Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

চল আড্ডায় সাজি হোয়াট্সঅ্যাপ

২০ এপ্রিল ২০১৫ ০০:০১

এখানে ‘বন্ধু চল’ বললেই হয়।

ব্যস! মাঠ জুড়ে থাকা মনকেমনেরা সব ভ্যানিশ!

সকাল, দুপুর, বিকেল, রাত— যখন ইচ্ছে, যেখানে খুশি। খোলা হাওয়া আর অনেকটা রং। বন্ধুত্বের রং। অফুরান আড্ডা, খুনসুটি, সুখ-দুঃখ। স-অ-ব।

Advertisement

সৌজন্য হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ। যে ঠিকানায় এক হয়ে যায় কলকাতা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, দিল্লি থেকে মেলবোর্ন। ফেলে আসা বাড়ি, আত্মীয়স্বজন কিংবা স্কুল-কলেজের দিনগুলোর হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা। হুড়মুড়িয়ে বইতে থাকে গল্পের স্রোত।

ফেসবুকের পরে হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ। বন্ধুত্বের এটাই তবে নতুন ঠিকানা? তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ব্যস্ত কর্পোরেট সাত্যকি, ব্যাঙ্ক অফিসার অহনা কিংবা কলেজপড়ুয়া তিথি সকলেই একবাক্যে বলে ফেলেন, ‘‘নিশ্চয়ই। ফেসবুক যদি বাজার হয়, এটা তবে ঘরের কোণ। একেবারে বন্ধুরা মিলে জমিয়ে বসে আড্ডার মতো। এক বার লিখে ফেললে একসঙ্গে সবাইকে বলা হয়ে যায়, আবার হাটখোলাও হয় না, স্রেফ নিজেদের মধ্যেই। এখন তো এখানেই আড্ডা থেকে দেখা সাক্ষাতের প্ল্যানিং সবই সেরে ফেলি।’’



যাদবপুর ইউনিভার্সিটির গণ্ডী পেরোনোর বহু বছর পরে ফের একসাথে জুটে গিয়েছেন অনিন্দিতা, সংহিতা, সুমন, শঙ্খ, অভীক, দেবর্ষি, ঐন্দ্রিলা, উপালি, সোহিনীরা। কেউ দিল্লি, কেউ কলকাতা, কেউ বেঙ্গালুরু। কেউ শিক্ষিকা, কেউ ব্যাঙ্কে আছেন, কেউ বা আদ্যন্ত কপোর্রেট। তবু প্রত্যেকেই এখন একে-অন্যের রোজনামচার খবর রাখেন। সৌজন্যে হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ। ‘‘কাজের চাপে হোয়াট্‌সঅ্যাপ দেখা হয়ে ওঠে না সব সময়ে। এক এক বারে তিন চারশো মেসেজ জমে যায়। কিন্তু পড়তে শুরু করলেই এতক্ষণের জমে থাকা ক্লান্তি, টেনশন-টন সব হাওয়া। পুরনো দিনগুলোয় ফিরে গিয়ে নিমেষে ফুরফুরে। আমাদের গ্রুপে কিন্তু টাইপো-র যুদ্ধ চলে। আর তার পরে সেই সব ভুলভাল লেখা নিয়ে আর এক প্রস্ত ঠাট্টাইয়ার্কি। গ্রুপটার জন্যই মন খুলে হাসাও হয় আজকাল। দেখাসাক্ষাতের উৎসাহটাও রীতিমতো বেড়ে গিয়েছে কিন্তু।’’— প্রত্যেকের বক্তব্যই মোটামুটি এক।

শুধু কি আড্ডা আর বন্ধুত্ব? মোটেই না। হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ কিন্তু অফিসের কাজ, প্ল্যানিংয়ের নতুন কনফারেন্স রুমও বটে। কর্পোরেট অফিসই হোক বা টিচার্স রুম, হাসপাতাল থেকে ব্যাঙ্ক, মিডিয়া হাউস থেকে রুপোলি জগৎ— নিজের টিমের সঙ্গে কাজের কথা সেরে নিতেও আজকাল বেশির ভাগই ভরসা রাখছেন হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপেই। কারণটাও সেই এক। সকলকে জুটিয়ে মুখোমুখি বসার সময়টুকু অপেক্ষা করারও আর দরকার নেই। গ্রুপে লিখে ফেললেই হল। যে যার মতামত জানিয়ে দিতে পারছেন সেখানেই। ব্যস কেল্লাফতে।

সল্টলেকের এক সংস্থায় টিম লিডার অনির্বাণ। ‘‘প্রজেক্টের কাজ নিয়ে জরুরি কথার্বাতা আজকাল এখানেই শুরু করে দিই। কাজটাও এগোয় তাড়াতাড়ি। বড্ড সুবিধা হয়েছে। গুরুগম্ভীর কথাবার্তা তো শুধু নয়, জোক্‌স শেয়ার করা, পিছনে লাগা— সবই দিব্যি চলে।’’ বলছেন তিনি।

ভাবছেন পুরোটাই তবে উইন-উইন সিচুয়েশনের চেনা গল্প?

“এক জায়গায় কথা হয়ে যায় সবার সঙ্গে। আর শ্যুট থেকে প্রোমোশন—
দরকারি কথা একটা গ্রুপ বানিয়েই সেরা ফেলা যায় আজকাল”

লগ্নজিতা (গায়িকা)

উহুঁ, বিরক্তি আছে, রাগ আছে, হতাশা আছে। আছে অপছন্দের গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যেতে না পারার ক্ষোভও।

‘‘প্রচণ্ড কাজের চাপ। তার মধ্যে ফোনটা বিপ বিপ করেই চলেছে। উফ! তখন মনে হয় বাকিদের কি কারও কাজকর্ম নেই?’’ বলছেন ব্যস্ত কর্পোরেট জয়িতা। স্কুলশিক্ষিকা অনিন্দিতার আবার একটু রাগও হয়ে যায় মাঝেমধ্যে— ‘‘যে কেউ আমার পারমিশন ছাড়াই যে কোনও গ্রুপে অ্যাড করে ফেলে। এটা বেশ মুশকিলের। আবার মেসেজের ভারে ফোন হ্যাং করে গেলে ডিলিট করা যাবে না, অমনি গ্রুপ থেকেই আউট। তার পরে আবার বলেকয়ে গ্রুপে ঢোকার ব্যবস্থা কর!’’ দিনভর মেসেজের চক্করে মাঝেমধ্যে যে কাজকর্মও শিকেয় ওঠার দশা হয়, সেটাও মনে করিয়ে দেনে ব্যবসায়ী অভীক। ‘‘আর এই যে ২৪ ঘণ্টা হাতের স্মার্টফোনেই সেঁটে থাকে চোখ, সেটাই কি কম ভয়ের? বৌ-এর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া লেগে যায় যে,’’ হাসতে হাসতেই বলে ফেলেন বছর পাঁচেক বিবাহিত জয়দীপ।

আর অপছন্দের গ্রুপ থেকে বেরোতে না পারা? ‘‘ইশ, কী যে ফ্রাস্ট্রেটিং! শ্বশুরবাড়ির এই জেনারেশন— মানে দেওর, ননদ, ভাশুর, জা সব আছে। মাঝেমধ্যে এত গোলমেলে বা হাবিজাবি কথা হয়! বিরক্ত হই, তবু গ্রুপ থেকে বেরোব আর কী করে? এই নিয়েই হয়তো বাড়িতে ঝামেলা লেগে যাবে!’’ অকপট বলে দেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, পঁয়ত্রিশের কর্মব্যস্ত যুবতী।

হ্যাঁ, সমস্যা আছে, তবু দমকা হাওয়ার মতো ভাললাগাও তো আছে। সেটুকুই আঁকড়ে থাকেন ওঁরা।

বন্ধু, যাদের সঙ্গে দেখা হয় না রোজ।

তারা হোয়াট্‌সঅ্যাপে থাকে।

আরও পড়ুন

Advertisement