স্বস্তিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিক! লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। এই ধারাবাহিক দিয়ে সাত বছর পরে অভিনয়ে মধুমিতা সরকার। তাঁর আর নীল ভট্টাচার্যের জুটি নিয়ে দর্শকের তাই আশা ছিল অনেক।
বাস্তবে ঘটেছে তার ঠিক উল্টো। সম্প্রতি, গল্প এগিয়ে গিয়েছে বেশ কিছু বছর। স্টার জলসার পর্দায় আপাতত নতুন নায়ক-নায়িকা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (উজান) আর শ্বেতা মিশ্রের (কুইন) নবদাম্পত্যের টক-মিষ্টি-ঝাল গল্প। খবর, তাতেই নাকি মজেছে বাঙালির অন্দরমহল! উজান-কুইনের জুটি, তাঁদের রসায়ন, পারস্পরিক বোঝাপড়া ম্যাজিক দেখিয়েছে। যে ধারাবাহিকের প্রতি আগ্রহ কমে গিয়েছিল দর্শকের, সেটাই নাকি মন দিয়ে দেখছেন তাঁরা!
কী করে সম্ভব হল? সেই জন্যই কি লীনা ধারাবাহিকের গল্পকে বেশ কিছু বছর এগিয়ে দিলেন?
জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল ধারাবাহিকের গল্প এবং চিত্রনাট্যকারের সঙ্গে। লীনা কথার শুরুতেই সব দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বলেছেন, “একটি ধারাবাহিকের সাফল্য এবং ব্যর্থতার সব দায় লেখকের। আমি তেমনই বিশ্বাস করি।” সেই বিশ্বাসকে ভরসা করেই তিনি নতুন করে গল্প সাজিয়েছেন। হাতেগরম ফলও মিলেছে। “ধারাবাহিক দেখছেন দর্শক। প্রশংসা করছেন রাহুল-শ্বেতার।”
লীনা উপলব্ধি করেছেন, সারা ক্ষণ নেতিবাচকতার মধ্যে থাকতে থাকতে হাঁফিয়ে ওঠেন দর্শক। ধারাবাহিকে হাসি-মজা, অম্লমধুর স্বাদ তাঁদের টাটকা অক্সিজেন জোগায়। এখানে সম্ভবত সেটাই হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি প্রশংসা করেছেন রাহুল এবং শ্বেতার অভিনয়ের। তাঁর কথায়, “শ্বেতা খুবই শক্তিশালী অভিনেত্রী। ওঁর সঠিক ব্যবহার কমই হয়েছে। ওঁকে তাই বেছে নিয়েছি। আর রাহুলের কথা নতুন করে কী বলব!” তবে শুরুতে নীল-মধুমিতাও যে তাঁদের উজাড় করে দিয়েছিলেন, সে কথা জানাতেও ভোলেননি তিনি।
শ্বেতা-রাহুলের রসায়ন ‘অ্যাসিড টেস্ট’-এ পাশ। ছবি: ফেসবুক।
রাহুল-শ্বেতার বয়সের ব্যবধান যথেষ্ট। পর্দায় সেটা বোঝাও যাচ্ছে। তার পরেও দর্শক প্রশংসা করছে জুটির। কেন?
প্রশ্ন ছিল রাহুলের কাছে। অভিনেতা পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন লীনা আর শ্বেতাকে। বলেছেন, “বিপরীতে ভাল অভিনেত্রী থাকলে যে কোনও অভিনেতার অভিনয় জমে যায়। আমারও সেটাই হয়েছে।” পাশাপাশি, তিনি লীনার কলমকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। রাহুলের কথায়, “লীনাদির গল্পে আমাদের কিচ্ছু করতে হয় না। শুধু চরিত্রকে জীবন্ত করা ছাড়া। বাকিটা দিদিই সাজিয়ে দেন।” বদলে প্রশংসিত হন অভিনেতা-অভিনেত্রী। পর্দার নায়ক মানেই দায়িত্ব অনেক। সেই নায়ক তাঁর অভিনয় দিয়ে জনপ্রিয়তা ফেরালে চাপ বেড়ে যায়? অস্বীকার করেননি রাহুল। জানিয়েছেন, সমাজমাধ্যমে প্রশংসার ঢল দেখে তিনি ভয়ই পাচ্ছেন! “দর্শকের প্রত্যাশা বাড়ছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে তো!”, বক্তব্য অভিনেতার।
আর শ্বেতা? অনেক দিন পরে নায়িকা হয়ে ফিরেই প্রশংসিত। প্রসঙ্গ তুলতে ফোনের ও পারে খুশির হাসি। শ্বেতা বললেন, “তার আগেই ‘সেরা খলনায়িকা’র পুরস্কার পেয়েছি। সবাই বলল, দর্শক কি তোকে নায়িকা হিসাবে নেবে? আমি কিন্তু রাজি হয়ে গিয়েছিলাম।” তিনিও কৃতিত্ব ভাগ করে নিয়েছেন লীনা আর রাহুলের সঙ্গে। জানিয়েছেন, লীনা তাঁকে ভরসা না করলে তিনি এগোতে পারতেন না। একই সঙ্গে ‘দাদা’র মতো নানা শট তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছেন রাহুল। “কেমিস্ট্রি ওখানেই তৈরি হয়েছে”, দাবি শ্বেতার।