এক বছর ধরে তাঁর জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিল দর্শক। ঘোষণা অনুযায়ী ঠিক ছিল, বুধবার, বাংলা নববর্ষের দিন আসবেন একেনবাবু। মুক্তি পাবে ‘একেনবাবু, পুরুলিয়ায় পাকড়াও’ সিরিজ়। তাই মঙ্গলবার সন্ধে গড়িয়ে রাত ১২টা বাজতেই নির্দিষ্ট বাংলা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘আস্তানা’ গাড়তে শুরু করেন একেনপ্রেমীরা। কিন্তু কোথায় তিনি? জানা গিয়েছে, ১২টায় নয়, রাত আড়াইটে নাগাদ ‘দরজা’ খোলে ওই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই। শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি!
ব্যস! জানা গিয়েছে, সেই ভিড় আর হুড়োহুড়ির জেরে নাকি অনেকেই দেখতে পাননি একেন-কে। অনেকের অভিযোগ, কোনও অজ্ঞাত কারণে খোলেনি সিরিজ়টা। একেনের অনুরাগীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু বাদ সাধল প্রযুক্তিগত সমস্যা।
২০২৫-এর মে মাসে বড়পর্দায় মুক্তি পায় ‘দ্য একেন: বেনারসে বিভীষিকা’। তার পর এক বছর কেটে গিয়েছে প্রায়। একেন-দর্শন এ বার ওটিটিতে। ভোরের ঝামেলা পর্ব পার করে পয়লা বৈশাখের সকালে নববর্ষের বাজার সেরেই বহু দর্শক এই সিরিজ় দেখতে বসে যান। তখনও সমস্যা বহাল তবিয়তে! শুধু হইচই-ই নয়, তাদের পার্টনার প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েব থেকে দেখতে গিয়েও বার বার যান্ত্রিক ত্রুটির মধ্যে পড়তে হয়েছে দর্শককে, এমনটা জানানো হয়েছে হইচই-এর তরফেও।
নববর্ষে ‘একেনবাবু’ দেখার হিড়িক, তার মাঝেই কী ঘটল? ছবি: সংগৃহীত
হইচই-এর জেনারেল ম্যানেজার জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে একেনের অনুরাগীদের। অ্যাপে অনেক সময়েই ভিড় বেড়ে যায়। তবে তা আলাদা আলাদা কনটেন্টের জন্য। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যাঁরাই এ দিন হইচই-তে এসেছেন তাঁরাই ‘একেন’ দেখতে বসেছিলেন। ফলে অত্যন্ত বেশি ট্রাফিক হয়ে যাওয়ায় সার্ভারের সমস্যা হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘এতটা ট্রাফিক হবে তা আমরাও আশা করিনি। ভাবতেও পারেননি কেউ। এর পর টেকনিক্যাল টিম কাজ করে রাতে সমস্যার সমাধান করে।’’
আরও পড়ুন:
বিষয়টি নিয়ে খোদ ‘একেনবাবু’ ওরফে অনির্বাণ চক্রবর্তীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রথম দিন থেকেই দর্শকের মেসেজ পেয়েছি যে, কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে হইচই কর্তৃপক্ষকে জানাই। তাঁরা বলেন, একই ভাবে তাঁরাও অভিযোগ পেয়েছেন। দর্শকের একটু অসুবিধা হয়েছে বলে আমার খারাপ লাগছিল। তবে অন্য ভাবে ভাবলে এটা একেনের জন্য আনন্দেরও খবর। যেহেতু একটা ছুটির দিনও ছিল, তাই সবাই একসঙ্গে বসেছিলেন দেখতে। দেখতে পাননি, সেটা খারাপ লাগারই।’’
এ দিকে, নতুন একেন-কে ফুটিয়ে তোলা নিয়ে অনির্বাণ বলেন, ‘‘আসলে ওটিটি এবং ছবি মিলিয়ে ১২ বার একেনকে ফুটিয়ে তুলেছি। তার পরেও চেষ্টা করি যাতে মানুষের কোনও ভাবে একঘেয়ে না লাগে। কারণ, দেখা চরিত্র, একই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাঁর, সে ক্ষেত্রে নতুন ভাবে কিছু পরত যুক্ত করতে করতে যাই। চিত্রনাট্য পাওয়ার পর আমি ভাবি, এই লোকটা এই পরিস্থিতিতে পড়লে কী কী করতে পারে। প্রথম একেন করার সময়ে তাঁকে যে ভাবে চিনেছিলাম, এখন একটু বেশি চিনি। তাই সেটুকু বোঝাপড়া আমাদের চলতেই থাকে।’’
‘একেনবাবু’ হিসাবে তিনি দর্শকের প্রিয় হলেও এই মুহূর্তে নানা স্বাদের চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী। নানা স্বাদের চরিত্র চেখে দেখতে তিনি ভালবাসেন। জনপ্রিয়তার নিরিখে যদিও একেনবাবুরই পাল্লা ভারী।
প্রসঙ্গত, ‘একেনবাবু, পুরুলিয়ায় পাকড়াও’ সিরিজ়ে একেনবাবু পুরুলিয়ার লাল পেঁড়া খেতে খেতে রহস্যের সমাধান করবেন।