আইএসসি-তে ৯৮ শতাংশ পাওয়া যাদবপুরের ইংরিজি পড়া ছাত্র হঠাৎ সিনেমায়?

জানি, এই প্রশ্ন খুব স্বাভাবিক। আসলে আমি যখন আইএসসি দিচ্ছি, উন্ডোজ থেকে ডাক এসেছিল। শিবুদা ২০১৩-য় আমার নাটক দেখে বলেছিল, চার বছর পর তোকে নিয়ে ছবি করব। কীভাবে হিসেব করে দিন মিলিয়ে কথা রেখেছে! তো আমাকে যখন এরকম একটা চরিত্র অফার করা হয় তখন বাবা-মাকে এসে বলি। বাবা-মা খুব খুশি হয়েছিল। কিন্তু সিদ্ধান্তটা আমার ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। আমি ভাবলাম করেই দেখি।

 

তাহলে পরের ছবি কী?

এই রে! ‘রসগোল্লা’র মতো ছবিতে কাজ করলাম। ট্রেলার এক দিনে এক নম্বর ট্রেন্ডিং! মানে সারা বিশ্বের লোক আমাদের দেখছে! আরিব্বাস! দারুণ ব্যাপার। কিন্তু তারপর? নাহ...আমি যে বাড়ির ছেলে সেই বাড়ি থেকে শিখেছি ছবিতে কাজ করার কত ঝুঁকি। আমার বড় হওয়ার মধ্যে এই ভাবনাটা চলে এসেছিল যে ফ্রিলান্স করা মানে কোনও রকম এক্সপেক্টেশন না রেখে প্রচুর খাটনি। তাই আমি এখন থেকে শুধুই সিনেমা করব এরকম নয়।

 

তাহলে কী করবেন?

দেখুন, আজকের প্রজন্ম সম্পর্কে একটা কথা খুব বলা হয় যে তারা খুব ‘ফাস্ট’। যেটা কম বলা হয় সেটা হল তারা মাল্টিটাস্কার। আমার মায়ের জন্য, আমার শিক্ষিকাদের জন্য আমি ছোটবেলা থেকে কুইজ করতে পারি, ‘মান’ (মডেল ইউনাইটেড নেশনস)-এ অংশ নিই,গিটার বাজাই, গান লিখি, নাটক করি,লেখালেখি করি, ছবি আঁকি। এই স্পেসগুলো আমার আছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি কেবল ছবি এঁকে যাব বা শুধু গায়ক হয়ে যাব। সংসারের দিকে দেখব না। আমি আমার ভবিষ্যতের পরিবার, আজকের পরিবারের জন্য আগে অর্থনৈতিক ভাবে স্থায়ী একটা জায়গা করতে চাই, তারপর সব।

 

এই স্থায়ী জায়গাটা কী অধ্যাপনা?

আগে বিদেশে পড়াশোনা। তার পর অধ্যাপনা।

(ইতিহাসের পাতায় আজকের তারিখ, দেখতে ক্লিক করুন — ফিরে দেখা এই দিন।)

 

কিন্তু আজ ‘রসগোল্লা’-কে ঘিরে আপনার যে ক্রেজ তৈরি হচ্ছে সেটা আপনার অধ্যাপক হয়ে ওঠা অবধি থাকবে তো?

দেখুন বাইশ-তেইশে ছবি করে আবার আঠাশে ফিরে আমি নতুন করে শুরু করতেই পারি। কোনও অসুবিধে নেই।

আরও পড়ুন: বাঙালির ‘রসগোল্লা’ ওড়িশায়!

অসুবিধে নেই কারণ আপনি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে...

শুনুন, বাবা যেদিন ‘রসগোল্লা’র ট্রেলর দেখে সেদিন ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিল।বলেছিল আমার জন্ম থেকেই আমায় পরদায় দেখার স্বপ্ন বাবার মনের মধ্যে ছিল।কিন্তু ছবি করতে হবেই বলে বাবা আমায় মানুষ করেনি। আর আমি চাইলে বাবার ছবিতেও প্রথম অভিনয় করতে পারতাম। সেটা তো করিনি।

 

কিন্তু আপনি এই বয়সে এত চমৎকার কথা বলছেন, জীবন সম্পর্কে এত স্বচ্ছ ধারণা। এটা তো বাড়ির গুণেই...

হ্যাঁ। আমাদের বাড়ি একটা কলেজ ফেস্টের মতো। হয়তো এক দিনেই ছ’টা গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। অনেক সৃষ্টশীল মানুষকে এক সঙ্গে দেখতে দেখতে বড় হওয়া। তার মানে এই নয় যে বাড়িতে সারাক্ষণ মা অভিনয় করে চলেছে, বাবা স্ক্রিপ্ট লিখছে। সাধারণ পরিবারে যেমন হয় তেমনভাবেই বড় হয়েছি। আর স্ট্রাগলও দেখেছি।

রসগোল্লা ছবির একটি দৃশ্যে উজান এবং অবন্তিকা।

কীরকম স্ট্রাগল?

আমাদের বাড়ি গড়িয়ায়। এক সময় যখন খুব পাওয়ার কাট হত তখন বেশিরভাগ বাড়িতে জেনারেটার থাকলেও আমাদের বাড়িতে ছিল না। আমি চাইনিজ খেতে খুব ভালবাসি। তখন চাইলেই পেতাম না। আজ নিজে অর্ডার করতে পারি। তবে এই স্ট্রাগলটা আমায় বাস্তববাদী করে তুলেছে।

 

আপনার সমসাময়িক ঋদ্ধি, ঋতব্রত এরা কিন্তু এখন থেকেই অভিনয়ে চলে এসেছে।

হ্যাটস্ অফ টু দেম। ওদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে গেছে যে ওরা অভিনয় নিয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন: মুক্তির পরেই হিট ‘রসগোল্লা’র ট্রেলার

প্রেমের ক্ষেত্রে আপনার আত্মবিশ্বাস কতটা? শোনা যাচ্ছে ‘রসগোল্লা’য় প্রেমের দৃশ্যে অবন্তিকার সঙ্গে আপনি নাকি দারুণ শট দিয়েছেন?

দাদা-বোন থেকে প্রেমিক-প্রেমিকায় উত্তরণ— এটা খুব শক্ত কাজ। আমরা স্বাভাবিকভাবে করেছি। পাভেলদা অনেকটা সাহায্য করেছিল, তা না হলে হত না। তার পর দর্শকরা যা বলবেন।

 

সে তো বুঝলাম। কিন্তু এত সুন্দর প্রেমের দৃশ্য করলেন, আপনার প্রেমটা কেমন?

আমি সিঙ্গল।

 

সে কী! স্কুলে প্রেম হয়নি?

আসলে প্রেম কখনও আসে যায়, কখনও আজীবনের, এটা এক কথায় ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে আমাদের প্রজন্ম প্রেমের জন্য অপেক্ষা করতে জানে।

 

প্রিমিয়ারে ডেট-টা কার সঙ্গে হবে?

একদিকে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় বসবে, আর এক দিকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। মাঝখানে নবীনচন্দ্র দাস। দু’জনের এক্সপ্রেশন দেখব। আর সারা রাত মায়ের সঙ্গে কাজ নিয়ে কথা বলব। ব্যস!

(সেলেব্রিটি ইন্টারভিউ, সেলেব্রিটিদের লাভস্টোরি, তারকাদের বিয়ে, তারকাদের জন্মদিন থেকে স্টার কিডসদের খবর - সমস্তসেলেব্রিটি গসিপপড়তে চোখ রাখুন আমাদেরবিনোদনবিভাগে।)