আপনার ফ্ল্যাট নম্বরটা কত যেন?
৬০৯। হা হা হা...।

আপনি আর আবির থাকছেন তো?
হুম। আমি আর আবিরই থাকছি। আমাদের ফ্ল্যাটের নম্বর ৬০৯। আপনারা ৩১ অগস্ট থেকে আমাদের ফ্ল্যাটে আসতে পারেন সিনেমা হলের মাধ্যমে। আসুন, দেখুন এখানে কত রকম ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা হয়।

ছবিটা কি ভুতের?
হরর থ্রিলার বলতে পারেন।

এমন কাজ তো আগে করেননি?
না! আমার কেরিয়ারে এই ধরনের কাজ প্রথম। নতুন এক্সপিরিয়েন্স হল।

কেমন এক্সপিরিয়েন্স?
দেখুন, হরর ফিল্মের জনারটা এমন যে, কিছু চেনা ট্রিটমেন্ট হয়। কিন্তু আমরা যেমন ভাবে দেখে বড় হয়েছি সেটা থেকে বেরিয়ে শুট করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথম থেকেই গল্পের মধ্যে ব্যাপারটা চলতে থাকে। শেষে গিয়ে রিভিল হয়, কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। ফলে ভৌতিক ব্যাপারটা দর্শক গল্পের মোড়কে বুঝতে পারবেন। আসলে সহজ করে বানানো একটা হরর ফিল্ম এটা। ট্রিটমেন্টটা খুব সহজ।

আরও পড়ুন, বিয়ের পর কতটা বদলেছে ঋদ্ধিমার জীবন?

হরর ফিল্মে মিউজিক খুব বড় জায়গা জুড়ে থাকে...
ঠিকই। খুব বড় পার্ট মিউজিকের। রাতুল শঙ্কর মিউজিক করেছেন। এটা ওঁর দ্বিতীয় ছবি। খুব ভাল কাজ করেছেন। এখনও পর্যন্ত যে তিনটে গান দর্শক শুনেছেন, পছন্দ করেছেন। গানের এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের বড় রোল থাকে এ ধরনের ছবিতে। ছবি দেখার পর গানগুলো আরও ভাল লাগবে বলে মনে হয় আমার।

‘ফ্ল্যাট নম্বর ৬০৯’-এর দুই বাসিন্দা আবির এবং তনুশ্রী।

অরিন্দম ভট্টাচার্যের (পরিচালক) সঙ্গে প্রথম কাজ করলেন। ওঁর কাজের ধরন নিশ্চয়ই অন্যদের থেকে আলাদা ছিল?
প্রত্যেকেরই নিজস্ব ধরন থাকে। অরিন্দমদা টু সাম এক্সটেন্ড আমাদের ছেড়ে দিত। বলে দিত, এই হল সিচুয়েশন। এ বার তোমরা কর। কী চাইছে সেটা বলে দিত। সেটাতে আমার কাজ করতে খুব সুবিধে হয়েছে। খুব শর্টেড। কাজ করার পুরো স্বাধীনতা থাকে।

আবির চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও প্রথম স্ক্রিন শেয়ার তো?
প্রথম বলতে...‘বেডরুম’ নামের একটা ছবি করেছিলাম আমরা। কিন্তু সেখানে একসঙ্গে স্ক্রিন প্রেজেন্স ছিল না। তার পর ‘আগুন’ বলে একটা ছবি করেছিলাম। সেটা রিলিজ করেনি। এটা আমাদের তৃতীয় ছবি। তবে সেই অর্থে প্রথম। তবে প্রচুর অ্যাড ক্যাম্পেন করেছি একসঙ্গে। খুনসুটির সম্পর্ক আমাদের। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে দু’জনেই সিরিয়াস। চরিত্রে ঢুকে পড়লে দুজনেই আর কিছু জানি না।

আরও পড়ুন, সৃজিত আমার বন্ধু, গাইড, মেন্টর, বললেন রাজনন্দিনী

ভুতুড়ে ছবি করলেন, এমন অভিজ্ঞতা বাস্তবে হয়েছে?
আমি স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় গেছিলাম। আগে জানতাম না। শহরটা নাকি ভৌতিক। ওখানকার লোক ওভাবে মার্কেটিংও করে। প্রচুর লাইভ হরর শো দেখায় ওরা। ওখানেএকদিন দুপুরে বৃষ্টি পড়ছে টিপটিপ করে, হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। অদ্ভুত গা ছমছম করা ব্যাপার ফিল করেছিলাম। আর একবার স্কটল্যান্ডেরই স্টকহোমের একটা বুটিক হোটেলে ছিলাম। এক ক্যাপ্টেনের ওটা। পুরনো জাহাজের আদলে তৈরি। নামটা ঠিক মনে পড়ছে না। সেই হোটেলের প্রত্যেক বাথরুমে ওই ক্যাপ্টেনের একটা করে মূর্তি ছিল। ভিতরে প্রচন্ড গা ছমছমে ব্যাপার। সেখানে টয়লেটে একদিন লাইট জ্বালিয়েছি। মূর্তিটা পিছনে দেখে মনে হয়েছিল কেউ দাঁড়িয়ে আছে ওখানে...।


সহজ করে বানানো একটা হরর ফিল্ম ‘ফ্ল্যাট নম্বর ৬০৯’, বলছেন নায়িকা।

অর্থাত্, এ অভিজ্ঞতা বিদেশে হয়েছে, কলকাতায় নয়?
না, কলকাতায় তো এমন কোনও এক্সপিরিয়েন্স নেই। দেখুন, ভুত দেখিনি। কিন্তু বিশ্বাস করি। ভয় করে। আনক্যানি ফিলিংটা হয় আমার (হাসি)।

আপনি নিশ্চয়ই জানেন, এই ছবিতে আপনার চরিত্রটা আগে অন্য এক অভিনেত্রীর করার কথা ছিল?
দেখুন, কার করার কথা ছিল, কেন করেননি সে বিষয়ে কিছু মন্তব্য করতে চাই না। আমার কিছু বলাটা ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন, প্রেম ছাড়া কি আর প্রশ্ন নেই? বলছেন সোহিনী

না, যাঁর করার কথা ছিল, তিনি কেন করেননি, সে কথা জানতে চাইছি না। আপনি তো ফার্স্ট চয়েস ছিলেন না।সেক্ষেত্রে ছবিটা করতে প্রবলেম হয়নি?
এমন তো অনেক ক্ষেত্রেই হয়। একজনের করার কথা থাকে। করা হয়ে ওঠে না। আমিও অনেক ছবি ছেড়ে দিতে বাধ্য হই। ডেট প্রবলেম বা অনেক কিছুই তো হতে পারে। আমি তো ক্যারেক্টার বা স্ক্রিপ্ট, এগুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছিলাম।

আর কী কী কাজ করছেন এখন?
আরও তিনটে ছবির কথা হচ্ছে। কিন্তু এখনই রিভিল করতে পারব না...।

(সেলেব্রিটি ইন্টারভিউ, সেলেব্রিটিদের লাভস্টোরি, তারকাদের বিয়ে, তারকাদের জন্মদিন থেকে স্টার কিডসদের খবর - সমস্ত সেলেব্রিটি গসিপ পড়তে চোখ রাখুন আমাদের বিনোদন বিভাগে।)