রবিবাসরীয় সন্ধ্যা। ভারতীয় ঘড়িতে তখন ৮টা ৫০ মিনিট। আটলান্টায় সকাল। কিছু ক্ষণ আগে ঘুম থেকে উঠেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তী। গত নভেম্বরে আইটি সেক্টরে কর্মরত সুজিত বসুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তাঁর। তার পর থেকেই অভিনেত্রী আমেরিকার বাসিন্দা।
বিদেশে বিয়ে। এই প্রথম নিজের শহর ছেড়ে প্রবাসে প্রেমের সপ্তাহের উদ্যাপন। কেমন কাটল দিনগুলো?
অভিনেত্রীর কণ্ঠস্বরে তখনও ঘুমের আবেশ জড়ানো। প্রশ্ন শুনে তাতে বুঝি ভাললাগার প্রলেপ। তনুশ্রী বললেন, “খুব ভাল কেটেছে। আমি খুব ফুল ভালবাসি। সুজিত জানে। এখানে কারণে-অকারণেই ফুল উপহার দেওয়া হয়। মিষ্টি গোলাপি রঙের একগুচ্ছ গোলাপ এনেছিল। আর দিয়েছিল লাল গোলাপ। সে সব দিয়ে সুন্দর করে ঘর সাজালাম।” সুজিত প্রায়ই তাঁকে ফুল উপহার দেন।
ব্যস, এটুকুই? আর কোনও উপহার নেই? টেডি, চকোলেট কিংবা ‘চুম্বন দিবস’ উপলক্ষে বিশেষ কিছু?
হাসি আর কপট রাগে ফোনের ও পারেই রাঙা তনুশ্রী। সাফ জানালেন, ব্যক্তিগত ঘটনা ব্যক্তিগত রাখতেই ভালবাসেন তিনি। তবে উপহারের কথা বলতেই পারেন। গোলাপ ছাড়াও পেয়েছেন একটি গ্রিটিংস কার্ড। তাতে নিজে হাতে ভালবাসার কথা স্ত্রীকে লিখে জানিয়েছেন সুজিত। আর ‘ভ্যালেনটাইন্স ট্রি’। “‘টেডি ডে’-তে সুজিত সকালের জলখাবারে চমকে দিয়েছিল! যত্ন নিয়ে বানানো চকোলেটের টেডি মুজ়! দেখে এত ভাল লাগল যে, বাড়িতে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিয়ো কল করি। আমার একরত্তি বোনঝি ফোনের ও পারে লাফাচ্ছে। সঙ্গে বায়না, ‘ভ্যালেনটাইন্স ডে’তে ওরও এ রকমই উপহার চাই সুজিতের থেকে, তখনই!”
প্রেমের মাস, প্রেমের সপ্তাহে বিদেশ খুব সেজে ওঠে? পথে পথে যুগলের ভিড়? বিকিকিনিও কি চলে সমান তালে ভারতের মতো?
উপহারে ফুলের তোড়া, গ্রিটিংস কার্ড। ছবি: সংগৃহীত।
সে রকম মোটেই ঘটে না, জানালেন তনুশ্রী। যোগ করলেন, “এখানে প্রত্যেকটি উদ্যাপন খুব সুন্দর ভাবে উদ্যাপিত হয়। পথে বেরোন মানুষ। কেনাকাটাও করেন। দোকানে দোকানে ভিড় দেখা যায়। আর দেদার বিকোয় ফুল। বিদেশিরা কেবল ফুল দেওয়ার ছুতো খোঁজে! তবে বাড়তি কোনও উচ্ছ্বাস নেই ভারতের মতো।” আটলান্টার আবহাওয়াতেও প্রেমের মরশুম! বাতাসে বরফকুচি আর আলতো ঠান্ডায় জমজমাট ভালবাসা।
নিজের দেশের দেখে আসা উদ্যাপন নিয়ে অভিনেত্রীর মত, “কোনও দিন কারও সঙ্গে প্রেমের দিন কাটাইনি। কিন্তু নানা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছি। দুই দেশের মধ্যে উদ্যাপনের ধরনটাই আলাদা।” এখানে কাজের শেষে সুজিত তাঁকে নিয়ে বিশেষ দিনগুলোয় কোনও না কোনও রেস্তরাঁয় নৈশভোজ সেরেছেন। তিনিও নানা ধরনের পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছেন সেই দিনগুলোয়।
আগে প্রেম পরে বিয়ে, না কি বিয়ের পরে প্রেম— কোনটা আকর্ষণীয়? নিজের শহরে, নিজের দেশে কবে ফিরবেন তনুশ্রী?
প্রেম দিবসে তনুশ্রী আর সুজিত। ছবি: সংগৃহীত।
একটু ভেবে এ বার জবাব দিলেন নায়িকা। বললেন, “এখন মনে হচ্ছে, বিয়ের পরে প্রেমটাই যেন বেশি উপভোগ্য। যদিও সুজিতকে বিয়ের আগে থেকেই চিনতাম। ওর সঙ্গে ‘কোর্টশিপ’ও করেছি।” দেশের জন্য, কলকাতার জন্য মনকেমন তাঁরও। কিন্তু ‘হুট’ বললেই কি সংসার ছেড়ে যাওয়া যায়! তনুশ্রী আপাতত তাই ঘোর সংসারী। বিদেশে বসেই পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করছেন।