পুজোয় আসছে ‘হইচই আনলিমিটেড’। খরাজ মুখোপাধ্যায় রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। পাশাপাশি ‘সোয়েটার’-এও রয়েছেন তিনি। কখনও মন খারাপ, কখনও বা সিনেমা পরিচালনার কথা শেয়ার করলেন একান্ত আড্ডায়।

পুজোয় তো এ বার দারুণ ‘হইচই...’?
সত্যিই...। হইচই ভাল হবে। ফিল গুড ছবি ‘হইচই আনলিমিটেড’। বিরাট বোঝার কিছু নেই। ছবিটা দেখতে মজা লাগবে।

কমেডি ছবি, অর্থাত্ আপনার বা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের তো খোলা মাঠ...।
সকলেই ভাল কাজ করেছেন। হইহই করে নতুন জায়গায় গিয়ে কাজ করলাম আমরা। দেব ওখানে একদম মাটির মানুষ। এ ভাবে তো ওকে কখনও পাইনি।

প্রযোজক দেবের কথা বলছেন?
হ্যাঁ। ও তো সুপারস্টার। আবার প্রোডিউসার। উজবেকিস্তানে হোটেলের ঘরে ঢোকার এক মিনিটের মধ্যে ফোন করেছিল আমাকে। প্রশ্ন করল, ‘কমফর্টেবল?’ আমাদের বেশি প্রেফারেন্স দিত। এমন কখনও হয়নি, আমরা যা খুশি খাচ্ছি, আর ও ভাল খাবার খাচ্ছে। সবার জন্য এক ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন, ‘অন্য হিরোরাও তো প্রোডিউসার হয়েছেন, ডিফারেন্স দেখতে পাচ্ছেন?’ বলছেন দেব

কাকে বেশি নম্বর দেবেন, অভিনেতা দেব, না কি প্রযোজক দেব?
(হেসে) প্রোডিউসারকে এগিয়ে রাখব তো বটেই। আর অভিনেতার থেকে ওকে বন্ধু বলব বেশি। সত্যিই এখানে ওকে নায়ক মনে করিনি। বন্ধু মনে করেছি। আপনারা ছবিটা দেখলে বুঝতে পারবেন, চার জনের (দেব, খরাজ, শাশ্বর, অর্ণ) সমান জায়গা। দেব নাচে ভাল, অসম্ভব পরিশ্রম করেছে ছবিটায়। ও এবং গোটা ইউনিট।

আপনি তো শিলাদিত্য মৌলিকের ‘সোয়েটার’-এও অভিনয় করছেন...
হ্যাঁ। ওই ছবিটায় মধ্যবিত্ত পরিবারে সাধারণ বাবা যেমন হয়, তেমন আমার চরিত্র। মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তা রয়েছে। দুই মেয়ে দু’রকম। এক মেয়ে চালাক চতুর। নিজের জীবনটা ভাল ভাবে সাজানোর চেষ্টা করছে। বড় মেয়েটা নার্ভাস, থতমত। নিজের জীবনটা সাজিয়ে নিতে পারছে না। বাবা-মা পাত্রস্থ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু রিজেক্টেড হচ্ছে। পা়ড়ায় হাসিঠাট্টা হচ্ছে। নোংরা অফারও আসছে। বাবা মেয়েকে বুস্টআপ করার চেষ্টা করে। কিন্তু হচ্ছে না। এর পর অদ্ভুত এক সম্বন্ধ আসে। বলা হয়, সোয়েটার বুনতে পারলে বিয়ে হবে। মেয়ে কিন্তু পারে না। অথচ বাবা কোনও রকমে ব্যালান্স করে। বলে, সেলাইটা ভাল পারে।


‘হইচই আনলিমিটেড’-এ দেবের সঙ্গে খরাজ।

অর্থাত্ মিথ্যে কথা বলেও মেয়ের বিয়ে দিতে চান?
হ্যাঁ। মানে মেয়েকে হবু শাশুড়ি বলে বুনে দেখাও সোয়েটার। চ্যালেঞ্জের মতো হয়ে যায় সেটা। আমার যে চরিত্র তার বোনের একটা এনজিও আছে। সেখানে ছেলেমেয়েদের এ সব শেখায়। সেখানে মেয়েকে নিয়ে যায় বাবা। বোন সম্বন্ধের শর্ত শুনে আপত্তি করে। কিন্তু বাবা বলে, এটাতে রাজি না হওয়া সম্ভব নয়। মেয়ে এ বার কেমন করে বাঁচতে হয়, মেয়ে আস্তে আস্তে বুঝতে পারে। স্ট্রাগলটা বোঝে। মেয়ে কিন্তু স্বাবলম্বী হতে শেখে।

এমন মেয়ে তো এখনও আছেন। এমন বাবাও আছেন...
অবশ্যই আছেন। বাবারা রিলেট করতে পারবেন ছবিটা। প্রচুর বাবা-মাকে দেখেছি এমন। নিজের বোন যে সিগারেট খায় সেটা ভাবতেই আতঙ্ক হয়ে যায়। এখনও বহু পরিবার এমন আছে।

আরও পড়ুন, বিয়ে কবে? ঐন্দ্রিলা বললেন...

নতুন টিম কেমন?
পরিমার্জিত সিস্টেমে ডিরেক্টর শুট করেছেন। নতুনরা তো আউটস্ট্যান্ডিং। গল্পের ভাবনাটা খুব সুন্দর। এ রকম ধরনের ছবি করার জন্যই মুখিয়ে থাকি। আর কত কপিক্যাট করব বলুন তো? এই ধরনের মৌলিক ছবির জন্যই তো এত দিন ধরে অভিনয় শিখেছি।

এটা কি ক্ষোভের কথা?
না। রবি ঘোষ আমাকে শিখিয়েছিলেন, জীবনে আফসোস করিস না। পিছিয়ে যাবি। যেটা পাওয়ার নয়, বুঝব সেটা পাওয়ার ছিল না। আর যা পেয়েছি তা দর্শকদের ভালবাসায়।


নাটক পরিচালনা করছেন। সিনেমা করবেন না?

কপি ক্যাট ছবিতে অভিনয় করেন কেন? এ প্রশ্ন তো আপনার দর্শকেরও।
(সামান্য পজ) দেখুন, কিছু কিছু কাজ থাকে, যার ব্যাখ্যা দিতে গেলে আরও সমস্যা বাড়বে। এ সব কাজ যে নিরুপায় হয়ে করছি, এটা দর্শক বুঝবেন। যেমন ধরুন, ‘হারবার্ট’-এ শুভাশিসদাকে আমরা দেখেছি অসাধারণ চরিত্র করেছেন। তা হলে সেই অভিনেতাই বস্তাপচা কমেডি চরিত্র করে গিয়েছেন বছরের পর বছর। কেন? নিশ্চয়ই কোনও কারণ আছে। সেটুকু বোঝার বুদ্ধিমত্তা আমাদের দর্শকদের মধ্যে আছে। অন্তত কিছু জন তো বুঝবেন। উত্পল দত্তও ‘অনুসন্ধান’ করেছেন। এগুলো ভাবি আমরা। আমরা চাই এমন কাজ হোক, আমাদের এমন চরিত্রই দেওয়া হোক, যেখানে অ্যাক্টিংয়ের সূক্ষ থেকে সূক্ষতর জায়গাটা আছে।

সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাচ্ছেন না বলে তো অভাব তৈরি হয়?
অবশ্যই। হতে বাধ্য। সেই অভাবটা থিয়েটারে পূরণ করি। ‘প্রথম পাঠ’ করছি। ‘পড়ে পাওয়া ষোল আনা’ করেছি। আমি নিজে ডিরেক্টও করেছি ওটা। তার মধ্যে কি হিন্দি কি বাংলা, মৌলিক ছবির অফার এলে করতে খুবই ভাল লাগে। তবে খারাপ ছবি হলেও ভালবেসে করি।

আরও পড়ুন, আমার কাছে প্রচুর সিনেমার অফার নেই, বলছেন ইশা

সত্যি বলুন তো, একই রকম মনযোগ পছন্দের ছবি এবং অপছন্দের ছবি, দু’টোর ক্ষেত্রেই দিতে পারেন?
আমার সব কাজই আমার সন্তান। এটা সৌমিত্রদার থেকে শিখেছি। স্বপন সাহার ডিরেকশন যতটা সিনসিয়ারলি শুনতেন উনি, সত্যজিত্ রায়ের ক্ষেত্রেও তাই। এই প্রফেশনালিজম যে কোনও অভিনেতার থাকা উচিত।

আর কী কী ছবি আসছে আপনার?
একটা হিন্দি ছবির কথা হয়ে রয়েছে। রাঁচিতে শুটিং হবে। কোলিয়ারি বেল্টে। পথিকৃতের ছবি আছে। শিবুর ছবির কথা হয়েছে। আর একটা বাংলাদেশের ছবি সামনে আছে।

আরও পড়ুন, ‘মান্টো’ একটা আইডিয়া, আমি সেটাই দেখাতে চেয়েছি, বললেন নন্দিতা

নাটক পরিচালনা করছেন। সিনেমা করবেন না?
খুব ইচ্ছে আছে জানেন। অনেক গল্পও লিখে রেখেছি। চেষ্টাচরিত্রও করছি। শিকে ছিঁড়ছে না।

খরাজের আক্ষেপ বা আফসোস নেই তো বুঝলাম। কিন্তু মন খারাপ?
এখনও অনেক ডিরেক্টর, প্রোডিউসার আছেন যাঁরা চরিত্রাভিনেতার ওপর নির্ভর করে ছবি করেন না। অথচ চরিত্রাভিনেতারাই ছবিটা বাঁচায়। চরিত্রাভিনেতাদের ভরসা করা হবে, এমন একটা দিনের অপেক্ষায় রয়েছি।