভোটের আগে প্রচারে এসে বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চলে দু’টি ও বাঁকুড়া জেলায় একটি সভা করেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি। দু’টি সভাতেই উপস্থিত ছিলেন বাম নেতারা। সভা ভরাতে কংগ্রেসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করেন বাম নেতৃত্বও। রাহুলের ওই সভাগুলিতেই দেখা যায় কর্মীরা দু’হাতে হাত চিহ্ন ও কাস্তে-হাতুড়ির পতাকা নিয়ে নাচানাচি করছেন। পাশেই আর এক দল সিপিএমের পতাকা নিয়ে নাচছেন। জোটের এমন বার্তা দেখে রাহুল বলেছিলেন, “মমতার পক্ষে এই ভোট সহজ নয়। ওরা হারবে। জনতাও তাই চায়। এখানে যে সরকার হবে, তা হবে মানুষের সরকার। সবার সরকার হবে।’’ উচ্ছ্বসিত জনতা কেউ বন্দেমাতরম, কেউ ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে তাঁদের খুশি ব্যক্ত করেন। বীরভূমে সনিয়ার সভাতেও একই দৃশ্য দেখার আশায় রয়েছে দু’পক্ষই।

এ দিকে পুলিশ সূত্রের খবর, সনিয়ার সভার মাঠে প্রায় এক লক্ষ মানুষ ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুরারই সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকা, মুরারই-রাজগ্রাম রাস্তা, মুরারই-মিত্রপুর রাস্তা, মুরারই–চাতরা রাস্তায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সভায় প্রায় তিনশো পুলিশ কর্মী থাকবেন। এ দিনই মাঠে গিয়ে দেখা গেল ডেকোরেটার্স কর্মীরা নানা জায়গায় বাঁশ লাগানোর ব্যবস্থা করছেন। ১৬-২০ বর্গফুটের মঞ্চ তৈরিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। মঞ্চে বাম-কংগ্রেস, দু’পক্ষেরই দলীয় পতাকা রাখার কথা ভাবা হয়েছে। আত্মবিশ্বাসী জেলা কংগ্রেস সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি বলেন, ‘‘কংগ্রেস প্রার্থী এবং কর্মী-সমর্থক ছাড়াও বামফ্রন্টের সমস্ত স্তরের কর্মীরা জেলার জোট-প্রার্থীদের সমর্থনে সনিয়া গাঁধী সভার ডাক দিয়েছেন। ওই সভা থেকেই এই জেলায় তৃণমূলের শেষের শুরু হবে।’’

বীরভূম জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মনসা হাঁসদা এ দিন জানিয়েছেন, সনিয়া গাঁধীর সভায় জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শেখ ইসলাম উপস্থিত থাকবেন। প্রার্থীরা নিজের নিজের এলাকায় প্রচারে ব্যস্ত থাকায় সভায় তাঁদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা কম। এ দিকে, সনিয়ার সভার পরের দিনই ওই একই মাঠে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সভা হওয়ার কথা বলে তৃণমূল সূত্রের খবর।

assembly election 2016 congress Sonia Gandhi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy