তারকা হয়েও একেবারে সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ তাঁর। স্বয়ং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে বলেন, তাঁর অভিনয় ঈর্ষনীয়। নাটকের মঞ্চ থেকে সমাজমাধ্যম, নায়ক বিশ্বাস করেন পারফরম্যান্সে। ‘নধরের ভেলা’ নিয়ে এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছেন, তিনি ঋত্বিক চক্রবর্তী। সম্প্রতি ‘ফেরা’ ছবিতে কাজ করলেন তিনি। তাঁর বাবার চরিত্রে সঞ্জয় মিশ্র। সেই অভিজ্ঞতা, ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা, প্রেমের ভাষা থেকে পেরেন্টিং নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় ঋত্বিক চক্রবর্তী।
প্রশ্ন: রাজ্যে পালাবদল হয়েছে, পরিবর্তন লক্ষ করছেন?
ঋত্বিক: আশায় আছি। একটা অদ্ভুত সময় শেষ হয়েছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারেই ভাল পরিবেশ ছিল না। ভয়ের পরিবেশ ছিল। ব্যান, ব্যান কালচার ইন্ডাস্ট্রির অংশ হয়ে গিয়েছিল। আশা করছি, রাজনীতিশূন্য একটা ইন্ডাস্ট্রি পাব। বিশেষ করে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতিকরণ হবে না, এমন আশা করছি।
প্রশ্ন: রাজনীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি পেয়েছেন কখনও?
ঋত্বিক: তৃণমূল আসার আগে থেকেই কাজ করছি। কাজ করতাম, কাজ করে চলে যেতাম। কিন্তু, তখন পেশাদার হিসাবেও নতুন ছিলাম, সবটা যে বুঝতাম, তা-ও নয়। কিন্তু, একেবারেই এ রকম পরিস্থিতি কোনওদিন ছিল না।
প্রশ্ন: কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল আপনার?
ঋত্বিক: আসলে পরিবেশটাই অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। কিছুটা অসুবিধা তো হয়েইছে। ছবি রিলিজ় হওয়ার পর তা কতদিন থাকবে, ক’টা হল পাবে তা নিয়েও নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। আসলে যে পরিস্থিতি হয়েছিল শেষের দিকে, আমি আগে ইন্ডাস্ট্রিতে এমন দেখিনি। আগে সরাসরি রাজনীতির যোগ ছিল না। বহু সিনিয়রের কাছ থেকে গল্পও শুনেছি। তাঁরাও বলেন, এমন কখনও হয়নি।
প্রশ্ন: ‘নধরের ভেলা’ নিয়ে বিভিন্ন প্রান্তে আপনারা পৌঁছোচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতা তো একেবারে আলাদা? ছবি মুক্তির ক্ষেত্রেও কি বাধা পেয়েছিলেন?
ঋত্বিক: ‘নধরের ভেলা’-র ক্ষেত্রে বিষয়টা এতটা সরল নয়। কিছুটা কারণ ছিল অবশ্যই। আসলে ছবির পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য আগের দুটো ছবিতে এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। তাই অনেকেই বলছেন কেন হলে আনলেন না? আসলে এমন এমন জায়গায় আমরা পৌঁছেছি যেখানে প্রেক্ষাগৃহই নেই। ছবি তৈরি করার সময় থেকেই আমরা ঠিক করেছিলাম কী ভাবে এগোব। আসলে সুড়ঙ্গ কেটে পালিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য পথ খোঁজা একেবারেই নয়, একেবারে ছবির ভবিষ্যৎ ভাল হবে ভেবেই এই প্রচেষ্টা ছিল আমাদের। আসলে ছবিটা ভাল হতে হয়। এর মধ্যে অনেক বাংলা ছবি মানুষ ভালবেসেছেন। এর কোনও ফর্মুলা তৈরি হয়নি এখনও। আমরাও এই নতুন পদ্ধতি বুঝতে বুঝতেই যাচ্ছি।
‘নধরের ভেলা’-র স্ক্রিনিংয়ে পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য, সাত্যকি চট্টোপাধ্যায় ও ঋত্বিক চক্রবর্তী ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন: ‘ফেরা’ ছবিতে আপনি পলাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এই চরিত্রের মুখে একটা জায়গায় আছে, যে জীবনটা দেখতে চেয়েছিলাম আজ সেখানে পৌঁছে বড় শূন্য মনে হচ্ছে। ঋত্বিক চক্রবর্তীর কখনও এমন মনে হয়েছে?
ঋত্বিক: আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ। এই ছবিতে আমার চরিত্রের নাম পলাশ। যদিও ওঁর কাছে সফলতার যা মানে, আমার কাছে সফলতার মানে আলাদা। আমি যে জীবন দেখতে চেয়েছি সেই জীবনের মধ্যে দিয়েই যাচ্ছি। কত দিন পারব সেটা সময় বলবে।
প্রশ্ন: আপনি তো তারকা হয়েও সাধারণ জীবনযাপনেই বিশ্বাসী, শিকড় ছুঁয়ে থাকতে ভালবাসেন?
ঋত্বিক: আসলে অল্পে খুশি থাকো, এই কথাটা মুখে বললেই হয় না। আর কাউকে শেখানোও যায় না। আসলে খুশি থাকতে হয়। আমি সত্যিকারের খুশি থাকতে পারছি। না হলে অনেক ভাল কথাই তো বইয়ের পাতায় লেখা থাকে। কথাটা বললে তা হৃদয়ঙ্গমও করতে হয়। মানে এই যে, ‘কদাচ মিথ্যা কথা বলিও না’, এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু যিনি হৃদয়ঙ্গম করেছেন তিনি বলছেন না। এ ভাবেই মানুষ তৈরি হয়। আমরা তাই, আমরা যা চাই। এই চাহিদাগুলোই জোর করে হয় না। যা চেয়েছি তা করতে করতেই গিয়েছি। কিছু পাইনি, কিছুটা পেয়েছি।
প্রশ্ন: ছেলের মধ্যেও এই বোধ আছে?
ঋত্বিক: এই বোধ তৈরি হওয়ার পক্ষে ও একটু ছোট। তবে ওর মাথার উপর এখন বাবা-মা রয়েছে। ও যা যা চায় আমরা দেওয়ার চেষ্টা করি। এখন পাক। এর পর ওর জীবন ওকে শেখাবে। আমরা চাই ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসাবে গড়ে উঠুক। নিজের ভাল ছাড়াও অন্য মানুষের ভাল দেখতে পাক। সমস্ত মত শোনার মতো মন উদার হোক। সব মত না শুনলে নিজের উত্তরণ হয় না। তাই কানটা খোলা রাখুক। আর মনটাও খোলা রাখুক। তার পর তো সব মানুষই তার নিজের মতোই হয়।
প্রশ্ন: ‘ফেরা’র মাধ্যমে ঋত্বিক কোথায় ফিরলেন?
ঋত্বিক: কোথায় ফিরলাম ঠিক জানি না। এ ছবি খুব স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে রইল। সঞ্জয় মিশ্রের সঙ্গে কাজ করতে পারলাম। তিনি এমন একজন অভিনেতা, আমি অনেক ছবির নাম হয়তো জানতাম না। কিন্তু ওটিটি-তে খুঁজতে খুঁজতে সঞ্জয় মিশ্রের ছবি দেখে সিনেমাটা দেখেছি। আমি ওঁর খুব ভক্ত। ছবির মাধ্যমে আমাদের মধ্যে একটা ব্যক্তিগত সখ্যও হল। কোথায় ফিরলাম জানি না, তবে এটা পেলাম।
‘ফেরা’ ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে ঋত্বিক চক্রবর্তী, সোহিনী সরকার এবং সঞ্জয় মিশ্র ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন- ছবিতে বাবা-ছেলের গল্প, অভিনয়ের সময় আপনার বাবার কথা নিশ্চয়ই মনে পড়েছে?
ঋত্বিক: আসলে আমরা অভিনয়ের সময় কিছুটা নিজেদের মধ্যে ডুব দিয়েই চরিত্র খুঁজি। সব চরিত্র যে আমার জীবনের অভিজ্ঞতায় আছে, বা সব চরিত্রকে যে আমি মানসিক ভাবে সাপোর্ট করছি তা নয়। কিন্তু চরিত্রটা বুঝতে হয়। সেই চরিত্রের মধ্যে ডুব দিলে আমি এবং আমার বাবাই পড়ে থাকেন। পলাশের বাবার ক্ষেত্রে সহ- অভিনেতাই কিন্তু বাবা হিসাবে ধরা দেবেন। তাঁর চোখ দেখেই সেই অনুভূতি হবে। আর সঞ্জয় মিশ্রের থেকে আমি তা ক্রমাগত পেয়েছি। আমাদের মধ্যে কোনও অদৃশ্য দেওয়াল ছিল না। প্রথম দিন থেকেই আমরা খুবই সহজে মিশেছি, গল্প করেছি। কয়েক দিন শুটিংয়ের পর থেকেই একে অপরের সঙ্গে মন খুলে কথা বলেছি। আউটডোরে সঞ্জয়জি মাটন রান্না করেছেন, আমি খেয়েছি। আমিও ওঁকে কলকাতার মিষ্টি খাইয়েছি। সঞ্জয়জিও শুটিংয়ের ফাঁকে শহর ঘুরে বেরিয়েছেন। তার পর আমার জন্য চপ কিনে এনেছেন।
প্রশ্ন: তিনি নিজে এত ভাল বাংলায় ডাবিং করলেন, এর নেপথ্যে কি আপনি?
ঋত্বিক: হ্যাঁ, পুরোটাই সঞ্জয়জি বাংলায় ডাবিং করেছেন। টিম থেকে আলাদা করে এক জন ছিলেন যিনি বাংলা ভাষাটা বুঝিয়েছেন। শুধু তো কথা বললেই হল না, বাংলার আবেগটাও তো বুঝতে হবে। তাঁর কাছে মাতৃভাষা নয়, হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটার মতোই। শুধু তো উচ্চারণ হয়, বাকি অনেক কিছু বুঝতে হবে। সেটা শিক্ষণীয় আমার কাছে। আমার এটাই দেখার ছিল আসলে। তিনি কী ভাবে ভাষায় গণ্ডিটা পেরিয়ে যান। আর তিনি যে ইন্ডাস্ট্রিতে শুটিং করেন সেটা অনেক বড়, সে ক্ষেত্রে এখানে এক দিনে এত দৃশ্যের শুটিং হয়, তিনি কী ভাবে সামলাবেন সেটা দেখতে চেয়েছিলাম। বলিউডে অনেক আরামে কাজ হয়। তিনি এতে কমফোর্টেবল ছিলেন না। আসলে ওঁর বিরক্ত লাগার কথা ছিল। উনি ‘টিমম্যান’ না হয়ে উঠতে পারলে মুশকিল হত। খুব সহজেই তিনি সবটা করলেন। কারও সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার করেননি। পেশাদার অভিনেতা হিসাবে এটা শেখার ছিল।
প্রশ্ন: আপনার অভিনয় ঈর্ষনীয়, আপনার সহ অভিনেতারাই বলেছেন। আপনি কী ভাবে দেখেন?
ঋত্বিক: অভিনয়ের সময় এ সব মাথায় থাকে না। আসলে তখন নিজের কাজেই মগ্ন হয়ে থাকেন সকলে। আমি আমার পাঠ মুখস্থ করার সময় একেবারেই মাথায় আসবে না সঞ্জয়জি কী ভাবে বাংলা বলবেন। বললে বলবেন, বলতে পারলে বলবেন, এমনই মনের অবস্থা থাকে।
প্রশ্ন: সহ-অভিনেতার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক একটা ভাল দৃশ্য তৈরি করায় সাহায্য করে, বিশ্বাস করেন?
ঋত্বিক: হ্যাঁ। তবে সহ-অভিনেতার সঙ্গে একটা কো-অর্ডিনেশন অবশ্যই প্রয়োজন। যেমন আমাদেরএকটা ট্যাক্সির দৃশ্য ছিল। সেখানে পলাশের বাবা শহরে এসে ট্যাক্সি থেকে হাত বাইরে করছেন। আমি দৃশ্যের হঠাৎই ওঁর হাতটা ধরে ট্যাক্সির ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু মহড়ার সময় করিনি। তিনি কিন্তু একটা অভিব্যক্তিতে আরও সুন্দর করে তুলেছেন দৃশ্যটা। সঞ্জয়জি শেষ হতেই বলেছিলেন ‘বহত আচ্ছা হুয়া’। সে ক্ষেত্রে আমাদের অভিনয়ের পথ মিলে গিয়েছে।
‘ফেরা’ ছবির একটি দৃশ্যে সঞ্জয় মিশ্রর সঙ্গে ঋত্বিক চক্রবর্তী ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বার বারই বলেছেন, আপনাকে ঈর্ষা করেন, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ কথা বলতেন..
ঋত্বিক: বুম্বাদার কথাটা অনেক বার শুনেছি। ওটা বুম্বাদার একদমই ভালবাসার প্রকাশ। এ ভাবেই দেখি আমি। ওঁর কাউকে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। এত সিনিয়র তিনি, এত ছবি করেছেন। কাউকে নিয়ে আলাদা করে তাঁর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই কথা শুনে আমি সম্মানিত। খানিকটা কুন্ঠিতও বটে। আর রাহুল বন্ধু ছিল খুব। ও ভালবাসা থেকেই বলেছে।
প্রশ্ন: রাহুলের মৃত্যুর কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তদন্তের উপর কতটা আস্থা রাখছেন?
ঋত্বিক: আশা ছাড়া আমরা আর কীই বা করতে পারি! সে দিন কী হয়েছিল সেটা সকলেই আমরা জানতে চাই। সাধারণ মানুষ হিসাবে, ওর বন্ধু হিসাবে এটাই চাইব। কোথাও এত তাড়াতাড়ি তদন্ত শেষ হয় না ঠিকই। তবে তদন্ত চাই। সদুত্তর পেতেই হবে। নানা কথা উঠে এসেছে। রাহুলের প্রতি অসম্মানজনক অনেক কথা উঠে এসেছে। তাই সঠিকটা জানা সকলের প্রয়োজন। ওঁর পরিবার, বন্ধু সকলেরই জানা উচিত।
প্রশ্ন: সমাজমাধ্যমে মত প্রকাশ করেন, সামনে করেন না?
ঋত্বিক: আসলে আমি সমাজমাধ্যমে যে ভাবে মত প্রকাশ করতে পারি, সে ভাবে সামনে করা যায় না। আমি একটা স্যাটায়ার ফর্মে মত প্রকাশ করি। সেটা লেখার একটা ধরন। সামনাসামনি কথা বললে তো সেটা করা যায় না। ওটাই আমার ফর্ম। আমি ওই ভাবেই কথা বলি।
প্রশ্ন: অচেনা মানুষের কমেন্টের উত্তরও দেন, সেটা কেন?
ঋত্বিক: কখনও কখনও দুষ্টুমি করেও উত্তর দিই। যিনি কমেন্ট করছেন তাঁকে হয়তো কেউ চেনে না। আমি আসলে কমেন্ট দেখে ভাবি যিনি কথা বললেন তাঁর থেকে দশগুণ ভাল করে আমি কথা বলতে পারব। অনেকেই সেই উত্তর দেওয়া পছন্দ করেন। আবার কখনও কখনও মনে হয় তাঁকে হয়তো কেউ চিনতেন না, আমি এক জনের উপর একটু আলো ফেললাম। ৯৮৬টা কমেন্টের মধ্যে হয়তো ওকে কেউ খুঁজে পেত না। আসলে তো সমাজমাধ্যমও ‘কনটেন্ট ড্রিভেন মিডিয়াম’।
প্রশ্ন: আপনার চেহারা নিয়েও কটাক্ষ করেন অনেকে।
ঋত্বিক: অনেকের কমন কথা ‘আপনার কাজ নেই’। তার মানে তিনি হিব্রু সিনেমা দেখেন। বাংলা সিনেমা দেখলে তো জানেন আমার কাজ আছে। আমি সেটুকুই লিখি। আর চেহারা নিয়েও মন্তব্য করেন, কিন্তু এই চেহারা নিয়েই আমি ঋত্বিক চক্রবর্তী। আর ও বেচারা মুখটা ঢেকে রেখেছে। আমি কী আর বলি। যে যেটা নিয়ে কথা বলছে আমি যে তারই উত্তর দিচ্ছি তা কিন্তু নয়। আসলে আমি বললাম বলেই হয়তো তাঁর লেখাটা একটা দাম পেল। না হলে তো তাঁর কথা তাঁরই রয়ে যেত। আর তিনি একটা পেমেন্ট পেতেন, ওই আটআনা পেতেন বোধহয়।
প্রশ্ন: স্ত্রী আপনার কমেন্ট দেখেন? তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়?
ঋত্বিক: না, অপরাজিতা সমাজমাধ্যমে নেই। আলোচনা করি না একদমই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ও টের পায় না। কেউ বললে আলাদা কথা। কেউ হয়তো ফোন করে ওকে সাবধান হতে বলল, সেটা আলাদা। অনেক ক্ষেত্রে দু’-তিন দিন পর খেয়াল করল।
স্ত্রী অপরাজিতা এবং ছেলে উপমন্যুর সঙ্গে ঋত্বিক ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন: স্ত্রীর সঙ্গে এত বছরের বন্ধুত্ব, আরও গাঢ় হচ্ছে সম্পর্ক, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে?
ঋত্বিক: আমাদের বন্ধুত্বটা আসলে সত্যি ছিল, তাই রয়ে গিয়েছে। আলাদা করে কিছু করিনি। বন্ধুত্ব ছিল, ঘটনাচক্রে আমরা স্বামী-স্ত্রীও। ওর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ইন্ডাস্ট্রি নিয়েও কথা হয়। তবে একে অপরের কাজ নিয়ে মতামত না চাইলে দিই না। আর সম্পর্কের প্রেম সব সময় প্রকাশ করি না। কিন্তু প্রকাশ না করলেও যে করছি তা বোঝা যায়। সম্পর্ক আসলে দ্বিপাক্ষিক, যত্ন করতে হয়। একটা বাগানের মতো, তা যত্ন করতে হয়, টিকিয়ে রাখা যায় না। এই যত্নটা বেশি করি আমি। আবার ঝগড়াও হয়। সেখান থেকেও নিজেকে শুধরে নিই। ঝগড়াটা যখন হচ্ছে তখন ফাটিয়ে ঝগড়া করতে হয়। দাম্পত্যকলহ ছোট ছোট বিষয়েই হয়। একটা চামচ না তুললেও ঝগড়া হয়ে যেতে পারে। কারণটা খুঁঁজে পেলে পরের দিন আর ঝগড়া হবে না।
প্রশ্ন: ‘মেল ইগো’ কখনও উঁকি দিয়েছে?
ঋত্বিক: আমরা দু’জন স্বামী-স্ত্রী মিলেমিশে কাজ করি। বাড়ির কাজও ভাগ করে নিই। না হলে দু’জনেরই মুশকিল। আমি বাড়ির বাইরে বড় হয়েছি। ‘মেল ইগো’ পুষলে খালি পেটে থাকতে হত। আমরা তিন ভাই ছিলাম, তিন জনেই পেশার কারণে বাড়ি ফিরেছি। এর আগে হস্টেলে থাকিনি কোনওদিন, নিজে চা-ও বানিয়ে খাইনি কোনওদিন।
প্রশ্ন: বাবার সঙ্গে কাটানো কোন মুহূর্তৃর কাছে আজ ফিরতে চান?
ঋত্বিক: খুব ছোটবেলায় অক্ষরজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বই পড়ার বয়স হয়নি, সেই সময় থেকেই বাবা গল্প পড়ে শোনাতেন। বাংলা, ইংরেজি, অস্কার ওয়াইল্ড পড়তেন, সেই স্মৃতিটা খুব পরিষ্কার। তুলোয় মোড়া, মায়ায় ভরা দিন, ওই দিনগুলোয় ফিরে যেতে চাই। ফিরব বলেই তো ফেরা যায় না, মিস্ করি ওই সময়।
প্রশ্ন: কোন চরিত্রের কাছে ফিরে খানিক বসতে চান তাঁর সঙ্গে?
ঋত্বিক: (খানিক হেসে) আবার যে পারিশ্রমিক দেবে তাঁর কাছে ফিরব। চরিত্রের কাছে পৌঁছোতে গেলে পারিশ্রমিক তো লাগবেই, ওটাই তো অনুপ্রেরণা। (হাসি)
প্রশ্ন: মনখারাপ হলে ঋত্বিক কার কাছে ফেরেন?
ঋত্বিক: মনখারাপ হলে নিজের কাছেই ফিরতে ইচ্ছে করে। যত বড় বড় মনখারাপে আমি নিজেকে অন্য ভাবে খুঁজে পাই। তাই মনখারাপে নিজের কাছেই ফিরব।