প্র: একতা কপূরের সঙ্গে তো আবার কাজ করছেন। মান-অভিমান মিটে গিয়েছে তা হলে?

উ: একতা কপূর সব সময়ে আমার সেরাটা বার করে নিতে পারে। ‘কোল্ড লস্যি অওর চিকেন মসালা’ সিরিজ়ের অফারটা একতাই নিয়ে আসে আমার কাছে। ফ্যানেরা এ বার একদম অন্য রকম ভাবে পেতে চলেছেন আমায় আর দিব্যাঙ্কাকে (ত্রিপাঠী)। আমারও অনেক দিন পর কাজ করে খুব ভাল লাগল একতার সঙ্গে। আর যদি কোনও ফাঁক থেকেও থাকে, সেটা পূরণ করে দিয়েছেন পরিচালক প্রদীপ সরকার।

প্র: ভক্তদের অভিযোগ, আপনাকে পর্দায় কমই দেখা যায়!

উ: হ্যাঁ, এটা গত ১৫ বছর ধরে শুনে আসছি! আসলে আমার চাহিদা খুব কম। কাজের বাইরে তাই আমার দেখা পাওয়া মুশকিল। কারণ কাজ না থাকলেই বেড়াতে চলে যাই। মঞ্জরীও (স্ত্রী) থাকে সঙ্গে। গোয়াতে একটা বাড়ি আছে আমার। সেখানে একটা বাগানও করেছি। সদ্য নরওয়ে-ফিনল্যান্ড থেকে ঘুরে এলাম। কাজ আর বেড়ানোর ফাঁকে সময় পেলে গিটার বাজাই। এর বাইরে আমাকে কোথাও দেখতে পাবেন না (হাসি)!

প্র: অনেক মাধ্যমে কাজ করলেও আপনার ফ্যানবেস তৈরি হয়েছিল টেলিভিশন থেকেই। এখন সেটা ছেড়েই দিয়েছেন প্রায়...

উ: না, টেলিভিশন ছেড়ে দিয়েছি বললে ভুল হবে। ভাল প্রজেক্ট পেলে কেন করব না? ‘রিপোর্টার্স’-এর মতো শো করে অনেক কিছু শিখেছিলাম। কেরিয়ারের একদম শুরুতে ‘কহিঁ তো হোগা’ কিংবা ‘লেফট রাইট লেফট’-এর মাধ্যমে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলাম, তার জন্য আমি দর্শক এবং সেই সব শোয়ের পরিচালকদের কাছে আজও কৃতজ্ঞ। এখনও টেলিভিশনের অফার আসে মাঝেমধ্যেই। কিন্তু দীর্ঘ দিনের শিডিউলে নিজেকে বেঁধে ফেলতে পারব না বলেই কমিট করি না।

প্র: ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র অভিনেতা আপনি। নিজের লুক একই রকম ভাবে ধরে রেখেছেন কী করে?

উ: এর মানে হল, নিজের জন্য ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি আমি (হাসি)! এটা ঠিক, দর্শক আমাকে দেখতে ভালবাসেন এখনও। দেখুন, আমি কোনও বিউটি ট্রিটমেন্ট করাই না, ডিজ়াইনার পোশাকও পরি না। আমার স্ত্রী-ও আমাকে সারাক্ষণ বলে এ সব নিয়ে, কিন্তু শুনি না। ‘এয়ারপোর্ট লুক’ আবার কী? যখন যা পরতে ইচ্ছে করে, পরি। ভিআইপি লাইনেও দাঁড়াই না, সিকিওরিটি নিয়েও ঘুরি না। অবশ্য মহিলা ফ্যানেরা ঘিরে ধরলে ভালই  লাগে (হাসি)। মেয়েদের সঙ্গে হাত মেলাতে কার না ভাল লাগে! নিজেকে সেলেব্রিটি বলে জাহির করতে পছন্দ করি না। এ ভাবেই তো এত দিন টিকে গেলাম।

প্র: ‘কোল্ড লস্যি...’ সিরিজ়ে শেফের চরিত্রে আপনি। বাড়িতে নিজে রান্নাবান্না করেন?

উ: মঞ্জরীর জন্য প্রত্যেক দিন সকালে চা বানাই। অন্য সময়েও কিছু না কিছু রান্না করতেই থাকি। তবে ও জানে, আমার রান্নার কোনও রেসিপি নেই। পুরোটাই এক্সপেরিমেন্টাল!