মঙ্গলবার রাত থেকে বাঙালি বাড়িতে দুধ জ্বাল দেওয়ার হিড়িক। বাসমতী চালের গুঁড়ো, নারকেল কোরা, নলেন গুড়, পাটালি গুড়ের সম্ভার। বুধবার মকরসংক্রান্তি। পিঠেপুলির আয়োজন...বাঙালির এই সংস্কার বর্তমান এখনও।
আগের প্রজন্মের কাছে এই প্রসঙ্গ তুললেই তাঁরা ঝাঁপি খুলে বসেন। ছড়িয়ে দেন টুকরো টুকরো কত স্মৃতি। এই প্রজন্ম শরীরসচেতন। শরীরচর্চা, মেপে খাওয়ায় অভ্যস্ত। মুঠোমাপের কোমরে মেদ জমলেই ‘ত্রাহি মধুসূদন’! বিনোদনদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তো কথাই নেই। দাঁতে পিঠে কেটে দেখান কি না, তা-ই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ।
এই প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কি পিঠেপুলি থেকে বঞ্চিত? মকরসংক্রান্তি ঘিরে তাঁদের কোনও মিষ্টি স্মৃতি আছে? প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম।
বাংলাদেশ রকমারি পিঠেপুলির জন্য বিখ্যাত। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ও পার বাংলার নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ বললেন, “শীত পড়লেই আমাদের বাড়িতে প্রায় রোজ পিঠে হয়। মা যত্ন করে বানান ভাপা পিঠে, সেদ্ধ পিঠে, পাঠিসাপটা, নকশি পিঠে, পুলি পিঠে, সিমাই পিঠে, তালের পিঠে।” এই মরশুমে তাসনিয়া তাই মেপে খান না। নায়িকা নিজেও সুযোগ পেলে বাড়িতে পিঠে বানান। “নকশি পিঠে বানাতে বেশ লাগে। আমি ওটাই বানাই”, বললেন তিনি।
সৌরসেনী মৈত্র। রাজ চক্রবর্তীর ‘প্রলয় ২’ সিরিজ়ের পুলিশ অফিসার। প্রশ্ন শুনেই হেসে ফেলে বললেন, “রান্না করা পিঠেও খাই। আমার পিঠে কিলও খাই!” জানালেন তাঁর মা দুধপুলি, সেদ্ধ পিঠে, পাটিসাপটা বানান। অভিনেত্রী মজা করে সে সব খান।
পিঠেপুলির কথা উঠতেই রোহন ফিরে গেলেন ছেলেবেলায়। “আমরা ও পার বাংলার। ছোট থেকে দেখেছি, এই দিন বাড়িতে ঘটা করে পিঠে, পায়েস রান্না হত। আমরা চলে যেতাম মামাবাড়ি। সেখানে তিন মামার যৌথ পরিবার।” দিদার সঙ্গে রোহনের মা, মামিরা হাত লাগাতেন। বাড়ির খেজুর গাছ থেকে টাটকা রস নামানো হত। সেই রস জ্বাল দিয়ে পিঠের জন্য তৈরি হত। বাসমতী চাল গুঁড়িয়ে বানানো হত পাটিসাপটা, পুলি পিঠে, চিতই পিঠে, চুষি পিঠে। আর বাংলাদেশের বিশেষ পিঠে গোকুল পিঠে, সেটাও হত। “বাড়িতে বড় বড় গামলায় ভর্তি করে পিঠে রান্না হত। দু’দিন আমরা ভাত খেতাম না। টাটকা পিঠে খাওয়ার এক স্বাদ। পিঠে বাসি হলে স্বাদ বেড়ে যেন চতুর্গুণ!” এখনও রোহনের বাড়িতে পিঠে হয়। তবে পেটভরে পিঠে খাওয়ার দিন গিয়েছে। অভিনয়ের কারণে কড়া ডায়েটে। “পিঠে অবশ্যই খাব। তবে অল্প”, বললেন রোহন।
আরও পড়ুন:
দিব্যজ্যোতি আবার এ সব খাবার ছাড়তে নারাজ। পিঠেপুলির কথা উঠতেই বললেন, “সারা বছর ডায়েটে থাকি। বছরের একটা-দুটো দিনও খাব না! বেশি করে জিম করলেই বাড়তি মেদ ঝরে যাবে।” বাড়িতে নারকেলের পুর ভরা পাটিসাপটা, পুলি পিঠে হচ্ছে। বড়পর্দার ‘চৈতন্যদেব’ ঠিক করেছেন দিন দুই ধরে আশ মিটিয়ে খাবেন সে সব।
সুস্মিতা দে। টেলিপাড়া বলে, নায়িকার নাকি পাখির মতো চেহারা। “খাওয়াদাওয়ায় আমার বাছবিচার নেই। বরং ভালমন্দ খেতে ভালই লাগে। কোনও রকম পিঠে বাদ দিই না।” সুস্মিতার বাড়িতেও দিদা, মা মিলে পিঠে বানান। “যেমন, পুলি পিঠে, পাটিসাপটা। আমি পাটিসাপটা খেতে বেশি ভালবাসি।” ছোটবেলায় দিদার পাশে বসে পিঠে তৈরিতে হাত পাকাতেন তিনি। সেই সময় পুলি পিঠে বানানোর চেষ্টা করতেন। ছোটপর্দায় সাহেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে সুস্মিতার জুটি হিট। এ বার তাঁরা মঞ্চে। রোজ নিয়ম করে মহড়া দিচ্ছেন।
বাড়ির তৈরি পিঠে কি সাহেবের জন্য নিয়ে যাবেন সুস্মিতা? ফোনের ও পারে প্রচণ্ড হাসি। অভিনেত্রী বললেন, “হয়তো নিয়ে যেতেও পারি। আপাতত পিঠে বানাচ্ছেন মা-দিদা।”