Advertisement
E-Paper

বলো মীর... বলো উন্নত মম শির

আজ তাঁর চল্লিশতম জন্মদিন। এর পর থেকে নাকি আরও ভয়ঙ্কর হবেন তিনি। বিস্ফোরক মীর-এর মুখোমুখি ইন্দ্রনীল রায়আজ তাঁর চল্লিশতম জন্মদিন। এর পর থেকে নাকি আরও ভয়ঙ্কর হবেন তিনি। বিস্ফোরক মীর-এর মুখোমুখি ইন্দ্রনীল রায়

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০০:০১

লেক রোডের ক্যাফে কফি ডে-তে তিনি ঢুকতেই পকেট থেকে স্মার্টফোনগুলো বেরোতে শুরু করল। সবাই তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে, হ্যান্ডশেক করতে চায়। সানগ্লাস খুলে চেয়ার টেনে বসলেন। ফেসবুকে টলিউড অভিনেত্রীদের ‘ঝিঙ্কু মামণি’ থেকে মদন-মুকুল, বাদ গেলেন না কেউ। কিন্তু আড্ডা মারার আগেই শুরু হল হাসি...

হাসছেন কেন?

পুরো ব্যাপারটা কী রকম সিরিয়াস সিরিয়াস... ইন্টারভিউ-ইন্টারভিউ ভাব। আমার এ সব সিচুয়েশনে হাসি পেয়ে যায়।

আজকে আপনার চল্লিশতম জন্মদিন। মীর @ ৪০...

ভাবা যায়! চল্লিশ হয়ে গেল! কবীর সুমন বলেছিলেন, চল্লিশ পেরোলেই চালশে। আমি অবশ্য অন্য একটা গান গাইব..

কী সেটা?

চল্লিশ পেরোলেই মাল সে...

মানে?

মানে চল্লিশ পেরিয়ে আমি আরও ডেঞ্জারাস হব। এখন তবু রেখে ঢেকে কথা বলি। এ বার কে কী ভাবল তা নিয়ে মাথাই ঘামাব না। কী ‘মীরাক্কেল’‌য়ে, কী রেডিয়োতে— আরও বড় ‘মাল’ হব।

কার্গিল যুদ্ধের সময় কয়েকটা লাইন খুব বিখ্যাত হয়েছিল জানেন তো—
দুধ মাঙ্গোগে ক্ষীর দেঙ্গে
কাশ্মীর মাঙ্গোগে চির দেঙ্গে...

(হাসতে হাসতে) হ্যাঁ শুনেছিলাম...

এখনও লোকে তাই বলছে।
টিআরপি মাঙ্গোগে মীর দেঙ্গে
ঝিঙ্কু মামণি কহোগে চির দেঙ্গে
’।

হা হা হা হা। ঝিঙ্কু মামণি এপিসোড থেকে একটা ব্যাপার বুঝেছি। চামড়া মোটা করতে হবে ভাই। এখানে একটা বিরাট সার্কাস চলছে। রিং মাস্টার চাবুক মারবে। তোমাকে সেই চাবুক খেতে হবে। ছড়ে যাবে, অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম লাগাতে হবে কিন্তু হাসি থামলে চলবে না।

রিং মাস্টারটা কে?

আছে আছে আছে...তিনি গঙ্গার ধারের একটা এগারো তলা বাড়িতে থাকতে পারেন, যে বিল্ডিংয়ের নাম ‘এন’ দিয়ে শুরু। কী বলছিলাম যেন...

ঝিঙ্কু মামণি...

হ্যাঁ হ্যাঁ। আজকে ‘ঝিঙ্কু মামণি’র কেসটা খুলেই বলি। এটাই ডেফিনিটিভ উত্তর, এর পর যে এই বিষয়ে প্রশ্ন করবে, বলে দেব: প্লিজ রেফার টু আনন্দplus।

ঝিঙ্কু মামণি আমি লিখেছিলাম আমার ফেসবুকের ওয়ালে। আমার মনে হয়েছিল, সে দিন ইডেন গার্ডেন্সে আইপিএল জেতার পর যে ফাংশন হয়েছিল, সেখানে শাহরুখ খান দেরি করে আসাতে আমাদের টলিউডের শিল্পীদের ফিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। একজন আর্টিস্ট হিসেবে ব্যাপারটা ভীষণ লজ্জার লেগেছিল। যে হিরোইনরা নেচেছিল তাদের ‘ঝিঙ্কু মামণি’ বলেছিলাম।

আমি নাম নিয়েই বলছি । ওই অনুষ্ঠানে শ্রাবন্তী ছিলেন, সায়ন্তিকা ছিলেন, পায়েল ছিলেন...

হ্যাঁ, ওদের সঙ্গে কিন্তু আমার তারপর দেখা হয়েছে। সায়ন্তিকা তো ‘মীরাক্কেল’‌য়েও এসেছিল। কিন্তু আমার কোনও অসুবিধা হয়নি ইন্টার‌অ্যাকশনে।

কিন্তু রিঅ্যাকশন তো প্রচুর ছিল। অনেকে রেগেও গিয়েছিলেন আপনার উপরে...

হ্যাঁ রেগে গিয়েছিলেন। গালাগালিও করেছিলেন। একটা বড় ফিল্ম প্রোডাকশন হাউজ তো খোলাখুলি বলেছিল যে, তারা আমার সঙ্গে আর কোনও দিন কাজ করবে না।

এমনিতেই এত কাজ আমার, কাকে যে না বলব বুঝতে পারি না।
তা সেই প্রোডাকশন হাউজ আমাকে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার জীবনটা একটু হলেও সহজ করে দিয়েছে।

রাগ হয়নি?

না রাগ হয়নি। আরে বলেছি তো ঝিঙ্কু মামণি। কিছু ভাল হলে যেমন বলি না আমরা, ‘ঝিঙ্কু হয়েছে মামা’— সে রকম একটা মজা করা। সেই মঞ্চে হিরোইনরা নাচছিল, তাই ‘ঝিঙ্কু মামণি’ বলেছিলাম। আর আমার যখন মতামত দেওয়ার স্বাধীনতা আছে, তাদেরও মীরকে গালাগালি দেওয়ার স্বাধীনতা আছে। আই অ্যাম ওকে উইথ দ্যাট।

কিন্তু সে দিন এখানকার হিরোইনরা যে ভাবে নেচেছিল, সেটা ভাল লাগেনি। আজও লাগে না।

নিন্দুকরা বলেন, এ সব আপনি রাগ থেকে বলছেন। সরকারি কোনও ইভেন্টে আপনি হোস্ট হতে পারেন না তাই আপনার এত রাগ...

কিন্তু আমি তো আগের সরকারের সময়ও কাজ পেতাম না। আজও পাই না। সরকার বা সরকারের কাছের মানুষেরা হয়তো ভাবে আমি বড্ড ঠোঁটকাটা। কোথায় কী বলে দেব কে জানে! ওরা আমাকে যোগ্য মনে করেন না— এটা পরিষ্কার।

হিংসে থেকে তা হলে এ সব বলেননি?

না, না, একেবারেই না। দেখুন সরকারি অনুষ্ঠানে যারা অ্যাঙ্কারিং করে, যেমন জুন, পরম, যিশু— ওরা আমার খুব ভাল বন্ধু। আরে, সবাই মিলে মিশে কাজ করি না! আপত্তি তো নেই তাতে। হিংসে তো নেই।

একটা কথা খোলাখুলিভাবে জিজ্ঞেস করছি...

কে খুলবে? আপনি না আমি? (হাসি)

আপনার সাক্ষাৎকার, আপনি খুলুন...

(হাসি) জিজ্ঞেস করুন তা হলে।

রাজ্যে এত সেলিব্রিটি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। আপনি মীর, যাঁর সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ভাল নয়। তার উপর আপনি মাইনরিটি কমিউনিটির। দারুণ কথা বলেন। বলিষ্ঠ মতামত আছে। এখনও বিজেপি থেকে অফার পাননি?

আকারে ইঙ্গিতে অনেকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ফরমাল কোনও অফার পাইনি। আমি যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি সেখানেই এত রাজনীতি, তাই নতুন করে রাজনীতিতে যোগ দেব কি না ভাবতে হবে। এখানেই তো খিচুড়ির সঙ্গে আমি বিরিয়ানির স্বাদ পাই, চাওমিনের সঙ্গে ফিশ ফ্রাইয়ের। কী হবে আর পলিটিক্সে গিয়ে।

ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে সেই ‘ঘোষ অ্যান্ড কোম্পানি’র ঝামেলার পরও তো প্রচুর পলিটিক্স হয়েছিল আপনাকে নিয়ে।

আরে বাপরে। বিরাট পলিটিক্স। বিরাট ঝামেলা। ইন্ডাস্ট্রি দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। গে কমিউনিটি সাঙ্ঘাতিক রেগে গিয়েছিল । বুম্বাদা ফোন করে বলেছিল মিটিয়ে নিতে। বলেছিল, ‘আমি থাকব তোদের মিটিংয়ে’।

অনেকে তো এতটাই রেগে গিয়েছিল, চুপিচুপি বলেছিল, ‘সাবধান মীর। আর্টিস্ট ফোরামের কার্ডটাই ক্যানসেল করে দেব’।

তারপর?

(হেসে) আমিও চুপিচুপি বলেছিলাম, ‘কাকা, আমার তো কার্ডই নেই। আর ফোরাম বলে একটা শপিং মল আছে, ব্যস এটুকু জানি। বাকি কিছু বুঝি না’। আজও আর্টিস্ট ফোরামের কার্ড নেই।

কখনও মনে হয়নি, ঋতুপর্ণ ঘোষের ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে ভুল করেছিলেন?

হ্যাঁ, মনে হয়েছিল। যখন দেখলাম আমার মা-বাবা অ্যাফেক্টেড হয়ে যাচ্ছেন, তখন রিগ্রেট করেছিলাম। আমাকে বাড়ির লোকও বলেছিল, আমি বাড়াবাড়ি করেছি।

আপনাকে আজকে দেখে অদ্ভুত লাগে। অ্যাসেমব্লি অব গড চার্চ স্কুলে আপনাকে সেই সময় যারা দেখেছে তারা ঘুণাক্ষরেও বোঝেনি পরে আপনি এত ভাল অ্যাঙ্কর হবেন! স্কুলে তো কথাই বলতেন না...

স্কুল লাইফে আমি সবার থেকে একটু দূরে দূরে থাকতাম। সেই সময় যে বাড়িতে থাকতাম সেখানে আমরা ছিলাম ভাড়াটের ভাড়াটে।
সাব টেনান্ট। বাড়িওয়ালার সঙ্গে একদিন ভাড়াটের ঝামেলা হল, সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও বের করে দেওয়া হল। পুরো এক মাস কলকাতায় আমরা গৃহহীন ছিলাম। রিপন স্ট্রিট অঞ্চলে যেখানে লেবাররা থাকে, সেখানে থাকতাম। কারখানায় শুতাম...

সেখান থেকে স্কুল করতেন?

ইয়েস। কোনও বন্ধুকে পুরো স্কুল লাইফে বাড়িতে ডাকতে পারিনি। বাবা-মাও আত্মীয়স্বজনের কাছে টিটকিরি শুনতেন, ‘ছেলেকে ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি করিয়েছ। কিন্তু পড়াতে পারবে তো।’

ঈদে শুধু আমারই জামাকাপড় হত। মা-বাবা কিছু কিনতেন না। আমাকে বোঝানো হয়েছিল যেহেতু আমি একটু একটু করে বড় হচ্ছি, তাই শুধু আমার জামাকাপড়ের প্রয়োজন আছে। বাবা-মা বড় হয়ে গিয়েছে বলে ওদের আর জামা কিনতে হয় না।

আমি বহু দিন এটা বিশ্বাস করতাম। অনেক পরে বুঝেছিলাম নতুন জামাকাপড় কেনার পয়সাই ছিল না মা-বাবার।

আজ তো আপনার সাফল্যে আত্মীয়স্বজনরা খুশি?

আজ তাঁরা ন্যাচারালি আমার সেলিব্রিটিহুডের ফায়দা পেতে চান। আমি মীরের কাকা, আমি মীরের মামা— এ সব বলেন।

আবার একটু কাজের কথায় ফিরি। গত কুড়ি বছর তো আপনি রোজ সকাল চারটেতে ওঠেন?

হ্যাঁ, আমার রেডিয়ো প্রোগ্রামের জন্য আমাকে উঠতে হয়। এত দিন পরেও এক একদিন মনে হয় আর পারছি না, সব ছেড়ে দেব। কিন্তু এত লোক অপেক্ষা করছে আমাকে শোনার জন্য। সেটাই মোটিভেশনের কাজ করে।

এর পাশাপাশি ‘মীরাক্কেল’ও তো চলছে?

হ্যাঁ, ‘মীরাক্কেল’-এর সিজন এইট শেষ হল এই সবে। কিন্তু আমি জি বাংলাকে একটা ফিলার দিয়েছি যে সিজন টেন-এর পর আমি আর করব না ‘মীরাক্কেল’।

শুনেছিলাম আপনি নাকি পরিচালনা করতে চান?

ঠিকই শুনেছেন। কিন্তু ফিল্মের আগে টিভিতে পরিচালনা করতে চাই। এখন কিছু দিন অভিনয় করব। সত্রাজিৎ সেনের ছবি শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া ‘অরণ্য দেব’ বলে আরও একটা ছবি আসছে।

সারা দিন এত কাজ, এ ছাড়া লাইভ অ্যাঙ্করিং। এত মজা, এত জোকস নিয়ে ভাবেন কখন?

(হেসে) হয়ে যায়। আসলে আমি সব জায়গায় নানা মজার ঘটনা খুঁজতে থাকি। সেখান থেকেই রসদ পাই।

কখনও এমন হয়েছে বৌয়ের সঙ্গে খুব রাগারাগি করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন আর তার পর লোকে বলেছে জোকস বলতে?

হয়নি আবার! রোজ হয়। এই তো সেদিন মডার্ন হাই স্কুলে মেয়েকে ড্রপ করতে গিয়েছি। একজন এসে বলল, আপনার মেয়ে এই স্কুলে পড়ে বুঝি? আমি কিছুক্ষণ দেখলাম ভদ্রলোককে। তার পর বললাম না, এটা আসলে আমার ছেলে। ও ক্রস ড্রেস করে তিন দিন মডার্ন হাই-তে পড়ে, আর দু’দিন সেন্ট জেভিয়ার্সে... (হেসে)।

সে দিন মাল্টিপ্লেক্সের বাথরুমে ঢুকেছি। হঠাৎ একজন এসে গদগদ ভাবে বলল, ‘‘আপনাকে যে এ ভাবে কোনও দিন দেখব স্বপ্নেও ভাবিনি।’’ (অট্টহাসি)

এ রকম আরও হয়েছে।

কী রকম?

আমার এক আত্মীয় মারা গিয়েছেন। বেরিয়াল গ্রাউন্ডে গিয়েছি। একজন দেখি এসে বলছে, ‘‘আরে মীর, মহল বহুত গম্ভীর হ্যায়। কুছ জোক শুনাও।’’ এ রকম প্রায়ই হয়। আমি তাদের দোষ দিই না। আমি তো ২০ বছর ধরে এই ইমেজটাই বানিয়েছি। আমি তাদের কাছে কমোডিটি। তাই আমাকে দেখলেই ওরা হাসতে চায়।

কোনও ‘মেরা নাম জোকার’ মোমেন্ট হয়েছে আপনার সঙ্গে? আপনার কোনও আত্মীয় মারা গিয়েছেন এবং সেটা ভুলে আপনি শো করেছেন?

আমার ঠাকুমা মারা গিয়েছিলেন ভোর চারটেয়। আমি সে দিন সাতটা থেকে আমার প্রোগ্রাম করেছি কিন্তু।

এই রাজ্যে সারদা কাণ্ড নিয়ে যা হচ্ছে, সে নিয়েও তো আপনি লাইভ অ্যাঙ্করিংয়ে নানা কথা বলেছেন...

লাইভ অ্যাঙ্করিংয়ে কেন, আমার রেডিয়ো শো-তেও বলেছি। যে দিন মুকুল রায়কে সিবিআই ডাকল, সেদিন যজ্ঞ পর্যন্ত করেছি রেডিয়োতে। মন্ত্র পড়েছি। দাঁড়ান, মন্ত্রটা বলি:

‘‘কী সত্য কী মিথ্যা
যাচাই করে নেবে

জানি না আজ দাদার জন্য
কী কী প্রশ্ন দেবে।

সব যেন ঠিক থাকে
সব যেন হয় ভাল—
অন্ধকারের শেষে যেন
দেখিতে পাই আলো।

যাহা বলিও সত্য বলিও
লুকাইও না কোনও কিছু
দাদা আমরা সঙ্গে আছি

তোমারই পিছু পিছু। ’’

আর সারদা কাণ্ড নিয়ে একটা কথা বুঝেছি। মামা, মাখন খেতে সবাই ভালবাসে। শুধু ছুরিতে মাখন লেগে থাকলে প্রবলেম। এখানে বোধহয় ছুরি কেন, মুখের ডগায়ও একটু মাখন লেগে ছিল।

এতে তো লোকে আরও রেগে যাবে?

এই কুড়ি বছরে বোধহয় এটাই শিখেছি যে আমি টাইট রোপ-এ হাঁটতে পারি। অন্য আরজে–দের এটা বলতে অসুবিধে হবে, কিন্তু আমি ঠিক পার পেয়ে যাই... (হাসি)

এই যে এতজনকে নিয়ে এত মজা করেন, পার্টি-প্রিমিয়ারে কেউ মুখ ঘুরিয়েছে কখনও...

না, এখনও অবধি নয়। তবে ভালবেসে ‘হেব্বি ক্যালাবো’ প্রচুর লোক বলেছে।

যখন বলেন, ‘আমি চাই না দাদাসাহেব ফালকে, আমি চাই অর্পিতা পাল-কে,’ প্রসেনজিতের প্রতিক্রিয়া কী হয়?

বুম্বাদা খুব স্পোর্টিং। প্রচুর হাসে, এনকারেজ করে। আর বুম্বাদাকে ওর দাঁত চেপে কথা বলা নিয়েও আমি মজা করেছি।

আমার ধারণা বুম্বাদা ওই রকম দাঁত চেপে কথা বলে বলেই অত রোগা থাকে। বুম্বাদার একটা ভয় আছে, মুখ খুললেই ভাবে, ভালবেসে ওকে কেউ কিছু খাইয়ে দেবে। তাই দাঁত চিপে থাকে সব সময়। এটা পড়ে বুম্বাদা মারবে আমাকে। (হাসি) কিন্তু রাগ করবে না।

এই যে মুম্বইতে এক অনুষ্ঠানে রণবীর সিংহ, কর্ণ জোহর, অর্জুন কপূর-রা যেটা করলেন, সেটা কলকাতার সেলিব্রিটিরা পারবেন? পারবেন ‘রোস্ট’ হতে?

না, মনে হয় না। আমরা ভীষণ কনসাস। আমাদের এখানে সবাই সব করবে, কিন্তু সামনে কিছু বলবে না।

সাংবাদিকরা দেখবেন ইন্টারভিউয়ের পর একটা ফোন পান, ‘‘ইন্দ্র, তখন ওই কথাটা বললাম কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম ওটা না লিখলে ইন্টারভিউটা আরও ভাল হবে।’’ এটা পুরোপুরি ঢপ। আপনি জানেন ওটাই ছিল ইন্টারভিউয়ের সবচেয়ে ভাল অংশ। আমরা সব সময় ভাল অংশটা ফেলে দিতে চাই।

থ্যাঙ্ক ইউ মীর। আনন্দplus-এর তরফ থেকে হ্যাপি বার্থ ডে।

থ্যাঙ্ক ইউ আনন্দplus। আর দু’টো থ্যাঙ্কস বলতে পারি...

কাকে বলবেন?

বাঙালিকে। বাঙালি না থাকলে এত জোকস্ হত নাকি...

কেন বলছেন?

বলছি, কারণ বাঙালি আমাকে ফ্যাসিনেট করে। বাঙালি সব করবে— পরকীয়া করবে, চুরি করবে, ইসবগুল খাবে, কিন্তু একটাই চিন্তা বাঙালির — ‘কেউ দেখে ফেলল না তো’। (হাসি)

আর কাকে থ্যাঙ্কস বলবেন?

আর থ্যাঙ্কস বলব জেলার কিছু কাউন্সিলরকে। যাদের বাড়িতে আমি ‘ব্যান্ডেজ’-এর শো করার সময় গিয়ে কিছু সময় কাটিয়েছি। সেখানে গিয়ে দেখেছি আমাদের জন্য, ‘স্ন্যাকস্’ রেডি।

যখন বলেছি আমি বাথরুম যাব, ওঁরা ‘বাথরুম স্লিপার্স’ এগিয়ে দিয়েছেন। বাথরুমে গিয়ে দেখেছি নতুন সাবান, নতুন তোয়ালে।

জানলাগুলোতে ঝুল থাকলেও যেহেতু আমি যাব তাই কমোডটা ঝকঝকে তকতকে।

আমি কমোডে বসতে পারি এটা তো কেউ ভেবেছে, ভেবে কমোডটা পরিষ্কার করেছে।

এই পরিষ্কার কমোড দেখে বুঝতে পারি, বস, অ্যাট ফর্টি আই হ্যাভ অ্যারাইভড্ ইন লাইফ।

আর কিছু চাই না মামা।

mir indranil roy mir at 40 birthday
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy