কখনও শাহরুখ-ক্যাটরিনা জুটি, কোথাও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে অ্যাকশন দৃশ্য, পর্দায় তারকার মেলা, তবু বক্সঅফিসে ভরাডুবি! রইল এমনই ১৫ ছবির তালিকা
তারকার ভিড়, বিশাল বাজেট বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচার— সব সময় যে সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না, এই ছবিগুলিই তার বড় উদাহরণ। শেষপর্যন্ত দর্শকের মন জয় করতে না পারলে এক ছবিতে অজস্র তারকাও বক্সঅফিসে ভরাডুবি এড়াতে পারেন না।
ঠগস অব হিন্দোস্তান (২০১৮): আমির খান ও অমিতাভ বচ্চনের মতো দুই তারকাকে একসঙ্গে নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই ছবিটি। মুক্তির আগে ছিল বিপুল প্রত্যাশা। ছবিতে আমির ও অমিতাভ ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন ক্যাটরিনা কইফ, ফাতিমা সনা শেখ। কিন্তু দুর্বল চিত্রনাট্য ও দর্শকের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জেরে ছবিটি বড়সড়ো ব্যর্থতায় পরিণত হয়।
কলঙ্ক (২০১৯): কর্ণ জোহর প্রযোজিত এবং পরিচালিত অন্যতম ‘বড় বাজেট’-এর ছবি কলঙ্ক। আলিয়া ভট্ট, বরুণ ধবন, সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত, আদিত্য রায় কপূর ও সোনাক্ষী সিন্হার তারকাখচিত উপস্থিতি, কিয়ারা আডবাণীর ক্যামিয়ো, ঝলমলে পোশাক-সেট, একাধিক গান থাকা সত্ত্বেও বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে ছবিটি।
বড়ে মিঞা ছোটে মিঞা (২০২৪): প্রথম সারির তাবড় অভিনেতাদের নিয়ে এই ছবি তৈরি করেছিলেন অলী অব্বাস জ়ফর। বিভিন্ন চরিত্রে দেখা গিয়েছিল অক্ষয় কুমার, টাইগার শ্রফ, পৃথ্বীরাজ সুকুমারন, সোনাক্ষী সিন্হা ও মানুষী চিল্লরকে। এত তারকার উপস্থিতি সত্ত্বেও বিপুল বাজেটের এই ‘অ্যাকশন’ ছবি বক্সঅফিসে প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়।
বম্বে ভেলভেট (২০১৫): এই ছবি নিয়ে এখন নিজেই মজা করেন পরিচালক কর্ণ জোহর। অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত ‘বম্বে ভেলভেট’ ছবিতে অভিনেতা কর্ণ একেবারেই প্রশংসিত হননি। বরং সমালোচিত হয়েছিলেন। কর্ণ ছাড়াও ছবিতে দেখা গিয়েছিল রণবীর কপূর, অনুষ্কা শর্মাকে। সেই সঙ্গে ছিলেন কেকে মেনন, ভিকি কৌশল, ভিভান শাহ, রবীনা টন্ডন, সত্যদীপ মিশ্র, নীতি মোহনের মতো একাধিক অভিনেতা। এই ‘পিরিয়ড ড্রামা’ নিয়ে দর্শকের বিপুল আশা ছিল। কিন্তু এই ছবি বলিউডের অন্যতম ‘ফ্লপ’ ছবির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
সম্রাট পৃথ্বীরাজ (২০২২): ‘পিরিয়ড ড্রামা’ মানে অনেক সাজসজ্জা। বড় সেট। কোটি টাকার বাজেট। ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’ ছবিটিও অনেক টাকা খরচ করে তৈরি করেছিলেন অক্ষয় কুমার। বিতর্কও হয়েছিল। কিন্তু বক্সঅফিসে সে ভাবে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি এই ছবি। অক্ষয় ছাড়া এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সঞ্জয় দত্ত, সোনু সুদ, মানুষী চিল্লর-সহ আরও অনেকে। কিন্তু তাতেও একেবারেই ভাল ফল করেনি এই ছবি।
আরও পড়ুন:
রেস ৩ (২০১৮): সলমন খান মানে ‘হিট’। একটা সময় এ কথাই বিশ্বাস করতেন সকলে। ইদ মানেই প্রেক্ষাগৃহে আসবে সলমনের ছবি— উত্তেজিত থাকতেন অনুরাগীরা। কিন্তু সলমন, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ় জুটির ‘রেস ৩’ একেবারেই মন জয় করতে পারেনি দর্শকের। এই ছবিতে এ ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন অনিল কপূর, ববি দেওল, ডেইজ়ি শাহ-সহ অনেকেই। কিন্তু প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি ছবিটি।
জ়িরো (২০১৮): বক্সঅফিসে ‘যব হ্যারি মেট সেজল’-এর ব্যর্থতার পরে শাহরুখ খানের ‘কামব্যাক’ ছবি হবে ‘জ়িরো’— মনে করেছিলেন অনুরাগীরা। অন্য ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল কিং খানকে। বাড়তি পাওনা ছিল অনুষ্কা শর্মা এবং ক্যাটরিনা কইফের উপস্থিতি। ‘যব তক হ্যায় জান’ ছবির তিন তারকা ফের একসঙ্গে এক ছবিতে এলেও বক্সঅফিসে লাভের মুখ দেখতে পায়নি এই ছবি। এর পরে প্রায় বছরচারেক কোনও ছবিতে কাজ করেননি শাহরুখ।
পানিপথ (২০১৯): অভিনেতা অর্জুন কপূরের অভিনয়জীবনে ‘হিট’-এর থেকে নাকি ‘ফ্লপ’-এর সংখ্যাই বেশি। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কানাঘুষো এমনই শোনা যায়। ‘পানিপথ’ ছবিটি নিয়ে তাই খুবই আশা ছিল অর্জুনের। বিপুল প্রচার করেছিলেন। আশুতোষ গোয়ারীকর পরিচালিত ছবি। অর্জুনের সঙ্গে ছিলেন সঞ্জয় দত্ত, কৃতি সেনন, জ়িনত আমন-সহ অনেকেই। বড় বাজেটের ছবি হওয়া সত্ত্বেও হতাশাজনক ব্যবসা করে ছবিটি।
লাল সিং চড্ঢা (২০২২): এই ছবির শুটিংয়ের সময়ই দ্বিতীয় বার মা হওয়ার খবর শুনিয়েছিলেন করিনা কপূর খান। করিনার জন্য ছবির শুটিং অনেক দিন পিছিয়ে দিয়েছিলেন আমিক খান। জনপ্রিয় ‘ফরেস্ট গাম্প’ ছবির আধারে এই ছবি তৈরি করেছিলেন আমির খান। কিন্তু বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে এই ছবি।
আরও পড়ুন:
শমশেরা (২০২২): ‘যশরাজ ফিল্মস’ প্রযোজিত ‘শমশেরা’ ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা ছিল বিপুল। অভিনেতা রণবীর কপূর ও সঞ্জয় দত্তকে একসঙ্গে পর্দায় দেখার জন্য উত্তেজিত ছিল দর্শক। সঙ্গে ছিলেন বাণী কপূর। অ্যাকশনে ভরপুর এই ছবি বক্সঅফিসে বিন্দুমাত্র লাভের মুখ দেখেনি।
৮৩ (২০২১): ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের জয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল ‘৮৩’ ছবিটি। ওই ছবিতে কপিল দেবের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রণবীর সিংহ। তাঁর স্ত্রী ছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। প্রায় ২৬০ কোটি টাকা বাজেটের ছবিতে তাহির রাজ ভাসিন, সাকিব সলিম, ওয়ামিকা গব্বির মতো অনেকেই। বিপুল প্রচারও হয়েছিল ছবির। কিন্তু বক্সঅফিস থেকে ছবি তৈরির খরচও তুলতে পারেনি ‘৮৩’।
দ্রোণ (২০০৮): অভিষেক বচ্চন, প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ও কেকে মেনন অভিনীত এই ‘ফ্যান্টাসি’ ছবি নিয়ে প্রথমে উত্তেজিত ছিল দর্শক। কিন্তু মুক্তির পর দর্শকের একেবারেই মনে ধরেনি ছবির কাহিনি। নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় খুবই ক্ষতি হয়েছিল এই ছবির।
ব্লু (২০০৯): রহস্য, রোমাঞ্চ নিয়ে কাজ করতে নাকি তিনি ভালবাসেন। এ কথাই বার বার বলেছেন অক্ষয় কুমার। ২০০৯ সালে তাই তৈরি করেছিলেন ‘ব্লু’ ছবিটি। যে ছবিতে অক্ষয় ছাড়াও ছিলেন সঞ্জয় দত্ত, জ়ায়েদ খান ও লারা দত্ত। কিন্তু ছবিমুক্তির এক দিন পরেও কোনও প্রভাব দেখা যায়নি বক্সঅফিসে।
এলওসি কার্গিল (২০০৩): সঞ্জয় দত্ত, অজয় দেবগন, সুনীল শেট্টী, সইফ আলি খান, অভিষেক বচ্চন-সহ অনেক তারকাকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল দেশাত্মবোধক এই ছবি। যে ছবির গান এখনও দর্শকের মনে গেঁথে। কিন্তু দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল এই ছবি।
যুবরাজ (২০০৮): সলমন খান, অনিল কপূর, ক্যাটরিনা কইফ, জ়ায়েদ খান ও বোমান ইরানি — ‘যুবরাজ’ ছবিতে ছিলেন বলিউডের প্রথম সারির অনেক তারকাই। কিন্তু তারকাখচিত ছবি হওয়া সত্ত্বেও বক্সঅফিসে হতাশাজনক ফল করে এই ছবি। ৪৮ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি ছবিটি মাত্র ৩১ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল বলে শোনা যায়।