লতা, ঊষা, আশা, মীনা এবং হৃদয়নাথ— এই পাঁচ মঙ্গেশকর ভাইবোনের সুরেলা কণ্ঠ আজও মাতিয়ে রেখেছে দেশ-বিদেশের সঙ্গীতপ্রেমীর মন। এই মুহূর্তে আশাকে হারানোর শোকে যখন মুহ্যমান দেশ। যদিও পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে একেবারে মহীরুহ হয়ে ওঠেন লতা। তার অনেক পরে সেই অর্থে প্রতিষ্ঠা পান বোন আশা। দু’জনেরই ছিল শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম। তবু আশার গান যেন লতার থেকে একেবারেই ভিন্ন ধরনের। কিন্তু গানের ব্যাপারে দিদি লতা নন, আশার অনুপ্রেরণা অন্য কয়েকজন গায়ক-গায়িকা। কে তাঁরা?
১৯৯৩ সালে দূরদর্শনের জন্য সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরীর নেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আশা তাঁর গানজীবনের অনেক কথাই উজাড় করে দিয়েছিলেন। দিদির সঙ্গে তাঁর গানের যে ফারাক সেই সম্পর্কেও বিস্তারিত অনেক কথা বলেছিলেন। আশা সেই সাক্ষাৎকারে জানান, ছোট বয়সেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, তাঁর দিদির মতো এত বিখ্যাত একজন বাড়িতে রয়েছেন। সুতরাং আশাকে কেউ কাজ দেবেন না, যদি না তিনি গানে ভিন্ন কিছু দিতে পারেন। তাই লতা যে ভাবে একটা গানকে গাইতেন তাঁর সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে একটা গায়নভঙ্গি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন আশা, সচেতন ভাবেই।
আরও পড়ুন:
সলিলের সামনে ওই সাক্ষাৎকারে আশা বলেন, ‘‘সাধারণ বাড়িতে বড় দিদি থাকলে ভাইবোনেরা তাকেই নকল করে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি কখনও তা করিনি। কারণ, আমাকে নিজের পরিচয় তৈরি করতে হবে, নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে হবে। তাই আমি ছোট বয়সে কারমেন মিরান্ডার (ব্রাজ়িলীয় গায়িকা-অভিনেত্রী) গান শুনতাম। সেটাই যেন বড় হয়ে মাথায় গেঁথে গেল। তার পর এলভিস প্রেসলির কিছু কিছু স্টাইল আমি গ্রহণ করলাম, অনুকরণ করলাম। নিজের গানে সেই ধরনটা যোগ করলাম। সুরকারদের মনে ধরল।’’ আশা জানান, এ ভাবেই দিদির ধরনকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব একটা ঘরানা তৈরি করেন আশা। এর পরে একে একে ‘পিয়া তু’ থেকে ‘চুরা লিয়া’, কখনও ‘রাত বাকি’-র মতো অজস্র গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের।