‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ থেকে শুরু করে ‘কহানি’— হিন্দি ছবির জগতে ‘ছোট’ অর্থাৎ স্বল্পদৈর্ঘ্যের চরিত্রে অভিনয় করেই এক সময় দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন নওয়াজ়উদ্দীন সিদ্দীকী। পড়াশোনা করেছেন ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা (এনএসডি) থেকে। অভিনেতা নিজেই জানিয়েছেন, একটা সময় চরম অর্থকষ্টে দিন কাটিয়েছেন। গোটা দিনে খাবার জোটেনি, এমনও দিন কেটেছে তাঁর। তবু যেন বার বার এনএসডি-র দিনগুলিতে ফিরে যান নওয়াজ়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এনএসডি-তে এক বার দোলের উৎসবে ভাং খেয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তার পর পাঁচ ঘণ্টা কী এমন ঘটে যায় তাঁর জীবনে?
অভিনেতা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, এনএসডি-তে দোলের দিনে বিশেষ ধরনের পানীয় খাওয়ার চল রয়েছে। তেমনই ঠান্ডা পানীয় খেয়ে নিজেকে অশ্বথামা মনে হচ্ছিল অভিনেতার। নওয়াজ় বলেন, ‘‘আসলে প্রথম বার যখন আমি ভাং খাই খুব ভাল লেগেছিল। যার ফলে বার বার খেতেই থাকি। প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। তার পর আমার সতীর্থেরা আরও একটু খেতে বলে। তার পরই আমি কল্পনা করতে শুরু করলাম যে, আমার হাতে তির-ধনুক রয়েছে। গাছে উঠছি, দেওয়ালে লাফ দিচ্ছি এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটানা অভিনয় করে চলেছি।”
ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। সে দিনের ভাং খাওয়ার প্রভাব আরও তিন ঘণ্টা ধরে চলে। নওয়াজউদ্দীন নিশ্চিত হয়ে যান, তাঁর চারপাশ ঘিরে আঁকা রয়েছে একটি বৃত্ত যার বাইরে পা রাখলেই তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে! নওয়াজ়ের কথায়, “পাঁচ ঘণ্টা পর যখন আমি অবশেষে গাছ থেকে নামলাম, তখন কেউ এক জন আমাকে ঘিরে একটি বৃত্ত এঁকে সতর্ক করে দিল যে, আমি বাইরে পা রাখলেই আমার কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে। আমি সেই ভয়ে সেখানে তিন ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যখন লোকজন আমাকে সরে যেতে বলল, আমি বললাম, ‘আপনারা কি আমার কেরিয়ার ধ্বংস করতে চান?’ ব্যাপারটা এতটাই তীব্র ছিল।” ওই ঘটনার পর আর কখনও ওই পানীয় খাওয়ার সাহস করেননি অভিনেতা।