Advertisement
E-Paper

ভোটপ্রচারের মাঝে শিশুদের দেখলে নিজের ছেলেটার জন্য মনকেমন করে: অদিতি মুন্সী

নতুন মাতৃত্ব, বাড়িতে একরত্তি। এর মাঝে সমাজমাধ্যমে বিরোধীদের চাঁছাছোলা বার্তা, কখনও কটাক্ষ। এ সবের মাঝে নতুন মা অদিতি তিন মাসের পুত্রসন্তানকে বাড়িতে রেখে কী ভাবে সামলাচ্ছেন ভোটপ্রচার?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৮
অদিতি মুন্সী।

অদিতি মুন্সী। ছবি: সংগৃহীত।

প্রথম বার ভোটে দাঁড়িয়েই জয় এসেছিল সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সীর। এ বার সেই একই লড়াইয়ে ফিরেছেন তিনি। রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তিনি। যদিও গত পাঁচ বছরে জীবন অনেকটা বদলেছে। একাধারে শিল্পী ও বিধায়ক হিসাবে দায়িত্ব ছিলই, সঙ্গে যোগ হয়েছে মাতৃত্বের দায়িত্ব।

গত জানুয়ারি মাসে সন্তানের জন্ম হয়েছে। তার এক মাসের মাথাতেই নেমে পড়েন ভোটের প্রচারে। নতুন মাতৃত্ব, বাড়িতে একরত্তি। তার মাঝে বিরোধীদের আক্রমণ। সবই শান্ত মনে সামলাচ্ছেন অদিতি। কড়া রুটিনে বেঁধে নিয়েছেন নিজেকে।

প্রাতরাশ সেরে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েন। তার পরে সারা দিন কাটে তাঁর ভোটপ্রচারে। অদিতি যখন বাড়ি ফেরেন, তখন রাত প্রায় সাড়ে ১০টা-১১টা। কখনও রোডশো, কখনও জনসভা, আবার কোনও সময়ে চড়া রোদেই হুডখোলা গাড়িতে চড়ে প্রচার। সন্তানের জন্মের পরে যে কোনও কর্মরত মহিলা সাধারণত মাসছয়েকের মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। অদিতি এ ক্ষেত্রে উল্টো রাস্তায় হাঁটছেন। ছুটি তো দূরঅস্ত, গ্রীষ্মের ঠা-ঠা রোদ উপেক্ষা করে পুরোদমে ভোটের ময়দানে তিনি। অদিতির কথায়, ‘‘পুরোটাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ। না হলে সন্তানজন্মের এক মাসের মাথায় এ ভাবে ভোটের প্রচার করতে পারতাম না। তা ছাড়াও আছে পরিবারের সাহায্য। সেটা ছাড়া কোনও কিছুই সম্ভব হত না।’’

বাড়িতে সদ্যোজাতকে রেখে বেরিয়ে পড়ছেন অদিতি। দুধের শিশুকে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানোর পুরো দায়িত্বই নিয়েছেন অদিতির মা ও শাশুড়িমা। ছেলের জন্য বোতলে দুধ ভরে রেখে আসেন তিনি। তবে শুধু কি সন্তানের খেয়াল রাখা? নতুন মাকে তো নিজের খাদ্যাভ্যাসেরও খেয়াল রাখতে হয়। কিন্তু, প্রচারে বেরোলে কেউ ভালবেসে মিষ্টি খেতে দেন, কেউ বাড়িয়ে দেন ঠান্ডা পানীয়। সব উপেক্ষা করা যায় কি? অদিতি জানান, ছেলের জন্মের বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই বাইরে খাওয়াদাওয়া সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমার কাছে খাওয়াটা তৃপ্তির বিষয়। যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময়ে খেতে পারি না। আর আমার সন্তানকে যেহেতু স্তন্যপান করাতে হচ্ছে, তাই খাওয়াদাওয়ায় অনেক নিয়ম মেনে চলি।’’

তবে অদিতি খুব একটা ডায়েট মেনে চলা মানুষ নন। সন্তানের জন্মের আগেও যেমন কোনও ডায়েট মানেননি, পরেও যে খুব মানছেন, তেমন নয়। অদিতির কথায়, ‘‘আমার ওজন সে ভাবে বাড়েনি। আমি বাড়ি থেকে রুটি-তরকারি খেয়ে বেরোই, তাড়া থাকলে সেটাও খাই না, শুধু চা-বিস্কুট। প্রচারের পরে বাড়ি ফিরে একটু ডাল-ভাত। সন্ধের পর থেকে প্রচুর জল খাই। এ ছাড়াও আমি চা খেতে ভালবাসি। লাল চা, চিনি ছাড়া। সেটা প্রচুর বার খাওয়া হয়। এতে জলও ঢোকে শরীরে। তবে আজকাল অনেকে ডিটক্স জল খায় শুনেছি। আমি ও সবের ধারকাছে যাই না। খাওয়াদাওয়া ডায়েটের বিষয়ে বড্ড বেরসিক আমি।’’

ভোট মানে যেমন ব্যস্ততা, কড়া রোদে ঘাম ঝরানো জনসংযোগ, তেমনই তার সঙ্গে জুড়ে থাকে ফ্যাশনও। ভোটপ্রার্থীদের অনেকেরই অনেক ধরনের ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ রয়েছে। তবে অদিতি জানান, ফ্যাশনে মনোযোগ দেওয়ার মতো তাঁর সময় নেই। ভোটপ্রচার করে, ছোট বাচ্চাকে সামলে আর ফ্যাশন বা নিজের পরিচর্যা করতে পারেন না। অদিতির কথায়, ‘‘আমি সুতির শাড়ি পরতে ভালবাসি, সেটা পরেই চলছে প্রচার। আর মাঝেমধ্যে একটু সময় পেলে সে দিনটা একটু লিপস্টিক পরলাম, অল্প সানস্ক্রিন ক্রিম। চুলটা ভাল ভাবে বাঁধলাম— এই আর কী! আর আমি শাঁখা-পলা কখনও খুলি না। কারণ মা বলেছিল, চাইলে যখন খুশি কিন্তু এটা পরা যায় না। তাই এটাকে আমি গয়নার মতো ব্যবহার করি না। এ ছাড়াও আমি খুব সেকেলে। ভোটের সময় প্রচার করব, না কি ফ্যাশন করব!’’

রাজনীতির গুরুদায়িত্ব ও মায়ের স্নেহ— এই দুইয়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখার কাজটা সহজ নয়। অদিতির কথায়, ‘‘প্রচারের মাঝে শিশুদের দেখলে ছেলেটার জন্য মনকেমন করে। মনে হয়, কত ক্ষণে ওর কাছে যাব!’’

Aditi Munshi Debraj Chakraborty TMC Assembly Election
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy