কলকাতা বললেই সিনেমা, থিয়েটারের পাশাপাশি একই সরণিতে অনিবার্য ভাবে এসে পড়ে গানের কথাও। সময়ের সঙ্গে গানের ভাষা, মাধ্যম অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বাংলার সঙ্গীতকে আরও বৃহত্তর ভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হল ‘এসভিএফ মিউজ়িক’। ‘ওয়ার্নার মিউজ়িক ইন্ডিয়া’র সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণার মাধ্যমে।
এই জোটবন্ধনের মাধ্যমে ভারতের আঞ্চলিক সঙ্গীতভিত্তিক ব্যবসা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলা গানের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে দাবি দুই সংস্থার।
এই অংশীদারিত্বের ফলে ওয়ার্নার মিউজিকের গ্লোবাল নেটওয়ার্ক এবং পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী বিনোদন সংস্থা এসভিএফ-এর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সমৃদ্ধ সঙ্গীতভান্ডার সমৃদ্ধ হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে বাংলা গানের শিল্পী, চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক এবং বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতসৃষ্টিকে ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সঙ্গীত এবং ডিজিটাল কনটেন্টের জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এই প্রযোজনা সংস্থা। ইতিমধ্যে ১৮০টিরও বেশি বাংলা চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছে তারা। ১,৪০০টিরও বেশি ছবি পরিবেশনা করেছে। পাশাপাশি, বাংলা সঙ্গীতজগতে একাধিক জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে কাজ করে গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী মিউজ়িক ক্যাটালগ। বাংলা ছবিতে গানের পাশাপাশি ‘এসভিএফ মিউজ়িক’ স্বাধীন গানবাজনা, লাইভ কনসার্ট এবং সীমান্তপারের সঙ্গীত উদ্যোগকেও নিয়মিত উৎসাহ দিয়ে থাকে।
এই প্রসঙ্গে সংস্থার অন্যতম কর্তা জয় মোহতা বলেন, “ভারতে বহু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্ম হয়েছে বাংলায় এবং এখানকার সঙ্গীত প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। বাংলা সঙ্গীতের এই ঐতিহ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই ভারতের আঞ্চলিক সঙ্গীতের ক্ষেত্রে আমাদের উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করার জন্য এসভিএফ-ই এই পদক্ষেপ করেছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলা শিল্পী এবং তাঁদের সৃষ্টিকে বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নতুন পথ তৈরি হবে।”
কী বললেন কর্ণধার মহেন্দ্র সোনি। ছবি: সংগৃহীত।
অন্য দিকে, প্রযোজক মহেন্দ্র সোনি বলেন, “গত তিন দশক ধরে বাংলা শিল্পী, সঙ্গীত এবং গল্প বলার পরিসরকে শক্তিশালী করার কাজ করে চলেছে এসভিএফ। বর্তমানে আঞ্চলিক সঙ্গীত, ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছোচ্ছে। ওয়ার্নার মিউজিক ইন্ডিয়ার সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলা সঙ্গীতকে আরও বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ এনে দেবে। একই সঙ্গে শিল্পী ও তাঁদের সৃষ্টিকে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সহযোগিতা বাংলা সঙ্গীতশিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলা গানের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রসার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।