বাস্তবে দুর্গাপুজো শেষ। কিন্তু কোনও কোনও ধারাবাহিকে এখনও চলছে দুর্গাকে ঘিরে গল্পের উৎসব। আর উৎসবের মরসুমেই‘কৃষ্ণকলি’ ধারাবাহিকের নায়িকা শ্যামা এক নতুন সমস্যার মুখোমুখি।কী এমন সমস্যা হল শ্যামার? এদিকে শ্যামার চরিত্রে তিয়াসা রায়ের জীবনেও এল এক চমকে দেওয়া উপহার। কী সেই উপহার?

তিয়াসা শেয়ার করলেন ধারাবাহিকের কাহিনি, “হয়েছে কি, দুর্গাপ্রতিমাকে সাজানো হবে সোনার গয়নায়। সমস্ত প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু মাঝখান থেকে সেই গয়না চুরি হয়ে গিয়েছে। ছন্দ কেটে গিয়েছে উৎসবের। শ্যামা কি পারবে সেই গয়না উদ্ধার করে নির্বিঘ্নে পুজো শেষ করতে? নাকি শ্যামাই পড়ে যাবে বিপদে?” এর বেশি ভাঙতে চাইলেন না তিয়াসা। তাই উত্তর এখনও অজানা। এই নিয়েই‘কৃষ্ণকলি’-তেচলছে টানটান উত্তেজনা।

যদিও তিয়াসার জীবনে এইসব উত্তেজনার ছিটেফোঁটাও নেই। বরং তাঁর জন্য নতুন নতুন চমক। তিনি উপহার পেয়েছেন একটি গিটার। হ্যাঁ,একাদশীর দিন দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে গিটার উপহার পেয়ে চমকে গিয়েছেন তিনি। কে দিল সেই উপহার? তিয়াসা অভিভূত, “আমার তো শো ছিল। শো থেকে অনেক রাতে গোবরডাঙা ফিরেছি। ফিরেই দেখি বন্ধুরা! সবাই মিলে পাড়ার মণ্ডপে দুর্গাঠাকুরের সামনে কেক কাটা হল, মজা করা হল। তারপর দেখি সুবান আমার জন্য গিটার এনেছে! খুব খুশি হয়েছি।”

কৃষ্ণকলির সাজে তিয়াসা

গিটার বাজাচ্ছেন তাহলে? তিয়াসা হাসলেন, “না। জানি না তো। তবু একা একা টুংটাং করছি। গিটার উপহার পেলে টুংটাং তো করতেই হবে, তাই না?” হঠাৎ গিটার উপহার পেলেন কেন? তিয়াসা খুশি মনে উত্তর দিলেন, “আসলে আমি কখনও গিটার শিখব বলে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলাম। সুবান মনে রেখেছে। ওকে থ্যাঙ্কস।”

আরও পড়ুন- ‘স্বপ্নের মতো বিয়ে’, সাত পাকে বাঁধা পড়লেন টেলি দুনিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী

সুবান রায় ‘এক যে ছিল খোকা’ ধারাবাহিকে শরিফ নামের এক ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করছেন। অন্য রকম এই চরিত্র করে মজাও পাচ্ছেন বলে জানালেন। তিনি তিয়াসার কথার সূত্র ধরে যোগ করলেন, “তিয়াসার ইচ্ছেগুলোকে আমি একটা একটা করে পূরণ করতে চাই। কিন্তু কাজকর্ম মিলিয়ে সবকিছু সব সময় করা হয়ে ওঠে না। ওর জন্মদিনে দেব ভেবেও গিটার কিনে উঠতে পারিনি। সেজন্যই বিবাহবার্ষিকীতে দিলাম। আমার ভায়োলিন বাজানোর শখ ছিল। হয়ে ওঠেনি। তাছাড়া ভায়োলিন শেখা খুব কমপ্লিকেটেডও। তিয়াসার গিটার বাজানোর ইচ্ছা জেনে মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম ওকে সারপ্রাইজ দেব। দিয়ে দিলাম।” হাসলেন তিনি।

তিয়াসা কী উপহার দিল? সুবান হাসলেন, “ও নিজে তো শো নিয়ে ব্যস্ত ছিল দশমীর দিন। কিন্তু বন্ধুদের বলে ঠিক কেক-টেক আনিয়ে একটা উৎসবের আয়োজনই করে রেখেছিল। সেটা আবার আমি জানতাম না। রাত তখন দুটো-আড়াইটে হবে। পাড়ার পুজো প্যান্ডেলের সামনেই আমরা সেলিব্রেট করলাম। কী হল জানেন? ওর আয়োজনে আমি এত অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম যে ভুলেই গিয়েছিলাম ওর জন্য গিটার রাখা আছে। সবাই যখন ভাবছে সেলিব্রেশন শেষ হয়ে গিয়েছে,আমি সবাইকে অপেক্ষা করতে বলে গাড়ি থেকে গিটার এনে তিয়াসাকে দিলাম।”

সুবান আশাবাদী, “তিয়াসা গিটার বাজাতে পারে না। কিন্তু ইচ্ছে যখন আছে, আমার মনে হয় রোজ চর্চা করলে মাস ছ’য়েকের মধ্যে শিখে যাবে। আমি সিওর, রোজ যদি কিছুক্ষণ গিটার নিয়ে বসে, সামনের বছরের অ্যানিভার্সারিতে ও গিটার বাজিয়ে গান শোনাবে।” পরের বছরের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা যেন এ বছরেই করে ফেললেন তিনি।

আপনার হেল্প ছাড়া তিয়াসা নাকি শাড়ি পরতে পারে না? সুবান হাসলেন, “হ্যাঁ। আমিও বিরক্ত হতাম। মানে শাড়ির কুঁচি ও কী ভাবে ধরছে আর আমি কীভাবে গোচ্ছাচ্ছি সব গোলমাল হয়ে যেত। আমার কী রকম একটা লাগত। বলতাম, ‘পারছি না। তুমি করে নাও।’ কিন্তু এ বছর পুজোয় শাড়ি পরতে আমাকে ডাকলই না! সব একা একা পরল, তা-ও আবার এক এক দিন এক এক রকম স্টাইল করে। শাড়ি পরার বিষয়ে ম্যাচিয়োরড হয়ে গিয়েছে বোধহয়। বুঝলেন? হা হা হা...”

এ বার পুজোতেও কি দু’জনে ম্যাচিং করে পোশাক পরলেন? সুবান বললেন, “না। প্রত্যেকবার ম্যাচিং করে পরি। তাই এবার কনট্রাস্ট কালারে গিয়েছি।”

আরও পড়ুন- ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ জামা খুলে গান! লজ্জায় মুখ ঢাকলেন নেহা

তিয়াসাও যোগ করলেন, “এবার পোশাকের বিষয়ে একটু আলাদা প্ল্যান হয়ে ভালই হয়েছে। বাড়ির সবার সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে দারুণ কাটিয়েছি। আমার বাড়িতেও গিয়েছি একদিন সুবানকে নিয়ে। খুব খেয়েছি। বেড়াতে যাওয়ার কথা বলছিল সুবান। আমি রাজি হইনি। বছরের এই একটা সময়েই ছুটি পাই। বাড়ির মানুষদের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েই বেশি আনন্দ হয়।”

তিয়াসা ও সুবানের রসায়ন এখনও অটুট। তিয়াসা হয়তো খুব শিগগির গিটারে সুর তুলবেন সুবানের জন্য।