মৈনাক ভৌমিকের ‘হ্যাপি পিল’ তো রিলিজ হয়েছে, দর্শক দেখছেন ছবিটা। কিন্তু বাস্তবে সোহিনীর ‘হ্যাপি পিল’-এর রেসিপি কী?
আমার ‘হ্যাপি পিল’ আমার বন্ধু। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ওই আমার ‘হ্যাপি পিল’। এই তো সে দিন রাতেই আমার ফোন ধরেনি। বলল, একটু বাদে কলব্যাক করছি। এত মাথা গরম হয়েছে আমার। গুডনাইট বলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঝগড়া হলেও ওই আমার ‘হ্যাপি পিল’। ওর সঙ্গে কথা বলতে আমার ভাল লাগে। আমি হ্যাপি থাকি (হাসি)।

সেই বন্ধুটি কে? আপনার বিশেষ বন্ধু?
আরে! (চোখ বড় করে) ও আমার স্কুলের বান্ধবী। আমরা কলেজেও একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। আর বিশেষ বন্ধু হবে কেন? প্রেম ছাড়া কি আর জীবনে কোনও প্রশ্ন নেই?

বেশ, পরের প্রশ্ন তা হলে অরিন্দম শীল।
মানে? (অবাক হয়ে)

না, ওই যে অনেকে বলেন আর কি, আপনি নাকি অরিন্দম শীলের নায়িকা...
(হেসে) এটা আপনারাই বলেন। আমি অরিন্দমদাকে সেই স্টোরি দেখিয়েওছিলাম।

আরও পড়ুন, কাস্টিং কাউচের জন্য কিছু বড় ব্যানারের ছবি চলে গিয়েছে, বিস্ফোরক সৌমিলি

সেটা তো ভুল নয়, অরিন্দমদার ছবি মানেই আপনি। আবার এত দিন পরে টেলিভিশনে ফিরলেন অরিন্দম শীল, সেখানেও মুখ্য ভূমিকায় আপনি...
দেখুন, কেউ কিছু করলেও বলবে, না করলেও বলবে। আই ডোন্ট বদার। যে ভাল পার্ট দেবে সেখানে কাজ করব।

‘ভূমিকন্যা’ করতে রাজি হলেন কেন?
প্রথম কারণই হল, একটি নির্দিষ্ট এপিসোডে শেষ হবে। ৮০ এপিসোডের শুটিং কমপ্লিট হয়েছে আমাদের। আরও ১২০ এপিসোড হবে। আর দ্বিতীয়ত, এমন ক্যারেক্টার ছবিতে এখনও পাইনি। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল। গাড়ি চালাব, বাইক চালাব ভেবেছিলাম। সব মনোবাসনা ‘ভূমিকন্যা’য় ফুলফিল হচ্ছে (হাসি)।

আরও পড়ুন, ‘ঋদ্ধির জাতীয় পুরস্কার যে আমি দেখে গেলাম, এটাই বড় প্রাপ্তি’, বললেন চিত্রা সেন

পুরো শুটিংই তো আউটডোরে?
পুরোটাই আউটডোর। তাতে সমস্যাও হচ্ছে। বৃষ্টি পড়লে শুটিং বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। প্রবল গরমে শুট করেছি। তবে ডাবিং বা যেখানেই দেখছি, দারুণ দেখতে লাগছে সকলকে। সেটা দেখে ভাল লাগছে। প্রচুর থিয়েটারের শিল্পীও রয়েছেন এটাতে।

টিভিতে যে ফিরলেন, এত দিন পরে, আপনি নিজে টিভি সিরিয়াল দেখেন?
হ্যাঁ, আমি বাড়ি ফিরে টিভি দেখি তো। মাঝখানে ‘অন্দরমহল’ ভাল লাগছিল আমার। কনীদিকে (কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়) এসএমএস-ও করেছিলাম। অঙ্কিতার একটা সিরিয়ালও ভাল লাগত।


‘ক্রিসক্রস’-এর লুকে সোহিনী।

এখনকার সিরিয়ালের কনটেন্ট বা অভিনয় নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। আপনার কী মত? 
দেখুন, আমাদের ছোটবেলায় টেলিভিশন দুর্দান্ত হত। এখন অনেকটা পাল্টেছে। আমার আসলে সাজানো জিনিসে আপত্তি রয়েছে। আমি দর্শক হিসেবে রিয়ালিস্টিক জিনিস পছন্দ করি। সিরিয়ালে একটা লোকের দু’-তিনটে বিয়ে আপত্তিকর। তার পর বাচ্চাদের মুখে পাকা পাকা কথা তো আইন করে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সিরিয়ালে ছোটরা থাকবে, শিশুশিল্পীদের নিয়ে কিন্তু আমার আপত্তি নয়। কিন্তু তাদের কাজের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত। একটা বাচ্চাকে নিয়েই গোটা সিরিয়াল মানে তো ওদের ওপর ভীষণ প্রেশার পড়ে। এ সব থেকে বেরিয়েই ‘ভূমিকন্যা’ হচ্ছে।

‘বিদায় ব্যোমকেশ’ তো কিছু দিন আগেই রিলিজ হল। কেমন ফিডব্যাক পাচ্ছেন?
এমনিতে ভালই বলছে লোকে। গল্পের গতি রয়েছে। আমাদের ক্যারেক্টারও ভাল লেগেছে। আপনাদের কাছে কী খবর?

আরও পড়ুন, ‘এখন তো শুক্রবার রিলিজ হলে রবিবারই সুপারহিট লেখা হচ্ছে’

আবির চট্টোপাধ্যায়ের মেকআপ নিয়ে কথা বলছেন অনেকে।
মেকআপটা তো আমাদের হাতে নেই। আবিরদা কিন্তু খুব খেটেছিল মেকআপের জন্য...।

আবার পুজোতে তো ব্যোমকেশ। এ বার অরিন্দমদার...
হুম ‘ব্যোমকেশ গোত্র।’ বিরসা দাশগুপ্তের ‘ক্রিসক্রস’ আসছে তার আগে। এখনও পর্যন্ত কিন্তু ছবিটার ফিডব্যাক খুব ভাল। যে ক’টা গান বেরিয়েছে সবাই খুব ভাল বলছে। পাঁচটা মেয়ের গল্প ‘ক্রিসক্রস’।

আরও পড়ুন, আগের সম্পর্কের সব খারাপ লাগা মুছে ফেলেছি, বলছেন শ্রাবন্তী

সোহিনীর সিভি-তে কি ব্যোমকেশের শেয়ার বেশি?
ব্যোমকেশ তো ফ্র্যাঞ্চাইজি। এটা তো করবই। তা বলে কি আমার ‘দুর্গা সহায়’, ‘বিবাহ ডায়েরিজ’ নেই? আমার কেরিয়ারে ‘সব ভুতূড়ে’ নেই? একটা ‘ফড়িং’ নেই আমার...?

প্রশ্নটা করেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সোহিনী। আসলে তাঁর কেরিয়ারে ‘আই ডোন্ট বদার’ কথাটা সত্যিই খাঁটি। কারও তোয়াক্কা না করে নিজের মতো করে টলিপাড়ায় মাটি শক্ত করা নায়িকার লাইফ কন্ট্রোল নিজের হাতেই। ঠিক যেন ‘ভূমিকন্যা’র মতোই।

ছবি: ফেসবুকের সৌজন্যে।