বুধবার, ২৪ জুন পাটুলি এলাকায় হাঁটতে বেরিয়েছিলেন অভিনেত্রী রুপালি ভট্টাচার্য। তখনই নাকি হেনস্থার শিকার হন অভিনেত্রী। রুপালির বিস্ফোরক অভিযোগ, মাসখানেক ধরে তাঁর পরিচিত এলাকার পরিবেশ নাকি বদলে গিয়েছে। অভিনেত্রী বললেন, “ছাপোষা বাঙালি পরিবেশ বদলে গিয়েছে।” হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে পাটুলি থানার দ্বারস্থ রুপালি।
ঠিক কী ঘটেছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে? আনন্দবাজার ডট কম-কে রুপালি বলেন, “গত চার বছর ধরে আমি পাটুলির বাসিন্দা। বরাবরই স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন। তাই নিয়মিত হাঁটি। প্রতিদিনের মতো গত বুধবারেও হাঁটতে বেরিয়ে ছিলাম। আসলে সরকার বদলানোর পরে পাটুলিতে জনসমাগম কমতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসগুলো বন্ধ। সেই জায়গাগুলো সব অন্ধকার এখন। নতুন সরকার আসার পরে তো এখনও সবটা থিতু হয়নি। অপরাধীরা সব সময়ে এগুলোরই সুযোগ নেয়।”
পাড়ার মধ্যে হাঁটতে বেরিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, ভাবেননি রুপালি। তিনি যোগ করেন, “হেঁটে আসার সময় অনুভব করলাম গা ঘেঁষে একটি ছেলে সাইকেল চালিয়ে চলে গেল। প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। আর একটু এগিয়ে গেলাম। বুঝলাম, সেই ছেলেটিই আবার সাইকেল ঘুরিয়ে আসছে। তার পর আচমকাই বুকের ডান দিকটা খামচে ধরে! রিফ্লেক্সে আমি ডান হাত দিয়েই ধাক্কা দিই ছেলেটিকে। সেই ধাক্কায় ও পড়ে যায়নি। মাঝখান থেকে আমারই হাতটা কেটে যায় অনেকটা। এতটাই তুখোড় যে, সেই অবস্থায় না দাঁড়িয়ে ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেল। আমি সেই মুহূর্তে চিৎকার শুরু করি। সঙ্গে সঙ্গে আমি পাটুলি থানায় এফআইআর করি। পুলিশের তরফে সহযোগিতাও পেয়েছি। অভিযোগ শুনে তাঁরা আমার সঙ্গে ঘটনাস্থলেও এসেছিলেন।”
এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও সংযোগ আছে? অভিনেত্রীর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনও রাজনৈতিক সংযোগ খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক ডামাডোল, পালাবদলের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে। কারণ, অপরাধীরা এমনই হয়।” কিন্তু এক দিনের ঘটনাতেই শেষ নয়। শুক্রবার, ২৬ জুনও একই ধরনের হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। কিন্তু এই বার আর থানায় যাননি তিনি। অভিনেত্রী বললেন, “কত বার পুলিশের দ্বারস্থ হব? কত বার একই ধরনের অভিযোগ করব?” রুপালির আশা, প্রশাসন কোনও না কোনও পদক্ষেপ করবে।