তিনি ‘মিসেস রণজয় বিষ্ণু’! কথাটা হাজার বার শুনছেন। তবু বিশ্বাস করতে পারছেন না শ্যামৌপ্তি মুদলী। এ দিকে বিয়ের পরের দিনেই শিবরাত্রি। স্বামীর মঙ্গল চেয়ে নিশ্চয়ই নির্জলা উপবাস করেছেন?
হইহই করে বিয়ে পর্ব মিটতেই কৌতূহল আছড়ে পড়েছে রণজয়-শ্যামৌপ্তিকে ঘিরে। শ্বশুরবাড়িতে সবে এক রাত কেটেছে অভিনেত্রীর। আনন্দবাজার ডট কম-কে জানালেন, বাড়িতে বিদায় পর্বের তোড়জোড় ছিল। এ বছর তাই শিবরাত্রি করা হল না। পরের বছর নিষ্ঠার সঙ্গে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন। আড্ডা দিতে দিতেই জেনে নিলেন, ছোটপর্দায় অনেক বার মহাদেব হয়েছেন রণজয়। শুনেই ছেলেমানুষি খুশি শ্যামৌপ্তীর কণ্ঠে। গাঢ় ভাবে বললেন, “ও যদি শিব হয় তা হলে আমি অবশ্যই শিবভক্ত।”
নাকে যেন সিঁদুর পড়ে! বায়না ছিল শ্যামৌপ্তির। ছবি: সায়ন্তন দত্ত।
বিয়ের মুহূর্তগুলো যেন পলকে শেষ! শিবরাত্রির কথা বলতে বলতেই শ্যামৌপ্তির গলায় ভাললাগার ঘোর! “কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব হয়ে গেল। এখন মনে হচ্ছে, যদি এক মাস ধরে বিয়ের পর্ব চলত!”। মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে গিয়ে সবাই কি খুব কান্নাকাটি করেছেন? জানতে চাইতেই যেন হুঁশ ফিরল তাঁর। শ্যামৌপ্তী বললেন, “কোনও কান্নাকাটি নেই। মা-বাবা, বাকিরা হইহই করেছেন। আমাদের দুই বাড়ির দূরত্বও খুবই কম। ফলে, শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি মনেই হয়নি না কারও।” তা ছাড়া, মা-বাবা বাদে অভিনেত্রীর বাড়ির বাকিরা তাঁর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। কিছু ক্ষণ সময় কাটিয়ে এসেছেন।
বিয়ের দিন বারেবারে শ্যামৌপ্তীকে কোলে তুলে নিয়েছেন তাঁর অভিনেতা স্বামী। সে প্রসঙ্গ তুলতেই লজ্জার ছোঁয়া অভিনেত্রীর কণ্ঠে। সেই অনুভূতি ঢাকতে ঢাকতে বললেন, “রণজয় আমায় সামলাতে জানে। ও জানে, আমি কী পছন্দ করি। ওর কোন আচরণে আশ্বস্ত হই। এটাও জানে, বিয়ের দিন আমাকে আগলাতে হবে ওকেই। সে সব মাথায় রেখে সারা ক্ষণ আমায় স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছে নানা ভাবে।” তবে একটাই খেদ তাঁর, নিজের বিয়েতে খানাপিনার এলাহি আয়োজন। শ্যামৌপ্তি একটা পদও চেখে দেখতে পারেননি!
বিয়ে মানেই সংসারের দায়িত্ব। তার সঙ্গে অভিনয় আছে। এ সব সামলে কোথায় মধুচন্দ্রিমায় যাবেন নবদম্পতি?
‘তুমি যে আমার’ মোডে রণজয়-শ্যামৌপ্তি। ছবি: সায়ন্তন দত্ত।
বিয়ে পর্ব যে এখনও মেটেনি, মনে করিয়ে দিলেন অভিনেত্রী। জানালেন, এ দিন একদম ঘরোয়া ভাবে বৌভাতের অনুষ্ঠান হবে। দুই বাড়ির কাছের লোক মিলে একসঙ্গে অনুষ্ঠান পালন করবেন। “আসলে দুই তরফ মিলে একসঙ্গে গায়েহলুদ আর বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়েছে। বৌভাত তাই ঘরোয়া ভাবে হবে। আলাদা করে প্রীতিভোজের আয়োজন নেই।” সে সব মেটার পর অবশ্যই কাজের দিকে মন দেবেন দম্পতি। একটু ভিন্ন ধারার কাজ খুঁজছেন শ্যামৌপ্তি। তাই দরকারে বেছে কাজ নেবেন। শোনা যাচ্ছে, রণজয় নাকি দিতিপ্রিয়া রায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ছোটপর্দায় ফিরবেন? এ ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই, জানালেন তিনি।
তবে এখনই মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছেন না, এ কথা বলেছেন। শ্যামৌপ্তীর কথায়, “আমরা এ বার নিজেদের একটু গোছাব। কিছু কাজ আছে। সে সব মিটিয়ে নিশ্চিন্ত মনে বেড়াতে যাব।”