গায়িকা দেবলীনা নন্দী গত রবিবার লাইভ ভিডিয়োয় এসে তাঁর সাংসারিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, শ্বশুরবাড়ির তরফে চাপ দেওয়া হচ্ছিল তাঁর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে। শুধু দেবলীনা নন, এমন ঘটনা আকছার উঠে আসে। এই যুগেও মেয়েদের এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দেবলীনার বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। এ ব্যাপারে টলিপাড়ার কী মত?
যদিও দর্শকের একাংশের দাবি, শুধু মেয়েদের খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছেলেদেরও এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অনেক সময় মেয়ের পরিবারের হস্তক্ষেপ অশান্তি তৈরি করে। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “মেয়ে বা মহিলাদের উপর এই ধরনের মানসিক চাপ বহু যুগ ধরে চলে আসছে। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাড়ির বাইরে এবং সংসারে নানা জটিলতা থাকেই। মেয়েদের কাছে বাপের বাড়ি সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গা। সেখানে বড় হয়েছে। ফলে যে কোনও পরিবারে এই মেরুকরণ খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”
অন্য দিকে অভিনেত্রী সঙ্ঘশ্রী সিংহ, সুদীপা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে কারও ক্ষেত্রেই এই পরিস্থিতি কাম্য নয়। সঙ্ঘশ্রী বলেন, “দেবলীনাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। তাই বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে চাই না। মেয়েদের সঙ্গে যেমন ঘটে অনেক ঘটনা, তেমনই অনেক পুরুষকেও কিন্তু এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। ইদানীং অনেক মেয়েরাও মিলেমিশে থাকতে পারে না। কারও ক্ষেত্রেই এটা ঠিক জিনিস নয়।”
শেষ বয়সে সুদীপার মা তাঁর কাছেই থাকতেন। কারণ, তাঁর দাদাদের বাইরে কাজ। ফলে মা একা হয়ে যেতেন। সেই জন্যই তাঁরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, মা সুদীপার কাছে থাকবে। তিনি বললেন, “আমার স্বামী অগ্নিদেব নিজেই বলেছিলেন। আমার মনেও সুপ্ত ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দ্বিধাবোধ হচ্ছিল।’’ তবে সুদীপা বিষয়টিকে একপেশে ভাবে দেখতে নারাজ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘সত্যিই, মেয়েদের অনেক সময় এই স্বাধীনতাটুকু থাকে না। তবে এটাও ঠিক, অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের বাড়ির হস্তক্ষেপের জন্য অশান্তি তৈরি হয়। আমার মা যেমন কখনও কোনও কথাই শুনতেন না শ্বশুরবাড়ির।’’
তিনি বলেন, ‘‘দেবলীনার সঙ্গে যেটা ঘটেছে তা সত্যিই লজ্জাজনক বিষয়। তবে আমাদের শুধু মেয়ে বা ছেলে নয়, মানুষ হিসাবে সব পরিস্থিতিকে দেখতে হবে।” দেবলীনার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে অনেকেই নিজেদের মতপ্রকাশ করছেন সমাজমাধ্যমে।