২০১৮ নিশ্চয়ই আলাদা করে মনে থাকবে আপনার?
কোনও বিশেষ ঘটনা? কেন বলছেন বলুন…

উজান। আপনার ছেলের ডেবিউ…
ঠিকই। উজানের জন্য এ বছরটা আমার কাছে সেরা তো বটেই। খুব ভাল শুরু করেছে ও। এত মানুষ দেখছেন। চারপাশে হাউজফুল ‘রসগোল্লা’। মানুষ ওকে পছন্দ করেছেন, খুব ভাল লাগছে।

ছেলের ডেবিউ তো অন্য পরিচালকের হাত ধরে হল…
দেখুন, এমন একটা ঐতিহাসিক ছবির সঙ্গে যে উজান জড়িয়ে গেল সেটাই আনন্দের। কারণ এটা একটা দলিল। আমরা তো নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে ভুলে গিয়েছি। রসগোল্লা, যেটা দিয়ে সারা পৃথিবী বাংলাকে রিলেট করে, সেটার আবিষ্কার কী ভাবে হয়েছে কেউ জানত না। নবীনচন্দ্রের জীবনযুদ্ধ গল্পের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। আর সেই নবীনচন্দ্রের ভূমিকায় ও অভিনয় করেছে। আমি বা চূর্ণী নেই। একজন অন্য পরিচালক রয়েছেন। সেখানে ও নিজেকে উজার করে দিয়েছে। উজান, অবন্তিকা এবং পাভেল—এই তিন নিউ কামারের জন্যই আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।

আরও পড়ুন, আমার এক্সাইটমেন্টটা ভেতরেই থাকবে, বলছে জোজো

ছবি দেখার পর উজানের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন?
অভিনয় সংক্রান্ত ব্যাপারে আমি যথেষ্ট ফিনিকি। ইন্ডাস্ট্রির লোকেরা মনে করেন, আমি মানুষকে দিয়ে ভাল অভিনয় করাতে পারি। তার মানে আমার অভিনয় মাপবার এত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে একটা ক্ষমতা আছে। আমি আর চূর্ণী দু’জনেই দেখেছি ছবিটা। আমাদের অবজারভেশন একান্তে উজানকে বলেছি। তোমার এইগুলো আমাদের মনে হয়েছে চেঞ্জ হওয়া দরকার। তবে আমাকে যেটা ফ্যাসিনেট করেছে, প্রথম ছবির একাগ্রতা। যে পরিমাণ পরিশ্রম, নিষ্ঠা, একজন অভিনেতার কিছু করবার ইচ্ছে, সেটা সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ। অসম্ভব ভাল কিছু মুহূর্ত আছে উজানের। কিছু মুহূর্ত আছে যেখানে ও আরও ভাল করতে পারত। সে সব আলোচনা হয়েছে।

অর্থাত্ সমালোচনায় কোনও ছাড় নেই।
আমরা সেই বাড়িতে বিলং করি, আমি, চূর্ণী, উজান— যেখানে আমরা ভাল লাগা, মন্দ লাগাতে কেউ কাউকে রেয়াত করি না। খোলা মনে আলোচনা করে নিই। ওর কোনও অবজারভেশন থাকলে সেটাও বলে। উজান পড়াশোনায় খুব ভাল। যারা ভাল ছাত্র হয়, তারা পৃথিবীর সব কিছুতে ভাল ছাত্র হয়। উজান নিজেই বুঝে নিতে পারবে ওর কী কী হওয়া দরকার। আমার মনে হয়, ও যদি আবার ছবি করে ভাল কাজ করবে। নিষ্ঠাবান ছাত্রের মতো। আর যদি অধ্যাপক হয়ে যায় এ আলোচনার কোনও অর্থ নেই।

আরও পড়ুন, বিয়ের পরের জীবনটা এনজয় করছি, বলছেন শুভশ্রী

কয়েকদিন আগেই খুব সুন্দর একটা ছবি আপনি টুইটারে শেয়ার করেছেন। পাশাপাশি আপনার আর উজানের ছবির পোস্টার…
এটা খুব রেয়ার। আমার তো মনে পড়ছে না, আমার জীবদ্দশায় কোনও পরিবারের এরকম দেওয়াল দেখেছি আমি (হাসি)। আবার এরকমই একটা দেওয়াল হয়তো হতে চলেছে বৈশাখ মাসে। যেখানে চূর্ণীর ‘তারিখ’ আর আমার ‘জেষ্ঠ্যপুত্র’র পোস্টার পাশাপাশি পড়বে। আসলে আমি আর চূর্ণী তো শিক্ষকতা করতাম। সে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে আমরা মানুষকে বিনোদন দিতে এসেছি। এটার একটা অদ্ভুত নেশা আছে। অন্য কিছু করার পড়াশোনা ছিল আমাদের। আমার বাবাও এন্টারটেনার ছিলেন (শিল্পী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)। সেটা আপনি জানেন। আমরা এন্টারটেনার। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে থার্ড জেনারেশন যখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসে, তার ছবিটা ভাল চলতে শুরু করে, তখন খুব আনন্দ লাগে। আমাদের পরিবার অ্যাজ আ এন্টারটেনার সোসাইটিকে সার্ভ করছে। এর থেকে গর্বের কিছু হতে পারে না। সে জন্য লিখেছিলাম, ধন্যবাদ সিনেমা।

যে সিনেমার পোস্টারের জন্য এ কথা লিখেছিলেন, সেই ‘বিজয়া’র প্রেক্ষাপট কোথায়?
অনেকটাই কলকাতায়।


‘বিজয়া’র গণেশ মণ্ডল।

তা হলে নতুন প্রেক্ষাপটে ‘বিসর্জন’-এর গণেশ মণ্ডল, পদ্মা এবং নাসির আলি কতটা পরিণত?
কারেক্ট শব্দটা ব্যবহার করেছেন। পরিণত। তিনজনেই ভীষণ পরিণত। ‘বিসর্জন’-এর মধ্যে একটা হালকা ভালবাসার গল্প ছিল। খুব মনোযোগ দিয়ে ভাবলে ‘বিসর্জন’-এর গল্পের মধ্যে সারবত্তা তেমন নেই। একটা অসুবিধের মধ্যে পড়া এবং সেখান থেকে বেরিয়ে চলে আসা। কিন্তু অনেক জটিল, অনেক গভীর একটা ভালবাসার জায়গায় যায় ‘বিজয়া’। মাথায় রাখতে হবে এমন একটা সময় ছবিটা রিলিজ করছে যখন পরকীয়া আর অবৈধ নয়। যেখানে ত্রিভুজ ব্যাপারটা প্রায় সরলরেখার মতো। সেখানে দাঁড়িয়ে আমারও একটা বার্তা দেওয়ার আছে। পরকীয়া মানেই একটা বিচ্ছিরি গুজগুজ ফুসফুস নয়। খুব সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালবাসার জিনিস হতে পারে পরকীয়া। অক্সিজেনের মতো এসেনশিয়াল হতে পারে পরকীয়া সম্পর্ক, যদি তাতে ভদ্রতা, শিক্ষা, রুচি থাকে। এ সব কিছু উত্তীর্ণ করেও গণেশ, পদ্মা এবং নাসিরের যে ভালবাসার জায়গা তা যে কি বিচিত্র সমস্ত শেপ নিতে থাকে ‘বিজয়া’তে সেটাই দেখবার।

আরও পড়ুন, একটা ফাঁকা ছেলে খুঁজে দিন, আই উইল লভ টু ডেট, বলছেন স্বস্তিকা

ভালবাসার জায়গা, পরকীয়ার কথা বলছেন। এ বার তো পদ্মা ভাসাবে তা হলে?
ভাসাবে তো বটেই। এ গল্পটা আষাঢ় মাসের। এ পদ্মা জলে টইটুম্বুর। বিসর্জনের পর তো ঠাকুর ধুয়ে যায়, চলে যায়। তার পর যে আলিঙ্গনগুলো হয়, কোলাকুলি হয়, তাতেই পরবর্তী সময় কী ভাবে যাবে তার অদ্ভুত আদানপ্রদান থাকে। বন্ধু, শত্রু ভুলে গিয়ে সবাই সৌজন্যটা রাখে। ‘বিজয়া’ কথাটার মধ্যে একটা সৌজন্য আছে। সেই সৌজন্যের পরিধিতে গণেশ, নাসির এবং পদ্মা বাংলাদেশের মানচিত্রকে লঙ্ঘন করে কলকাতার ওপর দিয়ে আষাঢ় মাসে বয়ে যাবে। পদ্মা যখন অতিরিক্ত জল নিয়ে কলকাতার ওপর দিয়ে বয়ে যাবে, তার প্লাবন কী ভাবে শহর বা নাসির আলি সামলায় সেটা দেখার মতো।

কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য কতটা জড়িয়ে থাকছে ‘বিজয়া’তে?
কালিকা পুরোপুরি জড়িত। যতটা ‘বিসর্জন’-এ ছিল ততটাই। কালিকার গান রয়েছে। দোহার রয়েছে। কালিকার স্পিরিট তো রয়েইছে। কালিকার গান দিয়েই শুরু হবে ছবিটা। ও লাস্ট গাইড ট্র্যাক ‘যায় যায় ভাইস্যা ভাটির টানে’ গেয়ে গিয়েছিল। ‘বিসর্জন’এর শেষে ব্যবহার করেছিলাম। ওটাই রেখে দিয়েছি। এই ছবির শুরুতে ব্যবহার করেছি ওটাই।


‘বিজয়া’র দৃশ্যে জয়া আহসান এবং কৌশিক।

গণেশ, পদ্মা বা নাসিরকে কি আপনি দেখেছেন সামনে থেকে?
চরিত্রগুলো কাল্পনিক। কিন্তু এই যন্ত্রণা, অসুবিধাগুলো আমার দেখা। এই গ্রাম বাংলা আমি দেখেছি। তার মধ্যে আমি থেকেওছি। এখনকার পরিচালকরা গ্রাম বাংলা নিয়ে ছবিই বানান না। আমার আবার কলকাতায় শুটিং করতে ভাল লাগে না। দূরে অচেনা জায়গায়, সে বীরভূমের গ্রাম হোক, বা ঝাড়খণ্ডের গ্রাম। আমি যেখানে থাকি না, সেখানে গিয়ে শুটিং করতে খুব ভাল লাগে।

‘বিজয়া’র পরেও গল্প রয়েছে? এর পর নিশ্চয়ই সেটা বলবেন?
‘বিসর্জন’-এর জাস্ট পরেই ‘বিজয়া’। ‘বিসর্জন’-এর আগে এবং ‘বিজয়া’র পরে একটা পার্ট আছে। ‘বিজয়া’ ভাল চললে, প্রযোজক চাইলে পরেরটা হবে। গল্প রেডি। চিত্রনাট্য লিখতে হবে। গল্প বলতে তো সবার ভাল লাগে। মানুষ জানবে না কী হল এর পর…

আরও পড়ুন, #মিটু? ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও কিছু ইচ্ছের বাইরে হয় না, বললেন শর্বরী

‘বিসর্জন’-এর মতো ‘বিজয়া’তেও জাতীয় পুরস্কার আসবে তো?
তার কোনও মানে নেই। ওভাবে প্রেডিক্ট করা যায় না। আরও বন্ধুরা ছবি বানাচ্ছেন। আমি তো ‘সিনেমাওয়ালা’, ‘অপুর পাঁচালি’ ভেবেছিলাম জাতীয় পুরস্কার পাবে। শিওর ছিলাম। কিন্তু পায়নি। অ্যাওয়ার্ড ভেবে ছবি বানানো যায় না। আমি অন্তত বানাই না। আর ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমার কাছে যথেষ্ট অ্যাওয়ার্ড রয়েছে। মাঝে মধ্যে আরও কিছু জুটে যাচ্ছে ভাগ্য ভাল… (হাসি)।

(সেলেব্রিটি ইন্টারভিউ, সেলেব্রিটিদের লাভস্টোরি, তারকাদের বিয়ে, তারকাদের জন্মদিন থেকে স্টার কিডসদের খবর - সমস্ত সেলেব্রিটি গসিপ পড়তে চোখ রাখুন আমাদের বিনোদন বিভাগে।)