কয়েক দিন ধরেই দেশের অন্দরে ‘ধুরন্ধর ২’ ছবি নিয়ে আলোচনা। এই ছবির বিরুদ্ধে ‘শিখ্স ইন মহারাষ্ট্র’-এর সদস্য গুরজ্যোত সিংহ খের একটি এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ছবির একটি দৃশ্যে পবিত্র গুরবাণী পাঠ করার সময়ে অভিনেতা আর মাধবনকে ধূমপান করতে দেখা গিয়েছে। সেই সঙ্গে আরও অভিযোগ, রণবীর নাকি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন!
আরও পড়ুন:
গুরজ্যোতের অভিযোগ, ছবির একটি দৃশ্যে নাকি মাধবন ধূমপান করছিলেন, তখন নাকি পবিত্র গুরবাণী শোনা যায়। এই দৃশ্য শিখ ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এই মর্মে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়। পরিচালক আদিত্য ধর, অভিনেতা রণবীর সিংহ ও মাধবনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতেও বলা হয়েছে ওই অভিযোগপত্রে।
এই প্রসঙ্গে মাধবন একটি ভিডিয়ো ভাগ করে বলেন, ‘‘দৃশ্যটি শুট করার সময় পরিচালক অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। আসলে সংলাপ বলার আগেই আমি সিগারেটটি নিভিয়ে দিয়েছিলাম। আপনারা ভাল করে লক্ষ করলে দেখবেন, কথা বলার সময় আমার মুখ দিয়ে কোনও ধোঁয়া বেরোচ্ছে না।’’
মাধবন আরও বলেন, ‘‘আমরা শিখ সম্প্রদায়কে সম্মান করি এবং বরাবর তাদের পাশে আছি। যে কোনও ছবিমুক্তির আগে আমি নিজে স্বর্ণমন্দিরে আশীর্বাদ নিতে যাই।’’ এই বির্তকের আঁচ খানিক কমতেই ছবির অপর একটি দৃশ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু। ছবির শেষের দিকের একটি দৃশ্যে রণবীরকে পাগড়ি পরে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। সেই দৃশ্যেও নাকি ধূমপান করছিলেন অভিনেতা! পাগড়ি পরে ধূমপান কেন করছিলেন অভিনেতা? প্রশ্ন উঠতেই ক্ষুব্ধ পরিচালক। তিনি জানান, ওই দৃশ্যে ধূমপানের কোনও অংশ ছিল না। পুরোটাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা।
পরিচালকের হুঁশিয়ারি, যাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে এ ধরনের কাজ করছেন, তাঁরা যেন সাবধান হয়ে যান! আদিত্য বলেন, ‘‘একটা দল ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুয়ো তথ্য, ভুল দৃশ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি অত্যন্ত সম্মান রয়েছে আমার। প্রতিটি দৃশ্য ভীষণ সংবেদনশীলতার সঙ্গে শুট করা হয়েছে। তাঁদের প্রতি আমাদেরও একটা দায়িত্ব আছে।’’ সবশেষে আদিত্য অনুরোধ করেছেন, কোনও ধরনের ‘এআই’ ছবিকে বিশ্বাস না করে সকলে যেন ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে নিজেরা দেখে আসেন। এতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাত্রা কমতে পারে।