Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

গরমের ছুটি জমিয়ে দিতে আসছে ছোটদেরই একমুঠো ছবি

অন্তরা মজুমদার
০৯ মে ২০১৮ ১৩:১৪

দুর্নাম কাটছে?

একটা সময়ে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বদনাম ছিল, এখানে ছোটদের ছবি তেমন হয় না! একটা সময়ে তো খুব খুঁজেপেতে একটা ‘জয়জয়ন্তী’, একটা ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, একটা গুপি-বাঘা কিংবা ফেলুদা সিরিজ অথবা ‘হিরের আংটি’ কিংবা ‘পাতালঘর’... তার বেশি এগোতেই চাইত না ছোটদের গল্পের সেলুলয়েড তালিকা। তবে সময়টা বদলেছে। ক্রিসমাসে ফেলুদা আর তার কিছু পর থেকে দুর্গাপুজোয় কাকাবাবু কিছুটা হলেও পাল্টে দিয়েছে চিত্রটাকে। তবে ইদানীং বাচ্চাদের কেন্দ্রে রেখে ছবির কথা বেশি করেই ভাবছেন পরিচালকরা। গত দু’বছরে মুক্তি পাওয়া নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘পোস্ত’ এবং মানস মুকুল পালের ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ তার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ। দুটো হয়তো নেহাত ছোটদের ছবি নয়। বড়রাও সমান ভাবে আলোড়িত হয়েছেন। তবে ছোটদের কেন্দ্রে রেখে ছবি করলে তা ‘হিট’ হয় না, এই ‘মিথ’ কিন্তু ভেঙে গিয়েছে অনেক দিন।

Advertisement

ছোট বলে কম নয়

গরমের ছুটিতে এই ট্রেন্ডটাই যেন আরও মজবুত করতে চার-চারটে ছবি মুক্তি পাচ্ছে। প্রতিটারই কেন্দ্রে ছোটরা। মে মাসে নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ‘হামি’, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচালনা ‘সোনার পাহাড়’, সৌকর্য ঘোষালের ‘রেনবো জেলি’ আর জুনে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘উমা’। ছবিগুলো নিয়ে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে দর্শকের মধ্যে। কারণ, তাদের বিষয়বস্তু। বেশ কিছু বছর আগেও ইংরেজি-হিন্দি-বাংলা নির্বিশেষে, ছোটদের ছবি মানেই তাতে রহস্য, ফ্যান্টাসি, অ্যা়ডভেঞ্চার বা সুপারহিরোদের রমরমা বলে ভাবা হতো। এখন কিন্তু বাংলা ছবিতে অনেক ধরনের সামাজিক দিকও তুলে ধরছেন পরিচালকরা। পর্দায় বুনে দিচ্ছেন প্রতিবন্ধকতা, চারপাশের সমস্যা বা অসুস্থতা পেরিয়ে জিতে যাওয়ার সত্যিকার বিবরণ এবং তার মানবিক বয়ানও। কারণ ছোটরা এখন অনেক বেশি সচেতন। সংবাদমাধ্যম, ইউ টিউব, ফেসবুকের দৌলতে তারা এখন দুনিয়াটাকে বড়দের থেকে কিছু কম চেনে না! সুতরাং তাদের বিনোদনেও যে চারপাশটা একটু একটু করে ঢুকে পড়বে, তাতে আশ্চর্য কী? ‘হামি’তে যেমন বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে স্কুল প্রশাসন আর অভিভাবকদের মধ্যে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব, ‘সোনার পাহাড়’-এ সত্তর আর সাত বছরের অসমবয়সি বন্ধুত্ব, ‘রেনবো জেলি’তে এক স্পেশ্যাল চাইল্ড ঘোঁতনের জিতে যাওয়া আর ‘উমা’য় বাবা-মেয়ের সম্পর্কের স্নেহ-নির্ভরতা...

পাতে গরম

বিষয়বস্তু যা-ই হোক, বিনোদনই আসল কথা। ‘হামি’ নিয়ে শিবপ্রসাদ বলেছিলেন, আট থেকে আশি— সকলের ভাল লাগবে। ‘‘বাচ্চাদের সিনেমা হলেও বড়দের ভাবাবে ‘হামি’। রোজকার যে ঘটনাগুলো খবরের কাগজে পড়ি, আপাত ভাবে তুচ্ছ হয়তো, কিন্তু বোমা ফাটানোর মতো... সে রকমই একটা বিষয় নিয়ে ছবিটা। কিন্তু হাসি-মজার খোরাকও অনেক।’’ পরমব্রত ‘সোনার পাহা়ড়’ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যে, ছবিটা বদলে যাওয়া সময় নিয়ে। সেই বদলের প্রেক্ষিতের দুই সীমায় দাঁড়িয়ে দু’জন— এক জনের বয়স সাত, আর এক জন সত্তর। ছবিতে সম্পর্ক আর সারল্যের অদ্ভুত যোগাযোগ, যার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিলও পাবেন দর্শক।



‘সোনার পাহাড়’

‘রেনবো জেলি’ আবার গড়পরতা ফ্যান্টাসি নয়। সৌকর্যের কথায়, ‘‘লীলা মজুমদার, সত্যজিৎ রায়ের ছোট গল্পে রূপকথার যে স্বাদ মাখানো থাকত, সেটা ইদানীং তেমন দেখা যায় না। আমাদের গল্পে তাকেই ফিরিয়ে এনেছি। বাংলা ছবিতে ফুড ফ্যান্টাসিও খুব একটা দেখা যায় না। তাকেও ধরার চেষ্টা করেছি।’’ খাবার আর রূপকথার উপর বাঙালি খুদেদের দুর্বলতা জেনেই এই পথ তাঁরা নিয়েছেন। সৃজিতের ছবি আবার সত্যি ঘটনা অবলম্বনে। কঠিন রোগে আক্রান্ত কানাডার ছেলে ইভানের জন্য তার বাবা সময়ের আগেই কী ভাবে ক্রিসমাস উদ্‌যাপন করেছিলেন, সেটাই সৃজিতের অনুপ্রেরণা। তাঁর ছবিতে ক্রিসমাসের জায়গায় অবশ্য বাঙালির দুর্গাপুজো। এবং পরিচালক যে স্কেলের ছবি বানান, তাতে এই ছবিটা দেখতে দর্শক যে ভিড় জমাবেন, তাতে সন্দেহ নেই।



‘উমা’

ইউএসপি

গল্প ছাড়াও যেটা সবচেয়ে মজাদার, তা হল প্রতিটা ছবির কাস্টিং। ‘হামি’র ব্রত-তিয়াসা এর মধ্যেই ট্রেন্ডিং। শিবপ্রসাদ ব্রতকে (ভুটু) ‘ওয়ান্ডার কিড’ তকমা দিয়ে দিয়েছেন। ‘সোনার পাহাড়’-এ আছেন তনুজা। অনেক দিন পরে তাঁকে দেখতে বাঙালি হলে যাবেই। কিন্তু ছবির খুদেটিও (শ্রীজাত) বেশ নজরকাড়া। ‘রেনবো জেলি’র মহাব্রত নিজেও স্পেশ্যাল চাইল্ড।



‘রেনবো জেলি’

পরিচালক বার বার বলেছেন, কী ভাবে ছবির জিতে যাওয়ার গল্পটা মহাব্রতরও জিতে যাওয়ার গল্প হয়ে উঠেছে। ‘উমা’য় আবার স্টারকিড সারা সেনগুপ্তের (যিশু সেনগুপ্তের মেয়ে) ডেবিউ নিয়ে রীতিমতো চর্চা। অতএব, মাস ফুরোলেই জমে উঠবে ছোটদের গরমের ছুটি!

আরও পড়ুন

Advertisement