×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ জুন ২০২১ ই-পেপার

আলিয়া ইজ মাই ফেভারিট দুলহনিয়া

স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়, অরিজিৎ চক্রবর্তী ও পারমিতা সাহা
০৮ মার্চ ২০১৭ ০১:২৫

প্র: মাত্র তেইশ বছর বয়সেই আপনি এত সফল। এতটা সাকসেসফুল হয়েও মাথা ঠিক রাখার মন্ত্রটা কী?

আলিয়া: পা থাকবে মাটিতে অ্যান্ড ইয়োর হার্ট শুড বি ইন দ্য স্কাই। কিন্তু যদি হার্টের বদলে আপনার মাথা সেখানে পৌঁছে যায়, তা হলে কিন্তু ব্যাপারটা অন্যরকম হয়ে যাবে। আমাদের সব ক্রিয়েটিভিটি কিন্তু ওই হার্ট থেকেই আসে। তাই দ্যাট শুড বি ইন দ্য স্কাই।

বরুণ: আমাদের সাফল্যটা মূলত একটা টিম এফর্ট। অনেক মানুষ আমাদের পিছনে থাকেন, যাদের দিন-রাত এক করে কাজের ফলে আমরা এই জায়গাটা পাই। সেটা কখনও ভোলা উচিত নয়। এটা কোনও ওয়ান-শো আর্মি নয়। তাই এই ‘ফ্লায়িং হাই’-টা অর্থহীন।

Advertisement

প্র: আলিয়া, এক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনাকে নিয়ে খুব খারাপভাবে ট্রোল করা হয়েছিল। কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখিয়েও, একটা সেনসিব্‌ল ইমেজ গড়ে তুলেছেন!

আলিয়া:দেখুন আমি নিজেকে কখনও অত সিরিয়াসলি নিই না। এবং আমি তো মনে করি জীবনে সকলেরই সেটা করা উচিত। তবে হ্যাঁ, বিরক্ত লাগে যখন মিডিয়া কোনও একটা স্টোরি বানিয়ে, তারপর আমার মুখ থেকে কোট চায়। তবে বিরক্তিটা এজন্য নয় যে, কেউ আমার জেনারেল নলেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইয়ে মেরে ইনটেলিজেন্স পে হাত লগা রহে হ্যায়! হাউ ক্যান দে ডু দ্যাট! এটা ভাবলে খুব বেশি মেলোড্রামাটিক হয়ে যাবে। আমার মেলোড্রামা সব ক্যামেরার জন্য তোলা থাকে।



প্র:এআইবি ভিডিয়ো, যেখানে আপনি নিজেকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। সেটা কি আপনার ব্রেনচাইল্ড ছিল?

আলিয়া: একদমই না! এটা যে এরকম ভাইরাল হয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি। আমি ভেবেছিলাম, ঠিক আছে মজা হবে। আমার তখন ফ্রি টাইমও ছিল, তবে সেটাও কিন্তু এই নয় যে, আই হ্যাভ টু প্রুভ আ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন: আলিয়া ছাড়া আমি অন্য কারও ছবি দেখি না

প্র:তা হলে সোশ্যাল মিডিয়া এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি স্বজনপোষণ নিয়ে করণ জোহর ও কঙ্গনা রানাওয়াতের টুইট বিতর্কে আপনিও সরব!

আলিয়া:অ্যাকচুয়ালি আমি এ ব্যাপারটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। ওরা যেটা বলছেন, হয়তো পরস্পর মজা করে বলছেন। তবে নেপোটিজ়ম নিয়ে বলে-বলে আমি ক্লান্ত।

প্রশ্নবাণ

প্রথম কিস

আলিয়া: ১৫-১৬ বছর বয়সে, মাই স্কুল বয়ফ্রেন্ড

বরুণ: টোয়েন্টি। (পাশ থেকে আলিয়া, তোমার প্রথম কিস টোয়েন্টিতে!) না-না জাস্ট জোকিং! ১২ বছর বয়সে, তখন আমি খুবই ছোট। তবে ইট’স নট আ প্যাশনেট কিস।

প্রথম ক্রাশ

বরুণ: ফার্স্ট স্ট্যান্ডার্ডে ছিলাম।

কার প্রতি ক্রাশ, টিচার?

বরুণ: না-না, আমি টিচারের প্রতি ক্রাশের বিরুদ্ধে। জুনিয়র ক্লাসের একটি মেয়ে, যে খুব ভাল দৌড়ত।

আলিয়া: আমারও জুনিয়র ক্লাসে পড়তে প্রথম ক্রাশ।

সবচেয়ে খারাপ অভ্যেস

বরুণ: শি হ্যাজ় লট অফ ‘খুন্নস’! ধরুন, কারও ব্যবহারে আপনার খুব রাগ হল, সেটা মনের মধ্যে পুষে রেখে রেখে দিলেন। ও এটা করেছে তো, ঠিক আছে ম্যায় দেখ লুঙ্গি! ও এটা আমার সঙ্গে খুব করে, ‘দেখ লেতি হ্যায় ও মুঝে বাদ মে!’

আলিয়া: বরুণ খুব খুঁচিয়ে-খুঁচিয়ে কথা বলে। কোনও ব্যাপারে যদি আমার মনখারাপ থাকে, সেটা নিয়ে কথা না বলাই ভাল। কিন্তু বরুণ তা নিয়ে কথা বলেই যাবে।

সবচেয়ে দামি জিনিস

আলিয়া: জুহুতে কেনা বাড়ি।

বরুণ: আমারও তাই। উফ অনেক টাকা বেরিয়ে গিয়েছে!

বরুণ: আমি একটু ইন্টারাপ্ট করছি। যাঁরা এ ধরনের কথা বলেন, তাঁদের কথা শুনে তো মনে হয়, বাবা-মা তাঁদের কোনওদিন একটা পেনসিল বক্সও কিনে দেননি। বাবা কিংবা মা ইন্ডাস্ট্রিতে থাকলে, তিনি তো সাহায্য করবেনই। কিন্তু সেই স্টার কিডের ভাগ্য নির্ধারণ করবে দর্শক। বাবার দৌলতে একটা চান্স পাওয়া যেতে পারে, তার বেশি নয়। আপনার মধ্যে যদি যোগ্যতা থাকে, তা হলেই এগোতে পারবেন। তবে এটা শুধু স্টারকিড নয়, পরিচালকদের জন্যও সত্য। আর করণকে নিয়ে এ ধরনের কথা বলা হলে, আমাদের খুব খারাপ লাগে। শকুন বাত্রা, শশাঙ্ক খৈতানের মতো নতুন পরিচালদের সুযোগ দিয়েছে করণ। এমনকী, আমরাও তো করণের জন্যই চান্স পেয়েছিলাম।

প্র: বরুণ, এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন, আলিয়া আপনার ‘থ্রি এএম ফ্রেন্ড’! এখনও কি তাই আছে?

(আলিয়ার দিকে তাকিয়ে) যখন এটা বলেছিলাম, তখন আমরা দু’জনেই রাত তিনটে অবধি জেগে থাকতাম। কিন্তু এখন আমরা দু’জনে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি, কারণ দু’জনের অনেক কাজ (পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসতে-হাসতে)।

প্র: তবে ‘দুলহনিয়া’ শব্দটা কিন্তু আপনাদের দু’জনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে?

বরুণ: আলিয়া ইজ আ দুলহনিয়া। শি ইজ মাই অলটাইম ফেভারিট দুলহনিয়া অন স্ক্রিন!

প্র: আর আলিয়া, আপনার কাছে দুলহনিয়া শব্দের মানে কী?

আপনি যদি মডার্ন দুলহনিয়ার কথা বলেন, তা হলে আপনাকে ‘বদ্রীনাথ কী দুলহনিয়া’ দেখতে হবে। আর ব্যক্তিগতভাবে বললে, এখন কেউ বিয়ে তখনই করে, যখন সে মনে করে বিয়ের জন্য তৈরি। এমন নয় যে, চলো বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছে বলে বিয়ে করতে হবে। বিয়েটা লাইফ লং কমিটমেন্ট এবং বিরাট দায়িত্ব।

প্র: সমালোচকদের প্রশংসা না কি বক্সঅফিস সাফল্য, আপনাদের কাছে কোনটা বেশি কাম্য?

বরুণ: বক্সঅফিস মানে অনেক লোক টিকিট কেটে আপনার ছবি দেখছে।

আলিয়া: আর ক্রিটিকরা তো দর্শকদের মধ্যে থেকেই কেউ-কেউ, তাই না?

বরুণ: আচ্ছা, সবার আগে বলুন তো, হু আর দ্য ক্রিটিক টুডে? সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে তো এখন সবাই ক্রিটিক (আলিয়াও সহমত হলেন)। দু’-তিনজন আছেন, যাঁদের আমি শ্রদ্ধা করি, মতামতকে গুরুত্ব দিই। এত অনলাইন রিভিউ-র সমস্যা কোথায় জানেন, এদের অথেনটিসিটি নির্ণয় করা খুব কঠিন। আবার কেউ যদি অনলাইনে আমার খুব প্রশংসাও করেন, আমি সেটাকেও গুরুত্ব দিই না। আমি সরাসরি কথা বলায় বিশ্বাস করি।



প্র: বরুণ, কমেডি না কি সিরিয়াস ছবি, আপনি কোনটাকে বেশি প্রেফার করেন?

বরুণ:একজন অভিনেতা হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আমার সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা উচিত। তবে আমি লাইট এন্টারটেনার ছবি করি, কারণ দর্শক আমাকে এ ধরনের ছবিতে দেখতে পছন্দ করেন। সেই সেন্সে আমার মুখটা লাইক আ বেবি! আরও যখন বয়স বাড়বে, তখন নিশ্চয়ই সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করব। তবে ‘বদ্রীনাথ...’ কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য ধরনের গল্প।

ছবি: দেশকল্যাণ চৌধুরী, বিশ্বনাথ বণিক

Advertisement