• স্বরলিপি ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘মান্টো’ একটা আইডিয়া, আমি সেটাই দেখাতে চেয়েছি, বললেন নন্দিতা

celebs
নন্দিতা এবং ‘মান্টো’র লুকে নওয়াজ।

‘মান্টো’। নন্দিতা দাস পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর। প্রথম যখন ‘মান্টো’ হিসেবে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির লুক সামনে এসেছিল, তখন থেকেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল প্রবল ছিল। প্রভা খৈতান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছবি মুক্তির আগে বৃহস্পতিবার কলকাতায় পাঁচতারা হোটেলে প্রচারে এসে মুখোমুখি হলেন নন্দিতা এবং নওয়াজ।

‘মান্টো’। এই নামটার সঙ্গে কতজন দর্শক পরিচিত বলে আপনার মনে হয়?
নন্দিতা: অনেকেই ‘মান্টো’ পড়েছেন। আবার হয়তো অনেকেই পড়েননি। তবে এখন আর ‘মান্টো’ অচেনা নাম নয়।

যাঁরা পড়েননি, তাঁরা ছবিটা দেখার উত্সাহ পাবেন কি?
নন্দিতা: নিশ্চয়ই। যাঁরা সত্ এবং নির্ভীক, যারা সত্ এবং নির্ভীক হতে চান। যাঁরা পড়েছেন, যাঁরা পড়েননি, এটা সবার ছবি।

সত্যিই কি সব দর্শক ছবিটা বুঝতে পারবেন? ইজ ইট আ মাস অর ক্লাস ফিল্ম?
নন্দিতা: দেখুন, আমি এই ডিভিশনেই বিশ্বাসই করি না। একটা ঘটনা বলি, কাস্ট অ্যান্ড ক্রুয়ের জন্য ছবিটার একটা স্ক্রিনিং হয়েছিল মুম্বইতে। সেখানে আমার ড্রাইভার ছিল। ওকে বলেছিলাম, তোমার সিনেমাটা দেখার একটাই শর্ত। যেমন লাগবে, সেটা সত্যি বলতে হবে। ও সিনেমা দেখে বেরিয়ে বলল, দিদি, তখনও সত্যি বলাটা কত কঠিন ছিল, আজও সত্যি বলাটা কঠিন। সচ্চে আদমির কি কোনও জায়গা নেই? তাদের কি সব সময় সমস্যায় পড়তে হবে? ও কিন্তু এটা ভেবেছে। ও কিন্তু মান্টো পড়েনি। তো, আমার মনে হয় এটা আমাদের অ্যারোগেন্স, এটা আমরা বুঝব, বাকিরা বুঝবে না। এটা আমরা ভাবি। কিন্তু ‘মান্টো’ সবার ছবি। নিশ ফিল্ম বা ফেস্টিভ্যাল ফিল্ম বলে আলাদা কিছু হয় বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আমাদের অডিয়েন্সকে আরও বিশ্বাস করতে হবে। যদি ভাল ছবি হয়, সবাই দেখবে। নিজের মতো করে তার মানে বুঝে নেবে।

আরও পড়ুন, ‘অন্য হিরোরাও তো প্রোডিউসার হয়েছেন, ডিফারেন্স দেখতে পাচ্ছেন?’ বলছেন দেব

নওয়াজ, যখন ‘মান্টো’র চরিত্র পেলেন, কী মনে হয়েছিল?
নওয়াজ: আমার মনে হয়েছিল, ‘মান্টো’ খুব সেনসেবল ক্যারেক্টার। আমার ফিলসফির সঙ্গে ‘মান্টো’কে মেলাতে পেরেছি।

কতটা কঠিন মনে হয়েছিল?
নওয়াজ: কঠিন তো ছিলই। ‘মান্টো’র সততা দেখানো কঠিন ছিল। কতটা সততা দেখাতে পারব, সেটাই চ্যালেঞ্জ ছিল। একটুও ডিজঅনেস্ট হলেই সেটা মুশকিল হত।


সাংবাদিকের মুখোমুখি অভিনেতা এবং পরিচালক।— নিজস্ব চিত্র।

নন্দিতা, কতটা হেল্প করেছে?
নওয়াজ: ওহ…! ও তো পাঁচ-ছ’বছর ধরে রিসার্চ করেছে ‘মান্টো’র ওপর। শুটিং শুরুর আগে আমরা ওয়ার্কশপ করেছিলাম। তখন তো ও লেডি মান্টো হয়ে গিয়েছিল (হা হা হা…)। ফলে আমার পক্ষে, আমাদের সব অভিনেতাদের পক্ষেই খুব সুবিধে হয়েছিল। আমার মনে হয়েছিল, মান্টো যা লিখেছে, আমিও তো এটাই বলতে চেয়েছি। এটাই তো আমার ভাবনা। ফলে পারফরম্যান্সের যে মহল ছিল, ক্যারেক্টারকে প্যাম্পার করার যে ব্যাপার ছিল— সেখানে ডিরেক্টর খুবই হেল্প করেছে।

নন্দিতা, আপনার বাবা অর্থাত্ চিত্রশিল্পী তথা ভাস্কর্যশিল্পী যতীন দাসের সঙ্গে মান্টোর কোনও মিল খুঁজে পেয়েছেন কখনও?
নন্দিতা: পেয়েছি। বাবা ওরকম বলেই হয়তো ‘মান্টো’কে বুঝতে সুবিধে হয়েছে। কোন ছবির কী মানে, সেটা জানতে চাইলে বাবা সব সময় বলে, তুমি যেটা বুঝেছ, সেটাই তোমার মানে। আসলে মান্টো যে ভাবে কথা বলত, সেটার সঙ্গে আমি নিজেকে মেলাতে পারি। কেরিয়ার, প্রফেশন, সাকসেস এই শব্দগুলো শুনে কিন্তু আমরা বড় হইনি। কিন্তু এখন এগুলো কমন ল্যাঙ্গুয়েজ, আমাদের সময় কিন্তু কোনও প্রেশার ছিল না।

আরও পড়ুন, ‘ওহ ম্যাম, ইউ আর মাই ক্রাশ...’ জুন মালিয়াকে কে বললেন এ কথা?

আর ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে মান্টোর মিল খুঁজেছেন?
নন্দিতা: ভেবেছি। এটা নিয়েও ভেবেছি। ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে কিছু মিল তো পেয়েছি বটেই। কিছুটা ভায়োলেন্স, ভয়ঙ্কর সেনসিটিভ দু’জনেই, কিছুটা মদ খাওয়া…। আসলে ফ্রি স্পিরিট, কনভিকশন, নির্ভীকতা নিয়ে মান্টো একটা আইডিয়া। আমি মান্টোর সেই চিন্তা ভাবনাকে ইন্ট্রোডিউস করতে চেয়েছি। রাইটার হিসেবে মান্টোকে ইন্ট্রোডিউস করতে চাইনি কিন্তু। আমি বিশ্বাস করি, মান্টো আজও খুবই প্রাসঙ্গিক। সে জন্যই করেছি ছবিটা।

নওয়াজকে বেছে নিলেন কেন?
নন্দিতা: ওর ডেপথ, ওর রেঞ্জ, ও এত ভাল অ্যাক্টর…।কেন ওর কথা ভাবব না বলুন তো? নওয়াজের জীবনের স্ট্রাগল তো ওর চোখে ধরা পড়ে। সেই স্ট্রাগলটা আমার ছবিতেও দরকার ছিল। মাত্র দু’ঘন্টায় এত কনট্রাডিকশন, এত শেডস দেখানোটা সহজ ছিল না। ফলে একজন ভাল অভিনেতা, তার থেকে একজন ভাল মানুষ আমার দরকার ছিল।


‘মান্টো’য় নওয়াজ এবং রসিকা।

নওয়াজ, আপনার কেরিয়ারেও তো একেবারে অন্য রকমের কাজ এটা?
নওয়াজ: দেখুন, বলিউড হিরো ছাড়া আর সব ক্যারেক্টার করেছি আমি। বলিউড হিরোর ক্যারেক্টার করতেও চাই না। আমি বাংলা ছবি দেখে বড় হয়েছি। সেখানে কত শেখার জায়গা। আমি চেষ্টা করি, হিরো ছাড়া আর যে কোনও ক্যারেক্টার হোক আমার চলবে। আমি খুশি হই। আমি তিনটে ছবিতে গ্যাংস্টারের রোল করেছি। এই যদি হিরোর রোল করতাম, আপনি কিন্তু আজ এই প্রশ্নটা করতেন না।

ঠিকই। যেহেতু পিরিয়ড ফিল্ম, আর্ট ডিরেকশন ডেফিনেটলি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, নন্দিতা?
নন্দিতা: অ্যাবসোলিউটলি। যখন এই ছবিটার জন্যআমার কাছে কোনও পয়সা ছিল না, তখন থেকে লোকেশন দেখেছি। কারণ সেটাই তো কনটেক্সট তৈরি করবে। সেটে সুইচবোর্ড বা ফানির্চার ঠিক আছে কিনা, আগে দেখে নিতাম। রিতা ঘোষ আর্ট ডিরেকশন দিয়েছে। খুব ভাল কাজ করেছে। তবে আর্ট, মিউজিক, সিনেমাটোগ্রাফি কোনওটাই যেন ওভার পাওয়ার হয়ে না যায়, ক্যারেক্টার বা গল্পের ওপর না যায়, সেটা দেখাটা ছিল আমার কাজ।

আরও পড়ুন, শ্রীলেখা-সিধুর ‘দাম্পত‍্য’... দার্জিলিঙে?

ডিরেক্টর হিসেবে, ‘মান্টো’ তৈরি করতে এত সময় লাগল কেন?
নন্দিতা: সব কিছু রিটেন মেটিরিয়াল থেকে খুঁজতে হয়েছে তো। রিসার্চে অনেকটা সময় লেগেছে। লিখতে সময় লেগেছে। তারপর ফান্ড জোগাড় করা, কাস্ট, লোকেশন…।

এর পর কি নতুন কিছু, নাকি আবার পিরিয়ড ফিল্ম?
নন্দিতা: না, এখন আর পিরিয়ড করব না। আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। কোনও একটা জিনিস রিক্রিয়েট করাটা খুবই কষ্টকর।

বাংলা ছবি নন্দিতাকে আবার কবে পাবে?
নন্দিতা: ভাল একটা ছবির অফার এসেছিল। নাম বলতে পারব না (হাসি)। ‘মান্টো’র জন্য আর কিছু ভাবতে পারিনি তখন। আমারই এক বন্ধু অভিনয় করছে।

আর ডিরেকশন?
নন্দিতা: বাংলায় ডিরেকশন নিয়ে ভাবিনি এখনও। এখানে তো কত ভাল ভাল ডিরেক্টররা রয়েছেন…।

(সেলেব্রিটি ইন্টারভিউ, সেলেব্রিটিদের লাভস্টোরি, তারকাদের বিয়ে, তারকাদের জন্মদিন থেকে স্টার কিডসদের খবর - সমস্ত সেলেব্রিটি গসিপ পড়তে চোখ রাখুন আমাদের বিনোদন বিভাগে।)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন