আজ শুক্রবার সরস্বতীপুজো। তার পর টানা সোমবার পর্যন্ত সরকারি ছুটি। গত দু’সপ্তাহ তেমন কোনও ছবি বক্সঅফিসে সে ভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। তবে চলতি সপ্তাহে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে কিছুটা। চলতি সপ্তাহে রয়েছে তিনটি বাংলা ছবির মুক্তি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিজয়নগরের হীরে’, রাজ চক্রবর্তীর ‘হোক কলরব’, অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। আর রয়েছে একটাই হিন্দি ছবি, সানি দেওলের ‘বর্ডার ২’।
‘বর্ডার ২’
প্রায় ২৯ বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল জেপি দত্ত পরিচালিত ‘বর্ডার’। ভারতীয় বক্সঅফিসে একের পর এক নজির গড়েছিল দেশাত্মবোধক সুরে বাঁধা ছবিটি। সেই সময়ে ছবিটি প্রায় ৫৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে। এ বার সেই ছবির সিক্যুয়েল আসতে চলেছে! ফলে দর্শক-আগ্রহ যে ভাল রকমই থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগের ছবির মতো এ বারও মেজর কুলদীপ সিংহের চরিত্রে দেখা যাবে সানি দেওলকে। তবে অক্ষয় খন্না, সুনীল শেট্টী, জ্যাকি শ্রফের জায়গা নিয়েছেন বরুণ ধবন, অহান শেট্টী ও দিলজিৎ দোসাঞ্জ, মোনা সিংহ-সহ অন্যেরা।
এই ছবির গান নিয়ে বিস্তর বিতর্ক চলেছে। গীতিকার জাভেদ আখতার জানিয়েছেন, এই ছবিতে কাজের প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন। ‘বর্ডার’ ছবির ‘ঘর কব আওগে’ গানটি অসম্ভব জনপ্রিয় হয়েছিল। গানটি লিখেছিলেন জাভেদ। ‘বর্ডার ২’ ছবিতেও এই গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে জুড়েছে বেশ কিছু নতুন কথা। প্রথমে ছবির নির্মাতারা এই গানটির জন্য নতুন কথা লেখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জাভেদকেই। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। একদা জনপ্রিয় গান নিয়ে কাটাছেঁড়া করাকে সৃজনশীল ভাবে দেউলিয়াপনারই লক্ষণ বলে মনে করেন জাভেদ। পাশাপাশি, কিছু দিন আগে এই ছবিতে বরুণ ধবনের অভিনয় নিয়েও সমাজমাধ্যমে নানা তর্কবিতর্ক হয়। তবে এ সব বিষয় অগ্রিম বুকিংয়ে ছাপ ফেলেনি। অগ্রিম বুকিংয়ে আয় করেছে তিন কোটি সাত লক্ষ টাকা। শোনা যাচ্ছে, গত বছরের শেষে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’-কে নাকি হারিয়ে দেবে সানির ছবি!
বিজয়নগরের হীরে
সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় চরিত্র ‘কাকাবাবু’কে নিয়ে তিনটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। এ বার ‘বিজয়নগরের হীরে’ গল্পটি নিয়ে চতুর্থ ছবি। ‘কাকাবাবু’র চরিত্রে প্রসেনজিৎ। তবে এই ছবিতে বদলে গিয়েছে পরিচালক। এত দিন ‘কাকাবাবু’ সিরিজ় নিয়ে কাজ করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু পরিচালক এই চরিত্রটা নিয়ে আর কাজ না করার কথা জানাতেই দায়িত্ব পড়ে চন্দ্রাশিস রায়ের উপর। কথা ছিল বদল হবে কাকাবাবুর সহকারী সন্তুরও। সন্তুর চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল ‘পোস্ত’ খ্যাত অভিনেতা অর্ঘ্য বসুরায়ের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রযোজনা সংস্থা সিদ্ধান্তেই সন্তুর চরিত্রে ফিরে আসেন আরিয়ান ভৌমিক। পাশাপাশি জোজোর চরিত্রের জন্য ব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছিল। কিন্তু সূত্রের দাবি, পরে নির্মাতারা ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই আরিয়ানকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। আরিয়ান সন্তুর চরিত্রে থাকলে জোজোর বয়সও বেড়ে যাওয়া উচিত। সেইমতো এই চরিত্রের জন্য বেছে নেওয়া হয় পূষণ দাশগুপ্তকে। এমনিতেই বক্সঅফিসে ‘কাকাবাবু’ সিরিজ়ের একটা স্থায়ী দর্শক রয়েছে। এই ফ্র্যা়ঞ্চাইজ়ির আগের তিনটি ছবি হিট। নতুন পরিচালকের হাতে পড়ে এই ছবি পুরনো চমক কতখানি দেখাতে পারবে সেটাই দেখার।
হোক কলরব
রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত এই ছবির ঝলক মুক্তি হওয়ার পর থেকেই ছবিটা নিয়ে রাজনীতির গন্ধ পেয়েছেন অনেকে। কারণ, ‘হোক কলরব’ শব্দবন্ধনীর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে একটি আন্দোলন। ২০১৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এই আন্দোলনের ডাক দেন। তাঁদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে মিছিলে হাঁটেন সাধারণ মানুষও। ছাত্রছাত্রীদের সেই আন্দোলনের জেরে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়সড় প্রশাসনিক বদলও ঘটে এর জেরে। এ বার রাজের ছবিতেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরের অজানা গল্পই দেখা যাবে। যদিও পরিচালক এটাকে কাল্পনিক গল্পই বলেছেন।
রাজ এখন শুধু পরিচালক নন। রাজ্যের শাসকদলের বিধায়কও। তাঁর ছবিতে এক ঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রীর পাশাপাশি রয়েছেন তৃণমূলের সাংসদ পার্থ ভৌমিকও। পরিচালকের দাবি অনুযায়ী, তাঁর এই ছবি রাজনীতির গন্ধবর্জিত। তবে আদৌ এই ছবি কতখানি রাজনৈতিক তা ভাবার ভার এখন দর্শকের হাতেই।
ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল
ছুটির আমেজের সঙ্গে সুযোগ থাকছে রহস্য- রোমাঞ্চেরও। অরিত্র মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে রয়েছে মিমি চক্রবর্তী, সোহম মজুমদার, বনি সেনগুপ্ত ও স্বস্তিকা দত্ত। ইতিমধ্যেই ছবির গানগুলির মধ্যে ‘দেখা হবে চাঁদনি রাতে’ দর্শকের মন জয় করেছে। এই ছবির ‘ইউএসপি’ জুটি। এই দু’টি জুটি বাংলা সিনেমায় নতুন। প্রেম থেকে টানটান রহস্য, রোমাঞ্চ সবই রয়েছে এই গল্পে। বাকি তিনটি ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভূতেদের ‘কীর্তিকলাপ’ কত দূর এঁটে উঠতে পারে, সেটা সপ্তাহের শেষেই বোঝা যাবে।