বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিনেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধেই অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে স্পিকার কি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। বিরোধীদের মতে, লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে স্পিকারের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক নয়। ঠিক নয় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় স্পিকারের সভাপতিত্ব করাও। অতীতে তিন বার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেছেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকারের জমানায় গত সাত বছরে লোকসভায় কোনও ডেপুটি স্পিকারই নিয়োগ করা হয়নি। সাধারণত বিরোধীদের কাছে ডেপুটি স্পিকারের পদ থাকে।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলতে না দেওয়া, কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে আঘাতের পরিকল্পনার অভিযোগ তোলা এবং জওহরলাল নেহরু-ইন্দিরা গান্ধী সম্পর্কে কুকথা বলার পরেও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিন অর্থাৎ ৯ মার্চ এই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে। সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত, সভাপতির প্যানেলের কেউ একজন সে সময় লোকসভা পরিচালনা করবেন। কারণ স্পিকার নিজেই অনাস্থা প্রস্তাবের ফয়সালা না-হওয়া পর্যন্ত লোকসভায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে স্পিকার কি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?
লোকসভায় কংগ্রেসের সচেতক মণিকম টেগোরের প্রশ্ন, ডেপুটি স্পিকারের পদ খালি রেখে দেওয়া কোনও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নয়। এটা সংসদীয় গণতন্ত্রে আঘাত। সংবিধানের ৯৩তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লোকসভাকে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বাছাই করতে হয়। করতে পারে, এমন নয়। করতেই হয়। অথচ মোদী সরকারের আমলে ডেপুটি স্পিকারের পদ খালি পড়ে রয়েছে। কারণ প্রথা অনুযায়ী বিরোধীদের ডেপুটি স্পিকারের পদ ছেড়ে দিতে হয়। মোদী সরকার বিরোধীদের সেই সুযোগ দিতে রাজি হয়নি।
প্রসঙ্গত, মোদী সরকারের প্রথম পাঁচ বছরে এডিএমকে-র এম থাম্বিদুরাই ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। ২০১৯ বা ২০২৪-এর পরে লোকসভায় আর কোনও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ করা হয়নি।
১৯৫৪ সালে লোকসভার প্রথম স্পিকার জি ভি মভলঙ্কারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এসেছিল। সে সময় ডেপুটি স্পিকার এ আয়েঙ্গার সভাপতিত্ব করেছিলেন, প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালে লোকসভার স্পিকার সর্দার হুকুম সিংহের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের সময় দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার এস ভি কৃষ্ণমূর্তি রাও। ১৯৮৭ সালে স্পিকার বলরাম জাখরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের সময় ডেপুটি স্পিকার এম থাম্বিদুরাই সভাপতিত্ব করেছিলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)