Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

‘শ্রীযুক্ত শ্রীকান্ত মোহতা কি আজ অন্ধ হয়ে গেছেন?’

প্রখর রুদ্র নন। এই রুদ্রনীল তির্যক। টক-ঝাল সমেত হাজির ইন্দ্রনীল রায়-এর সামনেপূর্ণ দাস রোডে তাঁর সাদা এসইউভিটা যখন এসে দাঁড়াল তখন লালবাতি জ

০৫ অক্টোবর ২০১৬ ০০:০৩
Save
Something isn't right! Please refresh.
ছবি: কৌশিক সরকার

ছবি: কৌশিক সরকার

Popup Close

পূর্ণ দাস রোডে তাঁর সাদা এসইউভিটা যখন এসে দাঁড়াল তখন লালবাতি জ্বলছে। তিনি তো শুধু অভিনেতা নন, ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কমিশনারও। দু’জন লোক রাস্তা ক্রস করাতে সাহায্য করলেন তাঁকে। চিকেন অমলেট আর অয়েল ফ্রি রোলকে সাক্ষী রেখে শুরু হল আড্ডা...

• কেমন আছেন রুদ্রনীল ঘোষ?

Advertisement

একদম চাঙ্গা। ভাল ভাল ছবি হচ্ছে টালিগঞ্জে। কমার্শিয়াল কী প্যারালাল দুটো ঘরানাতেই। আমি নিজে ভাল ভাল রোল পাচ্ছি। আমাদের কলকাতার বেশির ভাগ প্রযোজক অবাঙালি কিন্তু আজকাল দেখছি তাদের পরিবারের লোকজনও বাংলা ছবি দেখতে যাচ্ছে হলে (হাসি)।

• রুদ্রনীল ‘তির্যক’ ঘোষ আপনার নাম হতে পারত জানেন নিশ্চয়ই? অবাঙালি দর্শক বাংলা ছবি দেখছে বললেই হতো কিন্তু….

হাঃ হাঃ হাঃ। মিথ্যে কথা তো বলছি না। ‘তির্যক’ কথাবার্তার একটা কারণ আছে। বড্ড বেশি দিন ধরে লোকেরা ‘বাপরে কী ট্যালেন্টেড রুদ্রনীল’ বলছে। কিন্তু বলার পরমুহূর্তেই দেখি তারা হাওয়া। তাই আজকাল স্ট্র্যাটেজি বদলেছি। দেখছি ‘তির্যক’ মন্তব্য করলে লোকের কানে তা়ড়াতাড়ি পৌঁছচ্ছে।

• লোকের কথা নিয়ে ভাবছেন কেন? দর্শকের কাছে তো আপনার কাজ পৌঁছচ্ছে। গতবছর ‘রাজকাহিনী’ তে জয়া এহসান-এর সঙ্গে একটা সিন নিয়ে আজও লোকে কথা বলে। ‘কাটমুণ্ডু’-তে আপনি সেরা ছিলেন। এ বছর ‘ লাভ এক্সপ্রেস’ যতটুকু চলছে আপনার আর কাঞ্চনের জন্য।

হ্যাঁ। কিন্তু লাভ কী তাতে? তবু তো পোস্টারে মুখ দেখানো হয় না আমাদের। হয় কি? এখানে কমার্শিয়াল হিরো বলতে দেব আর জিৎ। হিরোইন রয়েছেন চারজন। তাদের নিয়ে পারমুটেশন কম্বিনেশন করেই ছবি তৈরি হয়।

• সেই একই মুখ রাখা হয় পোস্টারগুলোয়। তাতে কি দর্শক খুশি হচ্ছে? সব কমার্শিয়াল ছবি তো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এক মনে হচ্ছে।

আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি হিরোদের জন্য যদি একশো লোক আসে, তা হলে কাঞ্চন মল্লিক, ঋত্বিক, খরাজদা, আমার জন্যও চল্লিশজন আসে কিন্তু। বিশ্বনাথকে ধরছি না এখানে কারণ ওর আরেকটু পথ চলা বাকি। আমরা বাকিরা তো এতটা ফ্যালনা নই। কিন্তু আমাদের এখানকার প্রযোজকদের সেটা বোঝাবে কে?

• কাকে ইঙ্গিত করছেন?

শ্রীকান্ত মোহতা মশাইকে ইঙ্গিত করছি। উনি তো শুনি দশ বছর পরেরটা দেখতে পান, উনি তো প্রথম প্রযোজক যিনি সাত হাজার টাকার জামা পরিয়েছিলেন টালিগঞ্জ-এর হিরোকে। ‘টালিগঞ্জ’ আর ‘দুঃস্থ শিল্প’ — এই দু’টো শব্দ একসময় পাশাপাশি বসত। সেই শব্দ দু’টোকে তো উনি আলাদা করেছেন। উনি তো ‘অটোগ্রাফ’ আর ‘সিনেমাওয়ালা’ বানিয়েছেন। সেই শ্রীযুক্ত শ্রীকান্ত মোহতা কি আজ অন্ধ হয়ে গেছেন? উনি কি এটা দেখতে পাচ্ছেন না যে গ্রাম বদলে যাচ্ছে।

• থামাব না আপনাকে, বলুন...

উনি ব্যস্ত লোক, আজকাল কি আর গ্রামে যান? মনে হয় না। আমরা যারা গ্রামে বা শহরতলিতে যাই, তারা জানি ওখানে কিন্তু মা-মাসিমা বা ইয়ং মেয়েরা বরের পাশে কি বয়ফ্রেন্ডের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের ফ্লাইং কিস দেন। বার্গার খান। স্যান্ডউইচ খান। ছেলেরা আর লুঙ্গি পরে চাষ করে না, করে জিনস গুটিয়ে। তাদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট ফোন আছে। তারা ফট ফট করে সেলফি তোলে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। তারাও আমাদের মতো রাতে হোয়াটসঅ্যাপে ‘অ্যাক্টিভ’ থাকেন। আর তাদের বাড়ির সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করে দেওয়া রাস্তা ছাড়াও রয়েছে ডিশ অ্যান্টেনা। যেখানে সাউথ ইন্ডিয়ান ছবির হিন্দি ডাবড ভার্সন দুপুরবেলা চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে দেখে ফেলেন তারা।

এই বদলটা যে হচ্ছে, গ্রাম যে বদলে গেছে, সেটা টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু বুঝতে চাইছে না। আসলে শ্রীকান্ত মোহতার আশেপাশে যারা আছে তারা তাঁকে সত্যি কথাটা আর বলে না। তাই উনি একা একা কাঁদতে চাইলেও তারা কাঁদতে দেবে না তাঁকে। এটা ক্ষতি করছে ইন্ডাস্ট্রির। এটা বলছি কারণ ওকে আমার বন্ধু মনে করি।

• আপনি অত ভাবছেন কেন ওঁকে নিয়ে। আপনি তো নিজের কাজটা দারুণ করছেন...

চেষ্টা করছি। আমি আজও বিশ্বাস করি ‘কাটমুণ্ডু’ আমার জীবনের বেস্ট পারফরম্যান্স। ওই একটা রোল করতে গিয়ে আমার চোখটা অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। মাইনাস বারোর চশমা চল্লিশ দিন পরে অভিনয় করাটা অসম্ভব কষ্টের। ওটা আমি করেছিলাম। কো-অ্যাক্টরকেও দেখতে পেতাম না। রাস্তাগুলো এবড়োখেবড়ো। একটা ভুল স্টেপিং হলে খাদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তাও করেছি। বিকজ আই লাভ মাই জব।

কিছু দিন আগে দেখলাম আমার ‘কাটমুণ্ডু’-র হলদে চশমাটা চেয়ে ফোন করেছে রাজ চক্রবর্তী। আমি ভাবলাম হয়তো রেখে দেবে বাড়িতে। ওমা দেখি ‘অভিমান’-এ বিশ্বনাথ ওই একই চশমা পরেছে। এগুলো দেখে মজা লাগে খুব (হাসি)।

• একটু ‘চকোলেট’-য়ে ফিরি। পুজো-তে তো এত ভিড়? আপনার ‘চকোলেট’ কেন দেখতে যাব?

কারেক্ট প্রশ্ন। আমিও কিছু দিন আগে ভাবছিলাম এত ভিড়ে আমাদের ‘চকোলেট’ গলে যাবে না তো। তারপর দেখলাম দূর কী বোকা আমি। গলে তো শুধু দামি চকোলেট। আমাদের ‘চকোলেট’ হল ট্রেনের চকোলেট। ফ্রিজে রাখতে হয় না, গলে যাওয়ার ভয় নেই। কম দামে অনেকক্ষণ চুষতে পারবেন (হাসি)। বাড়ি গিয়ে জিভে রং লেগে থাকবে ।

• মানে সস্তায় পুষ্টি?

একদম তাই। আমাদের ছবির বাজেটটা ঠিক এমনভাবে করা যেটা থেকে প্রফিট করা সবচেয়ে সহজ। বাকিরা কোটি নিয়ে থাকুক বাবা, আমরা আমাদের বয়ামের বা প্লাস্টিকের কৌটোয় থাকা চকোলেট নিয়েই খুশি। দর্শক যে দেখে প্রচুর মজা পাবে এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি।

• পুজোয় ‘জুলফিকার’ যদি সুরুচি সঙ্ঘ হয়, ‘গ্যাংস্টার’ বাদামতলা, ‘অভিমান’ ত্রিধারা। সেখানে আপনাদের ‘চকোলেট’ কী?

‘চকোলেট’ হল কুমারটুলির নিজের পুজোটা। বড় বড় দাদারা যখন কুমারটুলি থেকে ঠাকুর প্যান্ডেলে নিয়ে যান, যাওয়ার পথে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে কুমারটুলির ঠাকুরটা ঠিক আড় চোখে দেখে নেন। মনে মনে এটাও বলেন, ‘দেখেছিস, আমরা এত দামি ঠাকুর বানালাম, ওরা কী সুন্দর কম দামে বেস্ট ঠাকুরটা নিজেদের জন্য বানিয়ে নিল। ‘চকোলেট’ হল কুমারটুলি সর্বজনীন।

• কুমারটুলি সর্বজনীন তা হলে শেক্সপিয়র-সৃজিতের কম্বিনেশনটা কী জিৎ-রাজ, যশ-বিরসার কম্বিনেশনকে নাড়িয়ে দেবে বলছেন?

সৃজিত, যশ, বিরসা, রাজ, জিৎ যে ‘চকোলেট’কে খাটো করবে না আমি জানি। কারণ ওরা ইন্টেলিজেন্ট মানুষ। আর কলকাতায় কিন্তু শেক্সপিয়রের ‘জুলফিকার’ দেখার জন্য কেউ বসে নেই। সবাই বসে আছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘জুলফিকার’ দেখার জন্য। আর যশের ব্যাপারটা হল, এটা ওর রিলঞ্চ। এর আগে ও ছবি করেছিল ‘পাগল প্রেমী’, ঋত্বিকের সঙ্গে। এই যে অল্পবয়সে ও আবার নিজেকে রিলঞ্চ করল, এটা দুর্দান্ত ব্যাপার। সব অ্যাক্টরের কপালে এমন সুযোগ আসে না।

• আবার শুরু করলেন ‘তির্যক’ ঘোষ?

(হাসি) না না সত্যি। যশকে আমার ভাল লাগে। কাঞ্চন ওকে গ্রুম করেছে ছবিটা শুরুর আগে। তবে ‘গ্যাংস্টার’ –এ ওকে দেখে আমার মনে হচ্ছে, ‘দেব ২’ লঞ্চ হচ্ছে। আর বিরসার ক্ষেত্রে একটা কথা বলি, কমার্শিয়াল ছবিতে ও যা ভিশ্যুয়াল দেখিয়েছে, সেটা দেখে ওকে কিন্তু স্টেজে উঠে মালা দেওয়া উচিত। আমি রাজ চক্রবর্তীকে মাথায় রেখেই কথাটা বললাম।

• ইন্টারভিউয়ের শুরুতে বললেন, ‘বাপরে কী ট্যালেন্টেড রুদ্রনীল’ যারা বলে তারা খুব তাড়াতাড়ি হাওয়া হয়ে যায়। এটা দেখে খারাপ লাগে না?

এখন মজা লাগে। নিজেকে বুঝিয়েছি আমার জন্য ভাল কিছু অপেক্ষা করে আছে নিশ্চয়ই। বিয়েবাড়ির মতো। প্রথম দিকে লুচি, ছোলার ডাল, ফুলকপির তরকারি, মাছের কালিয়া। কিন্তু মাংস আসতে তো দেরি হয় বলুন। একটু দেরি হচ্ছে আমার, কিন্তু আসবে ঠিকই ঝাল-গরম মশলা দেওয়া মাটন (হাসি)।

• আপনাকে তো অনেকে বোকাও বলে। এক সময় যাঁদের আপনার বাড়িতে থাকতে দিতেন, তাঁদের মধ্যে রাজ চক্রবর্তীর আজকে আর্বানা-তে ফ্ল্যাট, মার্সেডিজ গাড়ি। অন্য কারও কলকাতা শহরে তিনটে ফ্ল্যাট। সেখানে আপনি রানিকুঠির ৮০০ স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাটেই রয়ে গেলেন?

(হাসি) ধরুন আমি রাজমিস্ত্রি। আমার অন্যদের বাড়ি বানাতে ভাল লাগে। আর সবাই তো বন্ধু। বুড়ো বয়সে দরকার পড়লে আমায় থাকতে দেবে না ওর ফ্ল্যাটে? আলবাত দেবে। আমি হোমোসেক্সুয়াল নই, কিন্তু আজও যে মানুষটাকে জড়িয়ে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি, সেই মানুষটার নাম রাজ। ও অবশ্য আজকাল অন্যদের জড়িয়ে ঘুমোয় (হাসি)।

• রাজের সঙ্গে আপনার একটা টকঝাল ব্যাপার আছে!

আছে তো। শুনি চারিদিকে ও বলে বেড়ায়, ‘‘তোমরা জানোই না রুডির ট্যালেন্ট। ও কি শুধু অভিনয় করে, ও ভীষণ ভাল ছবিও আঁকে, গান লেখে।’’ যে এ সব বলে সে কিন্তু তাঁর কোনও ছবির পোস্টার ডিজাইন আমাকে দিয়ে করালো না। কোনও একদিন রাজের ডিরেকশন-জীবন কিন্তু আমার লেখা স্ক্রিপ্ট দিয়ে হয়েছিল।

• পরমব্রতর সঙ্গেও তো আপনার মিষ্টিমধুর সম্পর্ক?

পরম আর আমি, তেল আর জল।


‘চকোলেট’ ছবিতে পরমব্রত-রুদ্রনীল।



• কে তেল, কে জল?

আমি জল। পরম তেল, তাই মাঝে মধ্যে হড়কে যায়। (হাসি) পরম আর আমার প্রচুর মতের অমিল। ও মনে করে আমি বেশি কথা বলি। আমিও ওর প্রচুর জিনিস অপছন্দ করি। আমি মনে করি, বেশি শেক্সপিয়র পড়ে ও তুলসীদাস ভুলে গেছে। ‘চকোলেট’য়ের স্ক্রিপ্ট লিখে যখন ওর কাছে যাই, ও সন্দেহের এভারেস্ট তৈরি করেছিল। ও মনে করে ওই সবচেয়ে ভাল স্ক্রিপ্ট বোঝে। আমিও যে স্ক্রিপ্ট, ডায়ালগ বুঝি সেটা ও মানতে চায় না। তবে স্ক্রিপ্ট শোনার পর ও প্রশংসার আল্পসও তৈরি করেছিল।

• এত ঝগড়ার মধ্যেও আপনাদের দু’জনেরই বন্ধুত্বটা কিন্তু অটুট।

তার কারণ কী জানেন? সিনেমা আর ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে দু’জনেই ভাবি। শুধু অটোগ্রাফ দিলাম আর ফিতে কেটে পয়সা নিলাম, এই মানসিকতা পরমের নেই। পরম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে চিন্তা করে। সেটাই ওর আর আমার বন্ধুত্বটা টিকিয়ে রেখেছে। বাকি অভিনেতাদের মধ্যে আমি এই দায়বদ্ধতা দেখি না। তবে ও মনে করে আমি ওর ‘ফ্রেন্ড’, আমি মনে করি ও আমার ‘বন্ধু’। এটাই তফাত। ইংলিশ আর বাংলার। আর ইংলিশ তো জানেনই অদ্ভুত ভাষা। ইংলিশে ‘ইউ’ বললেও সামনের লোক বুঝতে পারবে না তাকে আপনি ‘তুই’ বললেন।

• শুনলাম কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ধূমকেতু’তে নাকি আপনি দুর্দান্ত?

সেটা আমি কী করে বলি? তবে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এমন একজন ডিরেক্টর যার সঙ্গে অভিনয় নিয়ে আমার কোনও কথা হয় না। একটা সিন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় আমাকে শুধু কিছু শব্দ দিয়ে বোঝান। ধরুন, আমি আর দেব দাঁড়িয়ে আছি, কৌশিক আমাকে এসে বলল, ‘‘সিনটা একটু মনু পুচু করে দাও সোনটাই।’’ আমি বুঝে গেলাম কৌশিক সিন-টায় চাইছে আলগা, স্মুদ, নরম অভিনয়। ওর সঙ্গে এই টিউনিং-টা আছে আমার।

• সবার সঙ্গে আপনার ভাল টিউনিং। কিন্তু অনেকেই বলেন আপনি লুজ টক করেন। ফালতু কথাও বলেন প্রচুর লোকজন সম্পর্কে?

সেটা মানছি, আমি বলি। এবং তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থীও। তবে একটা জিনিস, আমি কিন্তু চেষ্টা করি সত্যি কথা বলার। আমি ঘুমোতে যাই শান্তিতে। স্বপ্নে ফুল দেখি, প্রজাপতি দেখি, দু’টো পা দেখি না কখনও।

• দু’টো পা?

হ্যাঁ, অনেকেই স্বপ্নে দু’টো পা দেখে যেটা তারা সকালবেলা উঠে ধরবে। আমার সে রকম কোনও দায় নেই। তবে যদি আমার কথায় কারও খারাপ লাগে আমি সত্যি সত্যি ক্ষমাপ্রার্থী।

• থ্যাঙ্ক ইউ রুদ্র...

একটা ফাইনাল কথা বলি। এই যে চকোলেট ফিল্মটা আসছে, আমি দর্শককে বলতে চাই, প্লিজ ছবিটা দেখুন শুধু কাঞ্চন মল্লিকের জন্য। কাঞ্চন আর যিশুকে আমি হিংসে করি কারণ আমি ওদের মতো সরল মানুষ না। ওরা কোনও সাতে পাঁচে থাকে না। আমি তো তাও লুজ কথা বলি। কাঞ্চন তো তাও বলে না।

কিন্তু কাঞ্চন কী পেয়েছে? বহু অনুষ্ঠানে আমি বেস্ট অ্যাক্টর পেয়েছি। বেস্ট ভিলেন পেয়েছি। বেস্ট কমেডিয়ান পেয়েছি। আমার পাশে দাঁড়িয়ে ও শুধু হাততালি দিয়েছে। আমি ‘চকোলেট’‌য়ে ওর প্রতি আমার সম্মানের, আমার ভালবাসার ঋণ শোধ করলাম।

আমি কিন্তু আমার বন্ধুর জন্য উজাড় করে লিখেছি। (চোখে জল) এই পুজোটা ‘চকোলেট’‌য়ে দুর্দান্ত অভিনয় করা কাঞ্চনের হোক। এটাই মা দুর্গার কাছে একমাত্র চাওয়া।



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement