২০২৪ সালে একটি ছোট্ট ‘ট্রেলার’ দেখিয়েছিলেন বলে দাবি! তাতেও নাকি হুঁশ ফেরেনি পঞ্জাবি গায়ক বাদশার? শনিবার সমাজমাধ্যমে লরেন্স বিশ্নোইয়ের তরফ থেকে হুমকিবার্তা তাঁকে। বার্তায় লেখা, “আমরা সরাসরি তোমার কপালে গুলি করব!”
শনিবার রণদীপ মালিক অনিল পণ্ডিত-এর অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকিবার্তাটি পোস্ট করা হয়েছে বলে খবর। রণদীপ নিজেকে বিশ্নোই দলের লোক বলে দাবি করেছেন। দেখতে দেখতে সেই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। ফের আতঙ্কে থমথমে বলিউড। বাদশার গাওয়া সাম্প্রতিক মিউজ়িক ভিডিয়ো ‘টটীরী’ নিয়েই যত গোলযোগ। এই গান যে তাঁর প্রাণ সংশয়ের দিকে ঠেলে দেবে, এ কথা গায়কের কল্পনাতেও বোধহয় আসেনি।
যদিও লরেন্স বিশ্নোইয়ের গ্যাংয়ের নজরে বাদশা এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে প্রথম তিনি আক্রান্ত হন। সে কথারও উল্লেখ রয়েছে হুমকিবার্তায়। ওই বছর কুখ্যাত গ্যাংস্টারের দল ভোর রাতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২৬ এলাকায় দুই নাইটক্লাবের সামনে বিস্ফোরণ ঘটায়, যার মধ্যে একটির লক্ষ্য ছিলেন মালিক বাদশা। দিন কয়েক আগেই নাইটক্লাবের জন্য গায়কের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে ফোন করেছিল গ্যাংস্টার ঘনিষ্ঠ দল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি বাদশা। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে রণদীপ লিখেছেন, “বাদশা, তুমি হরিয়ানার সংস্কৃতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছ। ২০২৪ সালের শুরুতে আমরা তোমার ক্লাবে তোমাকে একটি ট্রেলার দেখিয়েছিলাম। এ বার আমরা তোমাকে সরাসরি কপালে গুলি করব।”
বাদশাকে খুনের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি পানিপথে গ্যারি এবং শ্যাঙ্কির অফিসে গুলি চালানোর দায়ও স্বীকার করা হয়েছে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাওয়ালাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্যাং এর আগেও হাওয়ালা কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত সবাইকে সতর্ক করেছে।
খবর, ‘আয়া বাদশা ডোলি চড়ানে, ইন সবকি ঘোড়ি বানানে’, ‘টটীরী’ গানের এই পংক্তিই সকলের ক্ষোভের কারণ। সমালোচকদের দাবি, হরিয়ানার নারীদের অশ্লীল এবং অসম্মানজনক ভাবে চিত্রিত করা হয়েছে গানটিতে। বিশেষ করে এই পংক্তিতে। তাঁদের মতে, গানটির কথা নারীদের বস্তুনিষ্ঠ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা হরিয়ানভি সংস্কৃতিকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করেছে। এই কারণেই বিভিন্ন সংগঠন থেকে বাদশার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানানো হয়েছে। হরিয়ানার মহিলা কমিশন গায়কের গ্রেফতারি চেয়ে সরব হয়েছে।