সৌরভ দাস নাকি একটা সময় প্রচণ্ড জেদি ছিলেন? একেবারেই ‘সরি’ বলতে পারতেন না! সাত বছরের দাম্পত্য অভিনেতাকে অনেক বদলে দিয়েছে। অভিনেত্রী স্ত্রী দর্শনা বণিক তাঁকে ‘দায়িত্ববান’ তকমা দিয়েছেন! কোন জাদুকাঠি বদলে দিল তাঁকে?
সৌরভের সঙ্গে সম্প্রতি আড্ডা জমিয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজকও। পেশাদুনিয়ায় দায়িত্ব বেড়েছে তাঁর। ক্রমশ বদলাচ্ছে বাংলা বিনোদনদুনিয়াও। সেই নিরিখে সৌরভ কতটা বদলালেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে মৃদু হাসি। তার পর অকপট অভিনেতা-প্রযোজক। বললেন, “আগে আমি ‘সরি’ বলতে পারতাম না! যে ভুল আমি করিনি তার জন্য ক্ষমা চাইতাম না। সেটা সরিয়ে রেখেছি। এখন কিছু করার আগেই ‘সরি’ বলি। ‘খেলা’ ওখানেই শেষ।”
সৌরভের দাবি, তিনি আগের তুলনায় এখন অনেকটাই পরিণত। আসলে, সাত বছর কাউকে বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট, দাবি তাঁর। যেমন, এই সাত বছরে সৌরভ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে শিখেছেন। তিনি এখন মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে ধরে ফেলতে পারেন, মানুষটি তাঁকে সত্যি বলছে, না কি মিথ্যা? তিনি শিখেছেন, জুতোর পাশাপাশি ‘ইগো’ও সরিয়ে রেখে ঘরে ঢুকতে হয়।
সৌরভের এই পরিবর্তনের পিছনে যে দর্শনা, সে কথাও জানিয়েছেন সোজাসুজি। নিজের অভিনেত্রী স্ত্রী সম্পর্কে কি বক্তব্য তাঁর? অভিনেতার মতে, দর্শনাকে যাঁরা চেনেন তাঁরা জানেন, তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রী খুব দয়ালু। দর্শনা যে ভাবে জীবনযাপন করেন সেটিও শিক্ষণীয়। অভিনেতার দাবি, “দর্শনা খুবই নিষ্পাপ। সেটা বললে আবার ও রেগে যায়! রেগে গিয়ে বলে, ‘না, আমি চালাক’।” অভিনেতা মনে করেন, যে কোনও মানুষের মধ্যে থাকা এই ছোট ছোট অনুভূতিই বাঁচিয়ে রাখতে হয়। তিনিও আপ্রাণ সেই চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, এ-ও জানিয়েছেন, দর্শনা সৌরভকে আগেও দেখেছেন। তাই তাঁর চোখে অভিনেতা স্বামীর পরিবর্তন সকলের আগে ধরা পড়েছে। ইদানীং তাই একাধিক সাক্ষাৎকারে দর্শনা সৌরভকে ‘দায়িত্ববান’ বলেছেন। সে কথা কানে আসতেই ছেলেমানুষের মতো খুশি অভিনেতা। বলেছেন, “আমি চাই, এই কথাটা দর্শনা সারা জীবন আমার সম্পর্কে বলুক।”
তবে সাত বছরে সৌরভ একা বদলাননি। বদলেছেন দর্শনাও! অন্তত অভিনেতা স্বামীর তো তেমনই দাবি। সেই বদলের উদাহরণও দিয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি সিরিজ় ‘মন্টু পাইলট’-এর তৃতীয় সিজ়নের শুটিং করছেন। “চরিত্রটা ভীষণ ধূসর। মন্টুকে ধারণ করতে গিয়ে সাময়িক বদলে যাই। তাই দর্শনাকে বলেছিলাম, ও যদি কয়েকটা দিন ওর বাবার কাছে গিয়ে থাকে। দর্শনা কিন্তু বুঝেছে। আমায় স্পেস দিয়েছে।”
গত সাত বছর ধরে যে রসায়ন তাঁদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে, সেই রসায়ন অটুট রাখতে আর কী করেন সৌরভ-দর্শনা? অভিনেতার টোটকা পেশাদুনিয়ার সমস্যা তিনি অন্দরে আনেন না। টলিপাড়ায় ইদানীং নানা সমস্যা। সে সব কথা ওঠে? তখনই সৌরভ বলেন, “সারা দিন আমরা যেটা করি সেটা বেডরুমে ঢোকাই না।” অভিনেতার কথায়, “আমরা বাড়িতে কাজ নিয়ে আলোচনা করি না। সারা দিন যা করছি সেটা নিয়েও কথা বলি না। কাজের কথা বেডরুমে নিয়ে যাই না। ওখানে আমাদের গল্প হয়। একে অপরের কোনও পরামর্শের প্রয়োজন হলে অবশ্যই সেটা দিয়ে থাকি।”